rabbhaban

মাথা ব্যাথা হলেই কেটে ফেলতে হবে এমন আইন নাই : সেলিম ওসমান


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২৩ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
মাথা ব্যাথা হলেই কেটে ফেলতে হবে এমন আইন নাই : সেলিম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ শহরের হাজীগঞ্জ দুর্গের চারপাশে এলাকায় স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন এমপি সেলিম ওসমান।

২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হাজীগঞ্জ কেল্লার আশেপাশে এলাকার স্থাপনা ভেঙে গুড়িয়ে দেয় সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল এসব স্থাপনা তারা পাট মন্ত্রণালয় হতে লিজ এনেছিল। কোন ধরনের নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়েছে।

বিনা নোটিশে এমন উচ্ছেদের ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি বলেন,  আমার জানামতে ইহা এক সময় পাট মন্ত্রনলায় কর্তৃক জমি লিজ নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো গড়ে উঠেছিল। সবাই আইন সম্মত ভাবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলো। যেখানে কয়েক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়ে ছিল। কোটি কোটি টাকার মেশিনপত্র রয়েছে। এটা অত্যন্ত দু:খজনক বিনা নোটিশে হাজার হাজার মানুষকে বেকার করে দেওয়া হলো এবং ক্ষতিগ্রস্ত মেশিন পত্র রাষ্ট্রীয় সম্পদ বলেই আমি মনে করি যার বেশির ভাগই ব্যাংকের সহায়তা নিয়ে আমদানী করা হয়ে ছিল। এতগুলো সংস্থা সংশ্লিষ্ট থাকার পরেও তারা বিনা নোটিশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে অভিযোগ করেছে ব্যবসায়ীরা। অথচ সাধারণ নিয়ম অনুয়ায়ী নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিকে চিঠি দিয়ে অবহিত করতে পারতেন।

সেলিম ওসমান বলেন, ‘কাগজপত্রে অবৈধ দখলদার প্রমানিত হলে সরকারীভাবে সংস্থা গুলো উচ্ছেদ করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু এখানে ক্যাসিনোর মত ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজক এবং আমার কাছে লজ্জাজনক বলেও মনে হয়েছে। তবে আমি কোন অবৈধ দখলদারের পক্ষে বলছি না। যেহেতু এখানে অনেক মেশিনপত্র, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পন্য এবং হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান নষ্ট করা হয়েছে। যেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ভিশন-২০২১ এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন মানুষকে ধ্বংস করার জন্য না। সেখানে নারায়ণগঞ্জে শত শত মানুষের বসতি উচ্ছেদ করে রেলওয়ের জায়গা সিটি করপোরেশন দখল করে মানুষদের পথে বসিয়ে দিচ্ছে। এদের ব্যাপারে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যেত। আমি এখানকার স্থানীয় সংসদ সদস্য পাশাপাশি একজন ব্যবসায়ী প্রতিনিধি হিসেবেও বিষয়টি আমাকে অবহিত করা হয়নি এবং আমি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সাথে আলোচনা করেছি উনারাও বিষয়টি অবহিত ছিলেন না বলে আমাকে জানিয়েছেন।’

এমপির পাশাপাশি বিকেএমইএ’র সভাপতি সেলিম ওসমান। তিনি আরো বলেন, ‘এখানে দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে, ২০০১ সালে ৪ দলীয় ঐক্যজোট ক্ষমতায় আসার পর সেই বিএনপি জামায়াত জোট সরকার বিশেষ কায়দায় আদমজী জুট মিল, বাওয়া জুট মিল, র‌্যালী বাদ্রাস, চিত্তরঞ্জন কটল মিল, ঢাকেশ্বরী টেক্সটাইল, লক্ষ্মী নারায়ণ কটল মিল ধ্বংস করে প্রায় ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান নষ্ট করে দেয়। সেই ৫ লাখ শ্রমিক বেকার হওয়ার ফলে তাদের পরিবারগুলোতে বেকারত্বের অভিশাপ নেমে আসে। সেই সকল শ্রমিক পরিবারের সন্তানের বাসস্থান ও শিক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। যার ফলে নারায়ণগঞ্জে একটি অরাজকতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। রেকারত্ব অভিশাপ হয়ে দারিদ্রতার থাবা মেরেছে পরিবার গুলোতে। যার ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে বেছে নিয়েছে অপরাধের পথ, ঘটেছে অনেক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড জন্ম নিয়েছে অসংখ্য সন্ত্রাসী।’

‘‘আমি আবারো বলবো এখানে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দু:খজনক পাশাপাশি লজ্জাজনক। বিষয় অন্তত নারায়ণগঞ্জ চেম্বারকে চিঠি দিয়ে অবহিত করে সেখানে থাকা ব্যবসায়ীদের নোটিশ দিয়ে তাদেরকে ৩ থেকে ৬ মাসের সময় দেওয়া যেত।’’ প্রতিক্রিয়ায় যোগ করেন সেলিম ওসমান।

সেলিম ওসমান বলেন, ‘‘এখানে উল্লেখ্য আমাদের নারায়ণগঞ্জে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মদনগঞ্জের শান্তিরচরে একটি শিল্পাঞ্চল অনুমোদন দিয়েছেন। প্রয়োজনে তাদেরকে সেখানে পুনর্বাসন করতে পারতো। নারায়ণগঞ্জ একটি বাণিজ্যিক নগরী। নারায়ণগঞ্জ পর্যটন শহর নয়। শিল্প ধ্বংস করে পর্যটনকেন্দ্র করার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করিনা। পর্যটন কেন্দ্র করার জন্য নারায়ণগঞ্জে যথেষ্ট পরিমান জায়গা রয়েছে। যারা এমন ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমে জড়িত হয়েছেন এদের ব্যাপারে তদন্ত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন বলে আমি মনে করি। কারন এর আগেও শহরের বিভিন্ন ব্যবসায়ী এলাকায় হানা দিয়ে ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে রহমত উল্লাহ ইন্সটিউটে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে ব্যবসায়ীদের পথে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ আদালতে একটি মামলা চলছে।  বিনোদন সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের একই ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এখানে হাজীগঞ্জ এলাকায় ব্যবসায়ীদের আইনের দ্বারস্থ হওয়ার জন্যও কোন সুযোগ রাখা হয়নি। ব্যবসায়ীরা যাতে আইনগত সহযোগীতা না নিতে পারে সেজন্য এ ঘটনা ঘটাতে বৃহস্পতিবার দিনকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। মাথা ব্যাথা হলেই যে মাথা কেটে ফেলতে হবে এমন কোন আইন নাই।’’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর