rabbhaban

বিএনপি দমন নীতিতে সরকার : আবুল কালাম (ভিডিও)


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:১০ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার
বিএনপি দমন নীতিতে সরকার : আবুল কালাম (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ ও মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, সারাদেশ ব্যাপী দলকে সংগঠিত করার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি ঘোষণা করা হচ্ছে এবং কাউন্সিলের জন্য জোরালো পদক্ষেপ চলছে। আমাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়ার জন্য। বর্তমানে মহানগর বিএনপি’র কমিটি হচ্ছে ২১ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি। আংশিক কমিটি ঘোষনার পর আমাদের নির্দেশনা দেয়া ছিল এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়ার জন্য এবং আমরা তা সময় মতো অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে জমাও দিয়েছি। আংশিক কমিটি ঘোষণা হয়েছে ২০১৭ সনের ১৩ ফেব্রুয়ারি এখনো পর্যন্ত কমিটি সেভাবেই বলবৎ আছে। আমাদের কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি অপেক্ষায় আছে অনুমোদনের জন্য।

নিউজ নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে আলাপকালে কালাম এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দলীয় কর্মকান্ড চালিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে এবং আমরা সেভাবেই চলছি। ইতোমধ্যে যত রকমের কর্মসূচি কেন্দ্র থেকে ঘোষিত হয়ে আসছে আমরা প্রত্যেকটিতেই অংশগ্রহণ করেছি। আমাদের অঙ্গসংগঠনগুলোও আমাদের সাথে সম্পৃক্ত থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দলীয় কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক দল হিসেবে দলের ভিতরে মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে কিন্তু আমরা দলগত ভাবে ঐক্যবদ্ধ আছি। আমরা এখন দমন নীতির অধীনে আছি, বিভিন্ন হামলা মামলায় জর্জরিত। প্রশাসনিক ভাবে পুরো দেশের মতো আমরাও প্রচুর চাপে থাকি। তারপরও সাধ্য অনুযায়ী মহানগর বিএনপি কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে।’

আবুল কালাম আরো বলেন, ‘পুরো জাতিই আজ চাপের মধ্যে, পুরো দেশটাই এখন কারাগারে রূপান্তরিত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ করে আমরা যারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাথে সম্পৃক্ত আছি কোনভাবেই স্বচ্ছ বা মুক্ত রাজনীতি করার মতো স্বাভাবিক পরিস্থিতি ও পরিবেশ নেই। সংবিধানে বলা আছে বাক স্বাধীনতা থাকবে কোন অনুমতির প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমরা সব সময় দেখি যখনই কর্মসূচি পালন করতে যাই প্রশাসন থেকে একটা চাপ আসে যে আপনার উপরের অনুমতি নিয়েছেন কিনা। আসলে এই অনুমতি নেয়ার বিষয়টাই অসাংবিধানিক। গণতান্ত্রিক দেশে গণতন্ত্র চর্চা যতক্ষন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত না হয় ততক্ষন পর্যন্ত অনুমতি নেয়ার আবশ্যকতা নেই কারণ এই অধিকার সংবিধানেই দেয়া থাকে। কিন্তু আমরা তার থেকে অনেক দূরে আছি আমরা স্বাধীনতা ভোগ করতে পারছি না।’

তিনবারের সাবেক এ এমপি আরো বলেন, ‘‘২০০৬ সাল থেকে বিভিন্ন ধাপে ১/১১ এর সরকার থেকে এখন পর্যন্ত কয়েকটি সরকার আসছে। যদিও এসকল সরকারের নির্বাচন বা গণরায় নিয়ে অনেক বির্তক রয়েছে গ্রহযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। এই দীর্ঘ সময়ে হওয়া মামলাগুলো এখন আদালতে আছে, আমরা স্বচ্ছ বিচারের আশা রাখি। কিন্তু আমরা সকলেই অনুভব করছি যে বিচার বিভাগ পুরোপুরি চাপ মুক্ত আছে কিনা, এটা নিয়ে আমাদের সংশয় আছে। এই বিষয়টি এখন পুরো জাতিই অনুভব করছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে উনাকে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তিনি যে শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী তা নয়, তিনি তিনবার দেশের সরকার প্রধান ছিলেন। তার জামিন হচ্ছে না এতে বুঝা যায় বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছে তাদের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে এটা অনুধাবিত বিষয়। দলকে গতিশীল করার জন্য এটি একটি চরম বাধা এবং জাতি পুনর্গঠনের জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অংশগ্রহন জাতীয় পর্যায়ে অত্যন্ত আবশ্যক। এখন প্রধান দাবি আমাদের একটিই যে আমরা এই মূহূর্তে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তার সুচিকিৎসা চাই। দেশনেত্রীর মুক্তির মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারই আমাদের মূল লক্ষ্য।’’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর