rabbhaban

যা বললেন ত্বকীর বাবা মা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০১:৪০ পিএম, ০৬ মার্চ ২০১৯, বুধবার
যা বললেন ত্বকীর বাবা মা

তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটি জেলা শাখার আহবায়ক ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বির দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। সে শহরের চাষাঢ়ায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ছাত্র ছিল। ২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকেলে ত্বকী শহরের শায়েস্তাখান সড়কের বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। নিখোঁজের একদিন পর (৭ মার্চ) এ লেভেল পরীক্ষার রেজাল্টে পদার্থ বিজ্ঞানে ৩০০ নম্বরের মধ্যে ২৯৭ পেয়েছিল যা সারাদেশে সর্বোচ্চ। এছাড় সে ও লেভেল পরীক্ষাতেও সে পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন পরীক্ষাতে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিল। পরে ৮ মার্চ সকালে চাড়ারগোপে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ত্বকী হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে ৮জনই পলাতক। আর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ধেহে ৫জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে দুইজন আসামি ইউসুফ হোসেন লিটন ও সুলতান শওকত ভ্রমর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্তু এ হত্যাকান্ডের ৬ বছর অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত এ মামলার অভিযোগ পত্র দেয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেন, রাষ্ট্র যখন কোন ঘাতক বা অপরাধীদের পক্ষ নেয় তখন এটা কোন সভ্য রাষ্ট্র হতে পারে না। আমরা ৬ বছর ধরে একটা মামলা থমকে থাকে এরকম নজির খুব কম। সাগর রুনি হত্যার ৭ বছর হলো, কিন্তু সাগার রুনির হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি, তনুর ক্ষেত্রেও তাই। কিন্তু ত্বকীর ক্ষেত্রে হয়েছে এর উল্টোটা। রহস্য উদঘাটনের কারণেই মামলাটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যেহেতু ত্বকী ঘাতক এ রাষ্ট্রের বা সরকারের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে জড়িত এ কারণে এ হত্যার মামলাটা বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ ৫ বছর আগে ২০১৪ সালের ৫ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব জানিয়েছে ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদের নেতৃত্বে ১১ জন মিছিল ত্বকীকে হত্যা করেছে। হত্যার জায়গা ও কারণ বলেছে। অভিযোগপত্র তারা সংবাদকর্মীদের কাছে সরবরাহ করে তারা বলেছে যে, এটা আমরা কিছুদিনের মধ্যে আদালতে জমা দিবো। কিন্তু ৫ বছরেও এটা আদালতে জমা দেয়া হয় নাই। হয় নাই এ কারণে যে এর কিছুদিন পর আজমেরী ওসমানের বাবা নাসিম ওসমান মারা যায় এবং সে জায়গায় সংসদে এ শোক আলোচনার মধ্যে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী যখন বলে আমি এ পরিবারটাকে দেখে রাখবো। আর সেই সময় থেকে এটি বন্ধ।

ত্বকীর মা রওনক রেহানা বলেন, ‘একজন সচেতন মা সন্তানের মঙ্গল ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারেন না, সচেতনতার সাথে সাথে একজন মায়ের সক্ষমতা ও পারঙ্গঁমতা জরুরী। অপারগতা ও অক্ষমতা যে ‘মা’ এর জন্য কত কষ্ট আজকে তা আমি প্রতি মুহূর্তে উপলব্ধি করছি। আমার পক্ষে তো আমার সন্তানকে কোন নিরাপদ রাষ্ট্র, নিরাপদ জনপদ দেয়া সম্ভব হল না, এটা আমার, আমাদের মায়েদের অনিবার্য অক্ষমতা।’

ত্বকীর মা রওনক রেহানা বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপদ পথচলা কামনা করি মনে প্রাণে। এখন ত্বকী’র জীবনের এক পর্যায় ঘর থেকে বেরিয়ে বৃহৎ জগতে ঘুরে বেড়াবার সময় এসেছিল, আমি ওকে আমার মাতৃছায়ার বন্ধন থেকে আস্তে আস্তে মুক্ত হয়ে পৃথিবীর উন্নয়নের বড় রাস্তায় হাঁটার জন্য এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করতে চাইছিলাম। আমার ত্বকী জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে এই আশায়। এ সময় হতভাগ্য দেশের কিছু শত্রু আমাদের বুক খালি করে ত্বকী`কে নির্মমভাবে হত্যা করল। ত্বকী অর্থ আলো। আমার আলো একদিন ছড়িয়ে যেত সবখানে সবখানে। নির্দয় খুনীর দল তা হতে দিল না। আমাদের সব সস্তানই আমাদের জন্য আলো আজকে ওরা একটি আলো নিভিয়ে দিয়ে যদি পার পেয়ে যায়, আমাদের অন্য আলো সর্বত্র ছড়িয়ে যেতে আমরা কিভাবে আশংকামুক্ত থাকবো!’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর