‘অল্প বয়সে রাজনীতি করছো, মানুষের কল্যাণ করো’ আনোয়ারকে বঙ্গবন্ধু


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:১৭ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২০, সোমবার
‘অল্প বয়সে রাজনীতি করছো, মানুষের কল্যাণ করো’ আনোয়ারকে বঙ্গবন্ধু

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব তাকে ফের স্মরণ করবে। আলোকসজ্জা থেকে শুরু করে সর্বত্র এই জন্মশত বার্ষিকীর আমেজ দেখা যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে এরুপ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তার সেই পুরনো স্মৃতি অনেকের মনে উঁকি দিয়ে বেড়ায়। কেউ দেখে কেউ শুনে কেউ আবার খুব কাছ থেকে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে বঙ্গবন্ধুর নানা স্মৃতি বিজড়িত কথা স্মরণ করছেন। এর মধ্য থেকে নানা স্মৃতি বিজড়িত তথ্য উপাত্ত উঠে এসেছে প্রবীণ রাজনীতিকের কণ্ঠে।

১৬ মার্চ সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সাথে আলাপকালে স্মৃতিচারণের নানা তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন সময় নারায়ণগঞ্জে এসেছিলেন। আমি তখন ছোট ছিলাম। ১৯৪৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠার সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকাতে মিটিং করতে না পেরে তিনি এসেছেন নারায়ণগঞ্জে। নারায়ণগঞ্জে তখন বায়তুল আমানে মিটিং করতে পারে নাই। পথিমধ্যে বিক্রমপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করে তখন পাইকপাড়ার মানুষ তাকে শেল্টার দিয়েছে মিউচুয়্যাল ক্লাবে। সেই মিউচুয়্যাল ক্লাবে তিনি তখন একটা সভা করে এজন্য ক্লাবটির নাম বেশি পরিচিতি পায়। যদিও কেউ কেউ বলে মিউচুয়্যাল ক্লাবে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আসলে প্রতিষ্ঠা হয়নি আওয়ামীলীগের প্রথম সভা হয়েছে। আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা ঢাকাতে রোজ গার্ডেনে হয়েছে। সেই প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে তারা সভা-সমাবেশ করতে না পারায় তারা নারায়ণগঞ্জে এসেছিলেন। অতপর নারায়ণগঞ্জের বায়তুল আমানে বসতে না পেরে তারা মিউচুয়্যাল ক্লাবে বসেছিলেন। এ কারণে মিউচুয়্যাল ক্লাবটা একটা ঐতিহাসিক। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে আবার এসেছিলেন চাষাঢ়া বালুর মাঠে, সেখানে সভা করে ভাষণ দিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে যাওয়ার সময় তিনি গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারা নির্যাতন হয়েছিলেন। এই দুইবারই তিনি নারায়ণগঞ্জে এসেছিল শুনেছি। তখন আমি ছোট ছিলাম।’

আনোয়ার হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে আরো বলেন, দেশের দুর্ভিক্ষের সময় আমি তখন ছাত্র রাজনীতি করি। ওই সময় আমি সহ আমার টিম নিয়ে গণভবনে তার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। টিফিনের টাকা সঞ্চয় করে তাকে কিছু সাহায্য দিয়েছিলাম তার রিলিফ ফান্ডে।

তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘বয়স অল্প রাজনীতি করতেছো, মানুষের কল্যাণের জন্য করো, লেখাপড়া করো। অশিক্ষিত ছেলে কখনো রাজনীতিতে সাইন করতে পারেনা। সত্যিকার জ্ঞান অর্জন করো এবং মানুষের কল্যাণের চেষ্টা করো।’

আমি তার এই আদর্শকে বুকে ধারণ করে রাখার চেষ্টা করেছি। মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করে গেছি। তার সেই সময়কার ভাষণ শুনে আমি ভাবতাম স্বপ্ন দেখতাম এবং সেই অনুপ্রেরণা থেকেই আমার আওয়ামীলীগের রাজনীতি করা শুরু হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর