rabbhaban

নারায়ণগঞ্জে নাটক নাই ১০ বছর


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০২:৩৫ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
নারায়ণগঞ্জে নাটক নাই ১০ বছর

নাটক জীবনের কথা বলে। নিত্যদিনের জীবন যাত্রা, মানুষের দুঃখ-কষ্ট, সমাজিক সমস্যা, প্রতিবাদের ভাষা সব কিছুই ফুটে উঠে নাটকের। আর নাটকের মধ্যমেই মানুষকে ভেতর থেকে জাগিয়ে তুলে। আর এ নাটকের বড় একটি অংশ ছিল নারায়ণগঞ্জ। এর নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন নাট্য সংগঠনগুলো যেমন বিভিন্ন আন্দোলন করে প্রতিবাদের স্বাক্ষী তেমনি এখানকার অনেক নাট্যকর্মী জাতীয় পর্যায়েও কাজ করেন। তবে দিনের পর দিন নারায়ণগঞ্জ থেকে এ নাট্য কার্যক্রম হারিয়ে যেতে শুরু করেছে। নেই নাটক, নাটকের রিহার্সাল কিংবা নাটকের মঞ্চও। আর উঠে আসছে না নতুন মুখও। নাট্যকর্মীদের দাবি ১০ বছর ধরে নগরীতে নাট্যকর্মকা- নেই। আর সব শেষে কয়েকটি নাট্য দলের পরিবেশনার কথা থাকলেও জায়গার জন্য বাতিল করা হয়।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের অধিনেই ১০টির বেশি নাট্য সংগঠন আছে। জোটভুক্ত ছাড়া আছে আরো কয়েকটি। আর এসব নাট্য সংগঠন গুলো ২০০৮ সালের আগে প্রতিনিয়িত কার্যক্রম চালিয়ে যেতেন। পথ নাটক, মঞ্চ নাটক এর বাইরেও সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। কিন্তু বর্তমানে নাটক নেই নেই তেমন কোন কার্যক্রমও। শুধু মাত্র পহেলা বৈশাখ, চৈত্র সংক্রান্তি, রবীন্দ্র জয়ন্তী সহ কয়েকটি বিশেষ দিবস বা অনুষ্ঠানই দেখা যায় নাটক সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকা-।

নাট্যকর্মী জাহিদ হৃদয় বলেন, নারায়ণগঞ্জের অনেক নাট্য সংগঠন আছে। এগুলো এক সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠান করতো। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই এসব নাট্য সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পরিবেশনা থাকতো। তাদের দেখে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নাট্য সংগঠনগুলোও নারায়ণগঞ্জে এসে নাটক পরিবেশন করতো। এসব সংগঠনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ঐকিক থিয়েটার, উঠান, উন্মেষ, শ্রুতি, এ বাংলা, উদীচি, সমগীত, সংপ্তক ও নারায়ণগঞ্জ থিয়েটার। তবে এখনও এরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নাটক পরিবেশ করে কিন্তু সেটাও সংখ্যায় দুই একটা। যেখানে প্রতি সপ্তাহে ৫ থেকে ৭টি অনুষ্ঠিত হতো।

ঐকিক থিয়েটারের সভাপতি অসিত কুমার সাহা বলেন, ৯ থেকে ১০ বছর হয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জে নাটক হয়। তবে সেটা মঞ্চ না থাকার কারণেই। জিয়াহল পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে আর চুনকা পাঠগার নির্মাণাধীন ছিল। তবে এর মধ্যেও কিছু কাজ হয়েছে কিন্তু সেটা নিয়মিত হয়নি।

তিনি বলেন, দীর্ঘ বন্ধ থাকায় দলগুলো নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। এগুলো আবার সক্রিয় হতে সময় প্রয়োজন। তবে এর থেকে বড় হলো নতুনরা এখন আর সংস্কৃতিতে আসছে না। সবাই পরীক্ষা ও ফলাফল মুখি হয়ে পড়েছে। কারো সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য সময় নেই। থিয়েটার নাটক করবে বিশেষ করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু তারাও এখন কর্মব্যস্ত। এক কথায় সবাই সংস্কৃতিক বিমূখ আর যান্ত্রিক মুখী হয়ে যাচ্ছে। তবে এর প্রভাব আমাদের সমাজে পড়বে। আর এর থেকে পরিত্রাণের জন্য সামাজিক ও রাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রয়োজন।

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সবশেষ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, নাট্যদলগুলো কার্যক্রম আছে। তবে সেটা আগের তুলনায় অনেক কম। তবে মঞ্চ নাটকগুলো সেই ভাবে নেই। পথ নাটকটা ঠিক হচ্ছে তবে প্রচার প্রচারণার অভাবে তেমন জানা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখে চুনকা পাঠাগারে কয়েকটি নাটক পরিবেশন করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে কয়েকট বড় নাটক সংগঠনই তাদের নাট্য পরিবেশন করতে রাজি হয়নি। কারণ তাদের মঞ্চ দিতে পারি নাই। চুনকা পাঠাগার যে মঞ্চ আছে তাদের নাট্য সংগঠনগুলোর সকল সদস্য এক সঙ্গে দাঁড়াতেই পারবে না। তাই বৈশাখের দুটি নাটক বাতিল করা হয়।

ধীমান সাহা জুয়েল বলেন, মূলত ২০০৮ সাল থেকেই নাটকের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর একটাই কারণ মঞ্চ ছিল না। এখনও মঞ্চ নেই। তবে আমরা এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের মেয়রকে জানিয়েছি যে চুনকা পাঠাগারে যে জায়গা আছে তাতে মঞ্চ নাটক করা যাচ্ছে না। তখন তিনি আশ্বস্ত করেছে যে নগর ভবনে একটি উন্মুক্ত মঞ্চ থাকবে। সেটা সাংস্কৃতিক ও নাট্যকর্মীরা ব্যবহার করতে পারবে। ওই মঞ্চ হলে আবারও নাট্যকার্যক্রম জোরালো ভাবে শুরু হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর