rabbhaban

অস্ত্র সহ গ্রেফতার ৫ : পুলিশকে হত্যার চেষ্টার মিশনে একজন শনাক্ত


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১২:৩৫ এএম, ০১ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
অস্ত্র সহ গ্রেফতার ৫ : পুলিশকে হত্যার চেষ্টার মিশনে একজন শনাক্ত

সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি ঘটনা হলো সদর উপজেলার ফতুল্লার পাগলায় ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যাওয়া। ওই ঘটনার ৭ দিন পেরিয়ে ধীরে ধীরে সেই ঘটনার রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে।

ইতোমধ্যে ৩১ অক্টোবর বুধবার রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া এলাকার একটি আবাসিক ফ্ল্যাট বাসা থেকে অস্ত্রসহ ৫ সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৭ পয়েন্ট ৬৫ বোরের পিস্তল, ১০ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন ও ৪টি ছোড়া। পুলিশ বলছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে যাকে গত ২৩ অক্টোবর পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালানো একজন যুবকের সঙ্গে মিল রয়েছে।

শহরের নারায়ণগঞ্জ কমার্স কলেজের পাশে ৭২/৩ উত্তর চাষাঢ়া হোল্ডিং নাম্বার ৪তলা ভবনটির মালিকের নাম বাকেরউদ্দিন। ওই ভবনের চার তলার একটি ফ্ল্যাটেই জেলা ডিবি পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদেরকে আটক করেছেন। আটক করার সময় ৩ কক্ষ বিশিষ্ট ফ্লাটের ভিতরের অবস্থা ছিল অগোছালো। সারা রুম জুড়ে বিভিন্ন আসবাপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। আটককৃতদের মধ্যে একজন হলেন বাড়িওয়ালার ছেলে। তারা সকলেই একত্রিত হয়ে ফ্ল্যাটের দরজা আটকিয়ে মাদক সেবন করতো। একটি রুম থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা তারা বড় কোন মাদক চক্রের সাথে জড়িত থাকতে পারে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো বাড়িওয়ালা বাকের উদ্দিনের ছেলে বোরহান উদ্দিন (৪৫), শহরের বেপারীপড়া এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে হোসেন আলী রাজন (৪০), শহরের খানপুর এলাকার মৃত আব্দুল করিমের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৩)  ঢাকা ওয়ারী এলাকার মৃত ওয়াজির হায়দারের ছেলে সৈয়দ হাবিব হায়দার বাবু (৪৮) ও ফেনী কুন্ডা এলাকার আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে সাজ্জাদুল হোসেন (৩০)।

ডিবির পরিদর্শক মাসুদুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ২৩ অক্টোবর ফতুল্লার পাগলা মুন্সীখোলা চেকপোস্টে পুলিশকে লক্ষ্য করে যে চক্রটি গুলি করেছিল এটা সেটা তারা সেই চক্রের সদস্য। তাদের ব্যাপারে আরো খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম জানান, গ্রেফতারকৃতরা বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল। পুলিশকে গুলি করার ঘটনায় জড়িতদের সঙ্গে গ্রেফতারকৃতদের চেহারার মিল রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের গুলি ছোড়ার ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

২৩ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পাগলায় ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে চেকপোস্টে ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ কনস্টেবলের নাম সোহেল মিয়া।

ওই সময়ে চেকপোস্টে থাকা পুলিশ সদস্যদের বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম জানান, নিয়মিত ডিউটিতে ছিল আমাদের সদস্যরা। ফতুল্লা মডেল থানার এএসআই মোর্শেদ আলমের নেতৃত্বের পুলিশের একটি টিম পাগলা চেকপোস্টে তল্লাশী করছিল। ওই সময়ে রাজধানী থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত চলাচলা করা বোরাক পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-জ-১৪-২০৮৫) থামানো হয়। নারায়ণগঞ্জগামী বাসটিতে উঠে পুলিশ সদস্যরা একে একে যাত্রীদের তল্লাশী করছিল। তল্লাশীর এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীদের একজন অস্ত্র বের করলে আমাদের পুলিশ সদস্যের সঙ্গে হাতাহাতি ঘটে। তখন আমাদের এক পুলিশ সদস্যের উরুতে গুলি লাগে। পরে কয়েকজন সন্ত্রাসী নিচে নেমে আরো কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ওই সময়ে নিচে থাকা পুলিশ সদস্যরাও কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। তারা নেমে সেখানে আগে থেকে থাকা মটরসাইকেলে করে তারা পালিয়ে যায়। আমরা ধারণা করছি আগে থেকে সেখানেই থাকা মটরসাইকেলটির সাথে তাদের একটা যোগসাজস রয়েছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। আশা করি দ্রুতই সন্ত্রাসীদের ধরতে সক্ষম হবো।

এদিকে সিসি ফুটেজে দেখা গেছে ৩ সন্ত্রাসী দৌড়ে যাচ্ছে। আর তাদের জন্য আগে থেকে একটি মটরসাইকেল দাঁড়িয়ে ছিল অদূরে। চালকের মাথায় ছিল হেলমেট। তিনজন দৌড়ে ওই মটরসাইকেলে উঠে যায়। পেছন থেকে পুলিশের একজন কনস্টেবল গুলি করছে। পরে ৪জন মিলে পালিয়ে যায়।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাটি পরিকল্পিত। কারণ যাত্রীবাহী বাসে পুলিশ সদস্যকে গুলি করার পরেই নিচে নামার পরেই মটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। ফলে মটরসাইকেলের সঙ্গে ওই সন্ত্রাসীদের যোগসাজশ ও সম্পৃক্ততা রয়েছে ধারণা করা হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে পুলিশও কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লেও তাদের নাগাল পায়নি। পুলিশের ধারণা পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা অস্ত্রধারী সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর