ডাক্তারদের চেম্বারে গুণ্ডাবাহিনীর হানা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৩:২৭ পিএম, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, রবিবার
ডাক্তারদের চেম্বারে গুণ্ডাবাহিনীর হানা

ডাক্তারদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাচনে ভোট গণনার সময়ে বিশৃঙ্খলাকারীদের প্রতি হুশিয়ারি দিয়েছেন নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ডা. দেবাশীষ সাহা। তিনি বলেছেন, ‘বিএমএ নির্বাচনে যারা হট্টগোল করেছেন। তারা নির্বাচনের আগেও বিভিন্নভাবে আমাদের ভয় ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করেছেন। যার সমস্ত তথ্য প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। শুধুমাত্র কারো সাথে বিরোধীতায় যেতে চাই না বলে আমরা কোনো অ্যাকশনে যাইনি। কিন্তু পরবর্তীতে তারা আবারো কোনো কিছু ঘটানোর চেষ্টা করলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নিতে বাধ্য হবো।’

শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিএমএ নারায়ণগঞ্জ জেলার নব নির্বাচিত কমিটি নিয়ে শহরের দুই নং রেল গেটস্থ নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন শেষে নিউজ নারায়ণগঞ্জের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে ৬ সেপ্টেম্বর ভোট চলাকালে ঘটে যাওয়া দুই গ্রুপের মারামারি ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘যারা সেদিন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছেন বা সৃষ্টি করেছেন তারা কখনও চায়নি নির্বাচন হোক। তারা সিলেকশন পদ্ধতিতে হাঁটতে চেয়েছিল। কারণ তারা যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছে এবং নির্বাচন হলে তাদের ভরাডুবি হতে পারে তা তারা প্রথম থেকেই আঁচ করতে পেরেছিল। যা ঘটেছে তা আমরা মনে পুষে রাখতে চাই না। আমাদের একটা শিক্ষা আছে পাপকে ঘৃণা করো, পাপীকে নয়। আমরা সকলেই মূলত একই পেশায় কর্মরত। তাই চাইনা নিজেদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হোক। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক অপ্রত্যাশিত ঘটনাই ঘটে যেতে পারে। তবে সে সকল ঘটনা ভুলে গিয়ে আমরা একসাথে থাকতে চাই।’

ডাক্তারদের কয়েকজন জানিয়েছে, প্রথম থেকেই নির্বাচন পদ্ধতিতে না এসে বিগত বছরের মত সিলেকশন প্রক্রিয়ায় বিএমএ এর নারায়ণগঞ্জ জেলার কমিটি চেয়ে আসছিলেন পরাজিত প্যানেলের (আতিকুজ্জামান সোহেল ও নিজাম আলী) অধিকাংশ প্রার্থীরা। যেখানে অভিজ্ঞতা, বয়স এবং অন্তরালের আরও কয়েটটি বিবেচনায় তারা এগিয়ে ছিলেন। পক্ষান্তরে অনেকটা জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে সংশয় ছিলো ওই প্যানেলের। বলা যায় এসব কিছুর ফল সরূপ ৬ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে জয় পায়নি উক্ত প্যানেলের কেউ। আর পরাজয় নিশ্চিত টের পেয়েই নির্বাচনের ভোট গণনা চলাকালীন সময়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালায় তারা।

সূত্রমতে, ডা. চৌধুরী ইকবাল বাহার ও দেবাশীষ সাহা প্যানেলের কঠোর অবস্থানের কারণেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আসতে বাধ্য হয়েছে সোহেল-নিজাম প্যানেল। যে বিষয়টি সহজভাবে নিতে পারেননি ওই প্যানেলের কেউ। আর তাই ডা. দেবাশীষ সাহা সহ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সমর্থিত প্যানেলে অনেকের চেম্বারেই পাঠানো হয়েছে ভাড়াটে গুন্ডা বাহিনী। যাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ইকবাল-দেবাশীষ প্যানেলকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়া। আর এ সকল ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে ডা. দেবাশীষ সাহার কাছে। যে বিষয়টিকে ইঙ্গিতে উল্লেখ করে হুশিয়ারী দিয়েছেন ডা. দেবাশীষ সাহা।

উল্লেখ্য ৬ সেপ্টেম্বর বিএমএ নির্বাচনে দিনব্যাপী ভোটগ্রহণে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেও রাত ১১টায় গণনা চলাকালে ডা. অলোক কুমার সাহা ভোট গণনা কক্ষের জানালার সামনে আসেন এবং হৈ চৈ করতে শুরু করেন। এ সময় তিনি বলেন, ভিতরে ভোট গণনা নিয়ে চাতুরি হচ্ছে, তিনি বাধা দেওয়ায় তাকে অপমান করা হচ্ছে। তার এমন কথার পর থেকেই শুরু হয় হট্টগোল। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ইকবাল-দেবাশীষ প্যানেলের উপর চরাও হয় ডা. আতিকুজ্জামান সোহেল। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। ওই হামলার নেতৃত্বে ছিলেন শহরের দেওভোগ এলাকার সাগর সহ আরো কয়েকজন যারা মূলত মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাতের অনুগামী হিসেবে পরিচিত।

নির্বাচনে ইকবাল বাহার ও দেবাশীষের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের প্যানেল অংশ নেয়। বিপরীতে আতিকুজ্জামান সোহেল সহ সভাপতি ও নিজাম আলীকে সেক্রেটারী প্রার্থী করে ২২ সদস্যের প্যানেল দেওয়া হয়। আর সাবেক সভাপতি ডা. শাহনেওয়াজ এককভাবে সভাপতি প্রার্থী হলেও তিনি পরোক্ষভাবে ওই প্যানেলের অধিভুক্ত ছিলেন।
নির্বাচনে ইকবাল বাহার ও দেবাশীষের নেতৃত্বাধীন পুরো প্যানেল জয়ী হয়। ৩৮৭ ভোটের মধ্যে ৩১৫টি ভোট কাস্ট হয়। এর মধ্যে সভাপতি পদে ইকবাল বাহার পেয়েছেন ১৮৫ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বি ডা. শাহনেওয়াজ পেয়েছেন ১২৬ ভোট। সেক্রেটারী পদে দেবাশীষ সাহা পেয়েছেন ২১১ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বি নিজাম আলী পেয়েছেন ১০৪ ভোট।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
-->
newsnarayanganj24_address
সাক্ষাৎকার এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর