সংঘবদ্ধ শিশু অপহরণ ও পাচারকারী চক্রের মূলহোতা আটক


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০২:২০ পিএম, ০৫ অক্টোবর ২০১৭, বৃহস্পতিবার
সংঘবদ্ধ শিশু অপহরণ ও পাচারকারী চক্রের মূলহোতা আটক

পেশাদার শিশু অপহরণ ও পাচারকারী সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রিয় সদস্য ও মুল হোতা সাহাবুদ্দিন সাহেদকে (৪২) আটক করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব ১১)।

বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে র‌্যাব ১১ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, বুধবার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকার গুলিস্তান থেকে সাহেদকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় তার নিকট হতে ১টি পাসপোর্ট ও ১টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

সাহেদ নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রামনগর এলাকার মৃত ছাবেদ আলীর ছেলে।

র‌্যাব জানায়, আটককৃত আসামী সাহাবুদ্দিনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে সে পেশাদার শিশু অপহরণ ও পাচারকারী সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রিয় সদস্য। সাহাবুদ্দিনের জন্ম নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন রামনগর গ্রামে হলেও বেড়ে উঠেছে মুন্সিগঞ্জ জেলার চরমুক্তারপুর এলাকায় তার খালার বাসায়। সে পেশায় ছিল ট্রাক ও টেম্পুর চালক। ১৯৯৫ সালে সে তার খালাতো বোনকে বিয়ে করে। সেই সংসারে তাদের ২ টি সন্তানও রয়েছে। ১৯৯৯ সালে সে বন্দর থানা এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়ে চার মাস জেল খাটে।

পরে ২০০৬ সালে নিজের নাম পরিবর্তন করে সেলিম ছদ্মনামে পাসপোর্ট করে সৌদি আরব চলে যায়, কিন্তু মাত্র ২৭ দিন পর দেশে ফেরত এসে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন মেট্রো সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে ড্রাইভার হিসেবে চাকুরী নেয়।

সেখানেও ৪০০ ব্যাগ সিমেন্ট আত্মসাৎ করে অন্যত্র বিক্রি করার অপরাধে ফতুল্লা থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলে সে পালিয়ে চাঁদপুরে তার আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করে। তার আত্মীয়ের শ্যালিকার সাথে প্রেমের সম্পর্ক করে ২০০৭ সালে পালিয়ে বিয়ে করে। পরবর্তীতে ঢাকায় ট্যাক্সি চালানোর পাশাপাশি সে শিশু অপহরণ ও পাচারকারী  চক্রের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘবদ্ধ চক্রের অন্যান্য সদস্য জাকির, টিটু, জেসমিন, বানেছা, বেলু ও আসলাম গংদের পারস্পারিক যোগসাজসে ঢাকার সদরঘাট, কমলাপুর, যাত্রাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকা হতে শিশু অপহরণ করত সাহেদ। যার মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুকে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে সে স্বীকার করেছে। আটকের সময় জব্দকৃত তার পাসপোর্ট পর্যালোচনা করে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ২০১৪ সালে সে সাহেদ ছদ্মনামে পাসপোর্ট করে অক্টোবর ২০১৪ সাল হতে জানুয়ারি ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১৫ মাসে মোট ০৬ বার ওমানে যাতায়াত করেছে। কোন বারই সে এক মাসের বেশি সময় ওমানে অবস্থান করেনি।

এসময় টাকার বিনিময়ে লাকী, আশা ও শিলা নামের ০৩ জন মহিলাকে সে ওমানে নিয়ে যায়। এছাড়াও বিদেশ নেওয়ার নামে অনেকের টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে সে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে। এ সকল কারনে এলাকায় সে প্রতারক সাহাবুদ্দিন নামে পরিচিত।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে আরও জানায় জাকির, টিটু, বানেছা ও জেসমিনসহ এই অপহরণকারী চক্রের কাছ থেকে দুই ধাপে সে মোট ৫ টি শিশু ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে গুলিস্তান থেকে গ্রহন করে দুইজন মহিলার কাছে পৌঁছে দেয়। এই মামলায় ইতিপূর্বে গ্রেফতারকৃত টিটু, জেসমিন ও বানেছার স্বীকারোক্তিতেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। এই কাজের জন্য সাহাবুদ্দিন ২ লক্ষ টাকা পায় বলে জানায় সে।

আটককৃত আসামী সাহাবুদ্দিন সাহেদের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় অস্ত্র ও ডাকাতি এবং ফতুল্লা থানায় ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে বলে সে জানায়। ইতিপূর্বে সে বেশ কয়েকটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছে বলেও স্বীকার করেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
-->
newsnarayanganj24_address
মহানগর এর সর্বশেষ খবর
আজকের সবখবর