rabbhaban

আনোয়ার হোসেনের বিতর্কহীন ২ বছর


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০২:৩৪ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, বুধবার
আনোয়ার হোসেনের বিতর্কহীন ২ বছর

অনেকট নাটকীয়তার মধ্য দিয়েই নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হয়ে অসুস্থ অবস্থায় তিনি যখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তখন সেই হাসপাতালের শয্যাতে শুয়েই পেয়েছিলেন জেলা পরিষদে মনোনয়নের সুখবরটি। এরপর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়ে ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারী দায়িত্ব নেন জেলা পরিষদের। বুধবার ২৩ জানুয়ারী তার পথচলার ২ বছর পূর্ণ হতে চলেছে।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। মহানগর আওয়ামীলীগের বেশীরভাগ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাননি তিনি। এতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি হয়েছিলেন রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে। তিনি যখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তখন হাসপাতালের বেডে শুয়েই তিনি পেয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির সুখবরটি। দলের সেক্রেটারী ওবায়দুল কাদের মুঠোফোনের মাধ্যমে তাকে এই সুখবরটি দিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারী দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদে গত দুই বছরে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে ছিল ব্রীজ, ড্রেন, রাস্তা, ঘাটলা, কালভার্ট, বাউন্ডারী দেয়াল, গাইড দেয়াল, ল্যাট্রিন, স্কুল, মসজিদ, মাদরাসা, ঈদগাহ, কবরস্থান, মন্দির। এছাড়া বিভিন্ন স্কুল কলেজকে আসবাবপত্র প্রদান করা হয়েছে। গরীব অসহায় মানুষের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষে রিকশা ও ভ্যান বিতরণ, প্রতিবন্ধী অসহায় মানুষের মধ্যে হুইল চেয়ার, নারীদের প্রশিক্ষণ শেষে স্বাবলম্বী করার জন্য সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। বেকার যুবকদের স্বাবলম্বী করার জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও কম্পিউটার প্রদান করা হয়েছে। বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করতে সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া একাধিক ডাকবাংলো, বিজয়স্তম্ভ ও কলেজ নির্মাণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য আনোয়ার হোসেন ১৯৭২ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে রাজনীতিতে পদার্পন শুরু করেন। ওই সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৭৩ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্র সংসদের জিএস নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হলে নারায়ণগঞ্জে প্রথম প্রতিবাদ মিছিল করেছিলেন আনোয়ার হোসেন। নিয়মিত বঙ্গবন্ধুর বিচার দাবি তরান্বিত করতে গোপন বৈঠক করেছিলেন তিনি। দেয়াল লিখন চিকামারা কর্মসূচি সহ কেন্দ্র থেকে পাঠানো লিফলেট বিতরন করেছিলেন। একই বছর আনোয়ার হোসেনকে সেনাবাহিনী গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হন আনোয়ার হোসেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, রাজশাহী কারাগারেও রাখা হয়েছিল তাকে। টানা ১৪ মাস কারাভোগ করেছিলেন আনোয়ার হোসেন। ১৯৭৭ সালে আনোয়ার হোসেন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে রাজনীতিতে আবারো সক্রিয় হন। ১৯৭৮সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বেশকবার সদস্য, ট্রেজারার, সহ-সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন আনোয়ার হোসেন। ১৯৮৪সালে নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক ও সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনোয়ার হোসেন সভাপতি করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন করেছেন। এছাড়াও তিনি ১/১১ এর মত কঠিন সময়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের হাল ধরেছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর