২০ বছরের ছোট বিমান ছিনতাইকারী বরকে নিয়ে যা বলেছিলেন শিমলা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২৩ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, সোমবার
২০ বছরের ছোট বিমান ছিনতাইকারী বরকে নিয়ে যা বলেছিলেন শিমলা

বেশ কিছুদিন চলচ্চিত্র থেকে লাপাত্তা থাকার পর হঠাৎ করে এই অসম পাত্র মাহমুদ পলাশকেকে বিয়ে করে খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন শিমলা। সে খবরে প্রকাশ পেয়েছিল নিজের চেয়ে প্রায় ২০ বছরের ছোট ছিলেন মাহমুদ পলাশ। দুজন নাকি বিয়ে করে লন্ডনে হানিমুনও করেছিলেন। তবে ওই সময়, খবরের বিপরীতে কোন কথা বলেননি শিমলা। এমনকি বারবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

যার ফলে অনেকেই ধরেই নিয়েছেন, বিয়ের ঘটনা সত্য। না হয় শিমলার পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হতো। কিন্তু এই ঘটনার অনেকদিন পর এসে শিমলা বলেছিলেন, সত্যিই ওই সময় দেশে ছিলাম না। আমার ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, ভাইবারসহ সকল যোগাযোগের মাধ্যম বন্ধ ছিল। আমি ওই সময় ব্যবহার করিনি। তাই প্রতিবাদও জানাতে পারিনি।

তিনি বলেন, আমি তো চোর নই যে, বিয়ে করে থাকলে কাছের মানুষদের না জানিয়ে করবো। কার্যত এখনো আমার কী বিয়ের বয়স হয়নি? তাহলে এতে এতো লুকোচুরি করবো কেন? মিডিয়ার খবর দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। তাতে প্রকাশ পেয়েছে, আমি নাকি বয়সে আমার চেয়ে ২০ বছরের ছোটকে আপন করে নিয়েছি। আমার বয়স কী তাহলে ৫০? আমি ওই সময় ভারতে সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলাম। তাই বাংলাদেশের কোন গণমাধ্যম কর্মীর নাম্বার ফোনে ছিল না, তাই প্রতিবাদ করতে পারিনি। তাছাড়া ওই সময় সিনেমায় এতো মনোযোগি ছিলাম, যার ফলে খবরটি আমার নজরেই আসেনি।

ওই সময় অর্পণ রায়চৌধুরীর হিন্দি ছবি ‘সফর’ সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন সিমলা। ছবিতে তার নায়ক হিসেবে কাজ করেছেন যশ আরোরা।

বিমান ছিনতাইকারী পলাশের স্ট্যাটাস ও নায়িকা সিমলাকে নিয়ে বিরহের গান

বাংলাদেশে বর্তমানে আলোচনার শীর্ষে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনা। এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে ছিনতাইকারী নিহত হবার পর বেরিয়ে আসে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারীর পরিচয়। তার নাম মাহমুদ পলাশ। বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায়।

পলাশের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নাম মাহিবি জাহান। সেখানে পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ইনফরমেশন টেকনোলজি বিজনেস এনালিস্ট। শিক্ষাগত যোগ্যতা দেওয়া আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। বসবাস করেন যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোতে।

তবে ‘অবাধ্য ছেলে’ উল্লেখ করে বাবা পিয়ার জাহান জানান, পলাশ কখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেনি। স্থানীয় তাহেরপুর আলিম মাদ্রাসা থেকে ২০১২ সালে দাখিল পাশ করার পর সোনারগাঁও ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। কিন্তু পড়াশোনা আর এগোয়নি।

পলাশের ফেসবুক একাউন্ট থেকে দেখা যায় সর্বশেষ যে পোস্টটি তিনি করেছিলেন তা ছিলো কারো প্রতি প্রতি ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা ৩মিনিটে শেষ পোস্টে তিনি লিখেছেন ‘ঘৃনা নিশ্বাসে প্রশ্বাসে’। তবে এখানে কার প্রতি তার এত ঘৃণা তার নাম উল্লেখ করনেনি তিনি। তবে তাঁর পূর্বের পোস্টগুলো দেখে ধারণা করা যায় যে এই পোষ্টটিও চিত্র নায়িতা শিমলাকে নিয়েই করা।

সেদিন বিকেলেই তিনি দুবাইগামী বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। পরে কমান্ডো অভিযানে সে মারা যান।

পলাশের শেষ স্ট্যাটাস অনুযায়ী মনে হচ্ছে, তিনি কারও ওপর অভিমান করেছিল। তবে কার ওপর এ অভিমান তা উল্লেখ করেননি।

ফেসবুকে নায়িকা সিমলার সঙ্গে অসংখ্য অন্তরঙ্গ ছবি রয়েছে পলাশের। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তারা বিবাহিত ছিলেন। তার ফেসবুকে দেখা যায় শিমলাকে নিয়ে একটি হৃদয়স্পর্শী বিরহের গান দিয়ে একটি ভিডিও তৈরী করে আপরোড করেছেন তিনি। সেই সাথে ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে সর্বশেষ পোস্ট করেছেন তিনি।

২০১৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম বিবাহবার্ষিকীতে ফেসবুকে সিমলার সঙ্গে তোলা ছবি দিয়ে পলাশ লেখেন, “এ হচ্ছে আমার বউ যে আমার হাজার ভুলের মাঝে, আমাকে সহ্য করে পার করে দিল একটি বছর। দোয়া করবেন যাতে সারাটা জীবন এ পাগলিটা আমি এক সাথে থেকে যেন মরতে পারি। বউ অনেক ভালোবাসি তোমায় আর কষ্ট দেব না। শুভ বিবাহবার্ষিকী আদরের পুতুল বউ আমার। আই লাভ ইউ লট মোর দেন মাইসেলফ!”

এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি বিকেল ৩টা ১৫মিনিটে মাহমুদ পলাশের ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্ট থেকে আপলোড করা হয়। যেখানে নায়িকা শিমলা ও মাহমুদ পলাশের অনেক ঘনিষ্ট ছবি দিয়ে বিরহের গানের ভিডিওটি তৈরী করা হয়েছে। গানটি তিনি নিজের কণ্ঠে গয়েছেন। এবং গানের ক্যাপশন হিসেবে ইংরেজিতে লেখা হয়েছে ‘জাস্ট সি ইউ সুন’।

মাহাদীর পিতা পিয়ার জাহান ও মা রেনু আক্তার জানান, মাহাদী ওরফে পলাশ তাদের একমাত্র ছেলে। পলাশের ৩ বোনের মধ্যে ২ জনের বিয়ে হয়েছে। তার বাবা পিয়ার জাহান ১৯৯০ সাল থেকে বিদেশে থাকতেন। প্রথমে কুয়েত এবং পরে সৌদি আরবে ছিলেন তিনি। প্রবাসী বাবার দেওয়া টাকা-পয়সা নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করতো পলাশ। নাচ, গান থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র শিল্পে জড়িয়ে পড়ে সে। এরই মধ্যে সে কয়েকটি শর্টফিল্মও তৈরি করেছে। এক সময় সোনারগাঁয়ের বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় চলে যায় পলাশ। এরপর টাকার প্রয়োজন ছাড়া বাড়িতে যেত না সে। এদিকে তার বিদেশ ফেরত বাবা পিয়ার জাহান এখন এলাকায় একটি মুদি দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।

পিয়ার জাহান বলেন, ছেলে পলাশ মাহমুদ তাহেরপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ২০১২ সালে দাখিল পরীক্ষা দিয়ে পাস করে। দাখিল পাস করে সে সোনাগাঁও ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হয়। সেখানে পড়া অবস্থায় সে ঢাকায় চলে যায়। তারপর থেকে তার আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়। মাঝে মাঝে বাড়িতে আসলেও এলাকার মানুষের সঙ্গে মিশতো না, কথা বলতো না।

তিনি জানান, পলাশ ২০১৪ সালে বগুড়া সদর উপজেলায় মেঘলা নামের এক মেয়েকে প্রথম বিয়ে করে। তাদের সংসারে আড়াই বছর বয়সি আয়ান নামে একটি পুত্র সন্তান আছে।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে শিমলা নামে এক মেয়েকে রাতের বেলা বাড়িতে নিয়ে আসে পলাশ। মেয়েটিকে চিত্রনায়িকা ও তার প্রেমিকা বলে আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। দুই মাস পর আবার শিমলাকে বাড়িতে নিয়ে এসে বিবাহিত স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেয়। বিয়ের কথা শিমলাও আমাদের কাছে স্বীকার করে। ওই রাতেই তারা আবার ঢাকায় চলে যায়। আমরা শিমলাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, তাকে বলেছি– আমার ছেলেকে যেন ভালো পথে ফিরিয়ে আনে। ছোটবেলা থেকেই ছেলেটি অবাধ্য ছিল। পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে প্রবাস থেকে আমার পাঠানো টাকা সে নানা পথে খরচ করেছে।

তিনি জানান, সর্বশেষ ২০-২৫ দিন আগে পলাশ বাড়িতে আসে। বাড়িতে আসার পর তার আচরণে বিরাট পরিবর্তন দেখা দেয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করে, মসজিদে গিয়ে আজানও দিয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার বাড়ি থেকে যাওয়া আগে বলেছে, সে কাজের সন্ধানে দুবাই যাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর