rabbhaban

পূজা কমিটির সেক্রেটারীর বিরুদ্ধে চুরি মামলায় নগর জুড়ে আলোড়ন


সিটি করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৫ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার
পূজা কমিটির সেক্রেটারীর বিরুদ্ধে চুরি মামলায় নগর জুড়ে আলোড়ন

নারায়ণগঞ্জ মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সেক্রেটারী শিপন সরকার শিখনের বিরুদ্ধে টাকা, দেবীর স্বর্ণ ও আসবাবপত্র চুরি অভিযোগে মামলা হওয়ার ঘটনায় নগর জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে রীতিমতো নগরবাসীর মধ্যে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে।

১২ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভা শেষে মানুষের ওই বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়। তবে এ মামলার বিবাদীদের বেশ কয়েকজনই জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন।

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সঙ্গে সভার আয়োজন করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক পূজার বিষয়ে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন।

বেলা সাড়ে ১১টায় সভা শুরু আগেই সেখানে উপস্থিত হন পূজা উদযাপন পরিষদ সহ বিভিন্ন মন্ডপের সদস্যরা। তাদের মধ্যে অনেকেই স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা নিয়ে পড়তে থাকেন। পরে শিপন সরকার শিখন সহ ৯জনের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় পক্ষে বিপক্ষে সমালোচনা করেন। 

মামলা বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বিবাদী শিপন সরকার শিখন, শিবু দাস সহ কয়েকজন। তাদের দাবি মামলাটি মিথ্যা ও ঘটনা সব সাজানো। পরে শিপন সরকার শিখন দ্রুত চলে যান।

প্রসঙ্গত নারায়ণগঞ্জ মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সেক্রেটারীর শিপন সরকার শিখন সহ ৯জনের বিরুদ্ধে মন্দিরের টাকা, দেবীর স্বর্ণ ও আসবাবপত্র  চুরি অভিযোগ ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী শ্রী শ্রী পাগল নাথ জিউর ও শ্রী শ্রী রামসীতা মন্দিরের সেবায়েত ও মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিবু দাস মোহন্ত। শুধু তাই নয় সনাতন ধর্মাবলম্বী হয়েও মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

কয়েক মাস আগে মামলা হলেও মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমের কাছে ওই মামলার একটি কপি আসে। কপির বিষয়ে অভিযোগ করে শিবু মোহন্ত জানান, মামলার করার পর থেকেই মামলা তুলে নেওয়া ও গণমাধ্যমে যেন না প্রকাশ পায় সেজন্য ভুক্তভোগীকে ভিন্ন ধরনের হুমকি ও চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন শিপন সরকার শিখন সহ কয়েকজন।

শিবু দাস মোহন্ত ফতুল্লা কুতুবপর পাগলা বাজার এলাকার মৃত বিহারী দাস মোহন্তের ছেলে। একই সঙ্গে তিনি শ্রী শ্রী পাগল নাথ জিউর ও শ্রী শ্রী রামসীতা মন্দিরের সেবায়েত ও মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক।

মামলার আসামীরা হলো, শিপন সরকার শিখন (৫৫), শিবু দাস (৫০), ডা. অনিল চন্দ্র দাস (৫২), শংকর দাস (৫৫), চন্দ্র জিৎ বাড়ৈ (৪৫), শ্যামল রাজবংশী (৪০), পরিমল মন্ডল (৬০), ধনু পোদ্দার (৫০), রঞ্জিত মন্ডল (৫০)।

মামলার বরাত দিয়ে শিবু দাস মোহন্ত জানান, বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ৫০০ বছরের পুরানো শ্রী শ্রী বাবা পাগলনাথ জিউ ও শ্রী শ্রী রামসীতা মন্দির। আর মন্দিরের নাম অনুযায়ী এলাকার নাম ’পাগলা’। তিনি সরকারি ভাবে বৈধ সেবায়েত এবং বংশ পরম্পরায় ১৫০ বছর ধরে মন্দিরের সেবায়েতের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

তিনি আরো জানান, মন্দিরের সম্পত্তি, টাকা ও মন্দিরের শান্তি নষ্ট করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছে একটি মহল। এজন্য সেজন্য শিবু দাস মোহন্ত  যাতে মন্দিরে ধর্মীয় কাজ না করতে পারে প্রতিনিয়ত বাধা সৃষ্টি করছে। এ ধরাবাহিকতায় গত ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর দুপুরে শিপন সরকার শিখনের নেতৃত্বে ১০০ থেকে ১৫০ জন লোক নিয়ে মন্দিরের ভিতরে জোর করে প্রবেশ করে তুলসী পুজার স্থানে জুতা রাখে, দেবীর প্রতিমার সামনে মঞ্চ করে চেয়ার বসিয়ে সমাবেশ করে। যা মন্দিরে পবিত্রতা নষ্ট করা হয়েছে ও পূজার কাজে বাধা সৃষ্টি করেছে। এর তিনদিন পর ২৮ নভেম্বর দুপুরে ৯জন আসামী সহ অজ্ঞাত আরো ৩০ থেকে ৪০ জন জোর করে মন্দিরে প্রবেশ করে মন্দিরের ট্রাংকের তালা ভেঙে ৮০ হাজার টাকা, ২টা মোবাইল, আরো মূলবান জিনিসপত্র সহ পিতলের রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ, কাগজপত্র নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় দেবীর প্রতীমার ২ ভরি স্বর্ণের ও ৭ ভরি রূপার গহনা নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ টাকা। প্রতিবাদ করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি সহ মারধর করে। এ বিষয়ে স্থানীয় ও মানুষকে জানানোর পরদিন আবারও তারা এসে মারধর করে নিলা ফুলা জখম করে। আর প্রমাণ মুছে ফেলতে মন্দিরের সিসি টিভি ক্যামেরার মেশিন ভেঙে নষ্ট করে ফেলে। পরে যাওয়ার সময় গলা টিপে ধরে হুমকি দেয় কাউকে কিছু বললে মেরে ফেলবে। পরে পরিবারের স্বজনরা উদ্ধার করে খানপুরের ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়। এ ঘটনায় ১ ডিসেম্বর ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে আসামীরা প্রভাবশালীদের মাধ্যমে পুলিশকে বাধ্য করে মামলা না নেওয়ার জন্য। পরে কোন উপায় না দেখে আদালতে মামলা দায়ের করি।

তিনি বলেন, মামলা করার পর থেকেই বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে শিপন সরকার শিখন সহ আসামীরা। তাই গণমাধ্যমের কাছে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
rabbhaban
আজকের সবখবর