rabbhaban

১২ খলিফার নিয়ন্ত্রণে সোনারগাঁও জাদুঘর


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৫:৫৪ পিএম, ১২ মার্চ ২০১৯, মঙ্গলবার
১২ খলিফার নিয়ন্ত্রণে সোনারগাঁও জাদুঘর

সোনারগাঁয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন (জাদুঘর) ১২ জনের নিয়ন্ত্রনে চলে গেছে। এ ১২ জনের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। নানা অনিয়মের মাধ্যমে ওই সিন্ডিকেট ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন স্পট ইজারা নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সিন্ডিকেটে একাধিক কর্মচারীও জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফাউন্ডেশনের গাড়ী পার্কিং, নাগরদোলা, খালের পানিতে নৌকা ভ্রমণ, মৌসুমী ফল ইজারা, কনফেকশনারী, সেলস সেন্টার ইজারার মাধ্যমে ওই সিন্ডিকেট ফাউন্ডেশন দখলে রেখেছে। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে স্থানীয় একটি ক্লাবের কয়েকজন নেতা পুরো লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন নিয়ন্ত্রণ করছেন।প্রতিদিন এ সিন্ডিকেটের কাছে হয়রানির শিকার হচ্ছে সোনারগাঁয়ে আগত দর্শনার্থীরা। হয়রানীর শিকার অনেক পর্যটক লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও কোন ফল পায়নি। এ নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের প্রধান ফটকের উল্টো দিকে সরকারী জমি দখল করে টাইগার ক্লাব নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলে। সংগঠনটির কার্যালয় বর্তমানে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও সভাপতি নূরে আলম কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের একাধিক কর্মচারীদের নিয়ে ১২ জনের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। সিন্ডিকেটটি এলাকায় ১২ খলিফা নামে পরিচিত।

অভিযোগ রয়েছে, কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের কার পার্কিংটি ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ওই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন। এই সিন্ডিকেটের বাইরের কেউ কার পার্কিংয়ের ইজারায় দরপত্র কিনলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে, ভয়ভীতি ও কাগজপত্র সঠিক নয় উল্লেখ করে নানা কৌশলে তা বাতিল করে দেওয়া হয়।

ওই সিন্ডিকেটের অংশীদার অসাধু কর্মচারী ফাউন্ডেশনের দরপত্রের তথ্য ফাঁস করে তাদের দরপত্র পাইয়ে দেওয়ার সুযোগ করে দেন। প্রতিবছর তাদের নিয়ন্ত্রিত লোক দিয়ে ইজারা নেওয়ার পর শুরু হয় পর্যটকদের হয়রানি। গাড়ি পার্কিংয়ে সরকার নির্ধারিত ফি এর বাহিরে অতিরিক্ত টাকা আদায়, রাস্তায় গাড়ি রাখলেও সেখান থেকে চাঁদা উত্তোলন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে পার্কিং জোনের ভেতরে অনেক চটপটির দোকান, চায়ের দোকান, আইসক্রীমের দোকান ও কারুপণ্যের দোকান বসিয়ে সেখান থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে ওই সিন্ডিকেট। ফাউন্ডেশনের প্রধান ফটকের সামনে যত্রতত্র অপরিকল্পিতভাবে দোকানপাট বসিয়ে চাঁদাবাজি করার কারনে প্রতিনিয়ত প্রধান সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে প্রতিদিন শতশত পর্যটক চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ফাউন্ডেশনের ১২ জনের সিন্ডিকেটে মধ্যে রয়েছে নূর আলম, পিয়ার হোসেন, মনির হোসেন, হেলাল, কৃষ্ণ চন্দ্র সাহা, ফজল, শাহীন, আবু সাইদ, লুৎফর ফাউন্ডেশনের গাড়ি চালক বুলবুল, ইলেকট্রিশিয়ান সাইদুর রহমান, ক্যামেরাম্যান জজ মিয়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের অভ্যন্তরে লেকে বেড়ানোর যে নৌকা তা প্রভাব খাটিয়ে ইজারার মাধ্যমে গত এক যুগ ধরে নিজেদের দখলে রেখেছে ১২ খলিফা খ্যাত এ সিন্ডিকেট। লেকের প্লাস্টিকের নৌকার অনুমোদন না থাকলেও এই সিন্ডিকেট প্রভাব খাটিয়ে কাঠের নৌকার পাশাপাশি ৮টি প্লাস্টিকের নৌকা ব্যবহার করছেন। এমনকি ইজারায় যে পরিমান নৌকা চলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তা থেকে দ্বিগুনেরও বেশী নৌকা ব্যবহার করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। নৌকা ভ্রমনের জন্য ঘন্টায় সরকার নির্ধারিত নৌকা ফি এর অতিরিক্ত দ্বিগুনেরও বেশী টাকা আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি ফাউন্ডেশনের ভেতরে নাগরদোলা, চড়কা, মিনি ট্রেন ও ইলেক্ট্রিক নৌকাও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এ সিন্ডিকেটের হাতে। বছরের পর বছর ধরে ফাউন্ডেশনের মৌসুমী ফলমূল প্রভাব খাটিয়ে ও কৌশলে ইজারা নিয়ন্ত্রনে রেখেছে এ সিন্ডিকেট। প্রতি বছর স্বল্পমূল্যে ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে ফলমুলের বাগান ইজারা নিয়ে অন্যত্র কয়েকগুণ বেশী মূল্যে বিক্রি করে এই সিন্ডিকেট। তাদের এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্বে অন্য কেউ ফাউন্ডেশনের ফলের বাগান ইজারা নিতে পারেনা।

সরেজমিন লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন ঘুরে দেখা যায়, এর অভ্যন্তরে অপরিকল্পিতভাবে ১৩টি কনফেকশনারী দোকান বসানো হয়েছে। এসব দোকানের অধিকাংশই নিয়ন্ত্রনে রেখেছে এ সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, এতসব অনিয়মে প্রকাশ্যে ও পরোক্ষভাবে ফাউন্ডেশনের একজন ইলেকট্রিশিয়ান ও পরিচালকের একজন ড্রাইভার বুলবুল জড়িত থাকালেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

ভুক্তভোগী মইন আল হোসেন অভিযোগ করেন, ৩টি বাস নিয়ে ফাউন্ডেশনে পিকনিকে এসে পার্কিংয়ে রাখেন। পার্কিংয়ে গাড়ি প্রতি ৩ শ টাকা রাখার নিয়ম থাককেও নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৪শ টাকা করে করেন। বেশি টাকা নেওয়ায় প্রতিবাদ করলে ইজারাদার কৃষ্ণ চন্দ্র সাহাসহ তার লোকজন দুর্ব্যবহার করেন। এ ঘটনায় তিনি সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত ১২ জনের সিন্ডিকেটের প্রধান নুরে আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অতিরিক্ত টাকা কারো কাছ থেকে আদায় করা হয়নি। তাছাড়া কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পাকিং, নৌকা ও মৌসুমী ফল বিভিন্ন সময় নিয়মতান্ত্রিকভাবে ইজারায় অংশগ্রহণ করে তা পেয়ে থাকি। আমরা কখনও কারো সাথে প্রভাব খাটায়নি বা কারো সাথে খারাপ আচরণ করিনি।

সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম ভূইয়া জানান, কেউ যদি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কোন অনিয়ম দুর্নীতি করে তার দায়ভার দল কখনও নিবে না।

ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক রবিউল ইসলাম বলেন, গাড়ি পার্কিং ও নৌকা ভ্রমনে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে অভিযোগ দিলে ইজারাদারদের বিরুদ্ধে ফাউন্ডেশন ব্যবস্থা নেবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
সাহিত্য-সংস্কৃতি এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর