নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও’র বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ


সিটি করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৫:৩৮ পিএম, ০৪ অক্টোবর ২০১৭, বুধবার
নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও’র বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ

সরকারী কর্মচারীকে তার অপরাধ থেকে রক্ষা করতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাসমিন বিনতে জেবিন শেখের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

৪ অক্টোবর বুধবার দুপুরে এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক আলামিন প্রধান।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মচারী শ্যামল বৈদ্য শর্তসাপেক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফতুল্লা সার্কেল থেকে ফতুল্লা মৌজায় পৌনে দুই শতাংশ ভূমি লীজ নিয়ে তা অন্যত্রে বিক্রি করে দেয়। শর্ত ভঙ্গকারীর ওই ভূমির লীজ বাতিল করে একটি এতিমখানা ও মাদ্রাসার নামে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসমিন বিনতে জেবিন শেখের কাছে ২২ ফেব্রুয়ারী লীজ আবেদন করে আলামিন প্রধান।

সেই আবেদন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফতুল্লা সার্কেলের কাছে দফায় দফায় তিনবার তদন্তের জন্য প্রেরণ করেন। তদন্তে গিয়ে ভূমি কর্মকর্তারা ভূমিটির দলিল না দিয়ে দুই দফায় লিজের কাগজপত্র হস্থান্তর করে জৈনক মনির হোসেন ও শাহ আলমের কাছে বিক্রির প্রমাণ পেয়েছে। এরপরও ইউএনও তা গ্রহণ না করে তৃতীয় দফায় তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফতুল্লা সার্কেলকে নির্দেশ দিয়েছেন।

একই দপ্তরকে বার বার তদন্তের নির্দেশ দিয়ে দীর্ঘসূত্রিতা করে ৮মাস অতিক্রম করেছেন। এর মধ্যে অবৈধ দখলদাররা বিভিন্ন জনের কাছে জানিয়েছে ইউএনওকে মোটা অঙ্কের টাকায় ম্যানেজ করে জমিটি স্থায়ীভাবে তারা দখল নিয়েছে।

আলামিন প্রধান জানান, শ্যামল বেদ্যর অবৈধ ভাবে বিক্রি করে দেয়া লীজের জমির পাশে আমার পরিচালনায় তালিমুল কোরআন নূরানী মাদ্রাসা ও এতিমখানাটি একটি বাড়িতে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। ওই এতিমখানায় ১৫জন পিতৃ মাতৃহীন অনাথ শিশু রয়েছে। তাদের থাকা খাওয়া ও রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য যৎসামান্য ভূমি সরকারী আইন ও বিধি মোতাবেক সদর উপজেলায় লীজ আবেদন করেছি। ৮মাস যাবত আমার এই আবেদনের কোন সন্ধান পায়নি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফতুল্লা সার্কেলে গিয়ে শুনতে পেয়েছি আমার আবেদনের তদন্ত হয়েছে। উপজেলায় গিয়ে শুনতে পেয়েছি এধরনের কোন আবেদন তারা পায়নি। আবার কেউ বলছে খরচ ছাড়া কাজ হবে না। এভাবে উপজেলায় আমাকে হয়রানী করা হচ্ছে।

আলামিন বলেন, ‘আমার ধারণা মোটা অঙ্কের টাকায় ইউএনও ম্যানেজ হয়ে শ্যামল বৈদ্যকে তার অপরাধ থেকে রক্ষা করতে ও অবৈধ দখলদারদের সুবিধা দিতে আমার আবেদন ধামা চাপা দেয়ার জন্য আমাকে ৮মাস ধরে হয়রানী করছে। এজন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করে একটি অভিযোগ করেছি।’

ইউএনও তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ বলেন, ‘ওই জায়গায় জেলা প্রশাসকের এক কর্মচারী লিজ নিয়ে বসবাস করছে। সে বর্তমানে পুনরায় লিজ নবায়নের আবেদন করেছে। অন্য একজন লোক আবেদন করেছে। সার্ভেয়ার প্রতিবেদন না আসলে কিছু করা সম্ভব না। তাছাড়া একজন লিজে আছে সেই লিজ বাতিল না করা পর্যন্ত অন্যজনকে লিজ দেওয়া সম্ভব না।

সার্ভেয়ার আরিফ জানান, গত মাসে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। পুনরায় এসিল্যান্ড স্যারকে তদন্ত দিয়েছে ইউএনও স্যার।
আপনার মন্তব্য লিখুন:
-->
newsnarayanganj24_address
মহানগর এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর