rabbhaban

নারায়ণগঞ্জ ডাকঘরে মেঝেতে পবিত্র কোরআন শরীফ, পার্সেলের নামে ব্যবসা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৩ পিএম, ০৩ অক্টোবর ২০১৭, মঙ্গলবার
নারায়ণগঞ্জ ডাকঘরে মেঝেতে পবিত্র কোরআন শরীফ, পার্সেলের নামে ব্যবসা

হাজীদের নামে পার্সেলে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরীফ পাঠিয়ে অন্তত কোটি টাকার উপরে হাতিয়ে নিচ্ছে একটা হেলপলাইন নামের একটি সংস্থা। আর ওই সংস্থার কারণে প্রতিদিনই অবমাননা হচ্ছে কোরআন শরীফের। মাটিতে লুটাচ্ছে পবিত্র কোরআন শরীফ, হাদিস শরীফসহ অন্যান্য ইসলামিক বই। ৩ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রধান ডাকঘরে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জ প্রধান ডাকঘরের পার্সেল বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, ৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন হজযাত্রীদের ঠিকানায় প্রায় একশত পার্সেল এসেছে। যেগুলো ডাকঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল। ওই পার্সেলের গায়ে লেখা এ প্যাকেটে পবিত্র কোরআন শরীফ, হাদিস শরীফ, ওযীফা শরীফসহ ধর্মীয় অন্যান্য উপকরণাদী আছে বিধায় আদবের সঙ্গে সংরক্ষণ করুন। ভিপিপি মূল্য এক হাজার (১০০০) টাকা। প্রাপককে ইন্টিমেশন দিন এবং সাতদিন পর্যন্ত তার জন্য প্যাকেটটি সংরক্ষণ করুন। প্রেরকের ঠিকানা দেয়া ছিল হেলপলাইন ৩৫ বি বাজার ঢাকা-১১০০।

ডাকঘর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার ৩৫ বি বাজারে অবস্থিত হেলপলাইন নামের ওই সংস্থাটি প্রতিবছরই হজ পালন শেষে দেশে ফেরা যাত্রীদের নামে এ ধরনের পার্সেল পাঠিয়ে ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছে। তারা হজ মন্ত্রনালয় থেকে হাজীদের ঠিকানা সংগ্রহ করে। এরপর দেশে ফিরে আসা হাজীদের ঠিকানায় ওই পার্সেলটি পাঠিয়ে দেয়। ওই পার্সেলে তারা পবিত্র কোরআন শরীফ, হাদিস শরীফ, ওযীফা শরীফসহ ধর্মীয় অন্যান্য উপকরণাদী আছে বলে উল্লেখ করে দেয় যাতে হাজীরা ধর্মীয় অনুভূতির কারণে পার্সেলটি গ্রহণ করে। পার্সেলটি হাজীরা গ্রহণ করতে হলে একজন হাজীকে সর্বমোট ১ হাজার ২৩ টাকা প্রদান করতে হয়।

জানা গেছে, হজ শেষে দেশে ফিরে আসা হাজীদের মন তখন অনেক নরম থাকে। আর পার্সেলে কোরআন শরীফ, হাদিস শরীফ রয়েছে শুনলে অনেকেই সেটা নিয়ে নেয়। যে কারণে ওই সংস্থাটি পবিত্র ধর্মগ্রন্থের নামে এক ধরনের ব্যবসা চালিয়ে আসছে। তারা পার্সেলে পবিত্র কোরআন শরীফ, হাদিস শরীফ, ওযীফা শরীফসহ যেসকল ধর্মীয় অন্যান্য উপকরণাদী দিচ্ছে তার মূল্য কোনভাবেই এক হাজার টাকা হবেনা।

প্রতি পার্সেলে তাদের খরচ হবে সর্বসাকুল্যে ৪০০ টাকার মতো। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট ১ লাখ ২৭ হাজার ২২৯ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে সুষ্ঠুভাবে হজ পালন করতে সক্ষম হয়েছেন। যদি ২০ হাজার জন হাজীও তাদের পার্সেল নেয় তাহলে প্রতি পার্সেলে ৬০০ টাকা করে তাদের উপার্জন হবে কোটি টাকার উপরে। আর যদি ৫০ হাজার জন হাজী তাদের পার্সেল নেয় তাহলে তাদের আয় হবে অন্তত ৩ কোটি টাকা।

হেলপলাইন নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি হাজীদের ঠকিয়ে যেমন ব্যবসা করছে তেমনি তাদের এহেন ব্যবসার কারণে প্রতিনিয়ত পবিত্র কোরআন শরীফ, হাদিস শরীফ, ওযীফা শরীফের অবমাননা হচ্ছে। কারণ তারা ঢাকাস্থ যে ডাকঘর থেকে বস্তায় ভরে দেশের বিভিন্ন জেলায় পার্সেল পাঠাচ্ছে সেই বস্তাগুলো শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত পায়ে মাড়াচ্ছে। কারণ শ্রমিকদের বস্তা খুলে দেখার উপায় নেই ভেতরে কি রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্ট মাস্টার সোহেল আহম্মেদ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, প্রতি বছরই হজ শেষে এ ধরনের পার্সেল এসে থাকে। পার্সেলগুলো বিভিন্ন বস্তার মধ্যে ভরা থাকে। যে কারণে বস্তা খোলার আগে আমাদের বোঝার উপায় থাকেনা ভেতরে কি আছে। এছাড়া যেসকল শ্রমিক বস্তাগুলো বহনের কাজ করে থাকে তাদেরও বোঝার উপায় থাকেনা। যার ফলে প্রতিনিয়ত পবিত্র কোরআন শরীফের অবমাননা হচ্ছে। আমরা যখনই বস্তাখুলে উপরের লেখা দেখতে পাই তখন আমরা ওই পার্সেলগুলোকে আলমারিতে কিংবা টেবিলের উপরে রেখে দেই। তিনি আরো জানান, হাজীদের ঠিকানায় পার্সেল পাঠানো হলেও অনেক সময় হাজীরা অধিক মূল্যের কারণে নিতে চান না। তবে অনেকেই ধর্মীয় অনুভূতির দিক বিবেচনা করে পার্সেল নিয়ে থাকেন।

নারায়ণগঞ্জ প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল ও পোস্টমাস্টার (প্রথম শ্রেনী) মোঃ শহীদুল ইসলাম নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, পার্সেলে পবিত্র কোরআন শরীফ পাঠানোর বিষয়টি তার জানা ছিল। এছাড়া যে সংস্থাই এভাবে পবিত্র কোরআন শরীফ, হাদিস শরীফ, ওযীফা শরীফ পাঠাচ্ছে তারা ধর্মগ্রন্থের নামে ব্যবসা করছে বলেই আমার মনে হচ্ছে। পবিত্র ধর্মগ্রন্থের নামে এ ধরনের ব্যবসা করাটা মোটেও শোভনীয় নয়। যারা এহেন গর্হিত কাজ করছে তাদের ব্যবসা বন্ধে পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ। আর পার্সেলে ভবিষ্যতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরীফ থাকলে আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর