rabbhaban

কাউন্টার জটিলতার পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বিআরটিসির বাস সংকট


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৩১ পিএম, ২৬ মে ২০১৯, রবিবার
কাউন্টার জটিলতার পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বিআরটিসির বাস সংকট

নারায়ণগঞ্জে বিআরটিসি এসি বাসের কাউন্টার চাষাঢ়ায় বসতে দিলেও বাস সংকটে পড়েছে যাত্রীরা। কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকেও বাস না আসায় দুর্ভোগে যাত্রীরা। ফলে আবারও শীতল বাসের কাউন্টারে লাইন ধরছে যাত্রীরা। এতে যেমন শীতল পরিবহন লাভবান হচ্ছেন তেমনি শুরুতেই বাস সংকটে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে পরিবহনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।

২৬ মে রোববার সকাল ১০টায় সরেজমিনে চাষাঢ়ায় বিআরটিসি বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা গেছে, শীতল পরিবহন ও হিমাচল পরিবহনের মাঝিমাঝি স্থানে গত শুক্রবার বসতে চাইলেও রোববার আর্মি মার্কেটের গেইটের সামনে বসেছে কাউন্টার। যাত্রীরা সেখানেই লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। তবে টিকেট বিক্রেতা টিকেট বিক্রি করছে না। এদিকে টিকে বিক্রি না করায় অনেকেই সেখান থেকে শীতল কাউন্টারে চলে যাচ্ছেন। আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও যখন টিকেট মিলছে না তখন ক্ষোভ প্রকাশ করছেন যাত্রীরা।

বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, টানা দুই বছর বন্ধ থাকার পর ২২ মে রাজধানী ঢাকার গুলিস্তান স্টেডিয়াম মার্কেটের ২নং গেটের কাউন্টার থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে বিআরটিসি এসি বাস চলাচলের উদ্বোধন করেন। মন্ডলপাড়া, মেট্রোহল মোড়, চাষাঢ়া, শিবু মার্কেট, জালকুড়িতে কাউন্টার ছিল। কিন্তু শুক্রবার থেকে চাষাঢ়ায় কাউন্টারে লোক বসতে দেওয়া হয়নি। একই অবস্থা ছিল শনিবারও।

ঢাকার যাত্রী ফারুখ হোসেন বলেন, ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে আছি কিন্তু একটাও বাস আসছে না। বাধ্য হয়ে টিকেট ফেরত দিয়েছি।

ঢাকার যাত্রী ফজলুল হক বলেন, বিআরটিসি বাস চালু করেছে ঠিকই। কিন্তু যাত্রী তুলনায় মাত্র ১৫টি বাস কিছুই না। এর সংখ্যা কম করেও ৪০টি হওয়া উচিত। তা না হলে যাত্রীরা অন্য কাউন্টারে যেতে বাধ্য হবে। কারণ এখন সময়ের মূল্য অনেক বেশি।

তারেক হোসেন বলেন, এমনিতেই অন্য পরিবহনগুলো চায় না এ সড়কে বিআরটিসি বাস চলাচল করুক। কারণ বিআরটিসি বাস চলাচল করলে তারা যাত্রী পাবে না। কারণ সরকারি বাস এমনিতে ভাড়া কম ও সুবিধাও বেশি। আর সেই জায়গায় বিআরটিসিকে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই বাসের সংখ্যা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে সার্ভিস ভালো করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এখন যদি বাসের সংখ্যা না বাড়ানো হয় তাহলে বুঝতে হবে বিআরটিসি আসলে সেবার মানসিকতা নিয়ে রাস্তায় নামেনি। বরং যাত্রীদের দুর্ভোগ ও মিথ্যা আশ্বাস দিতে নামানো হয়েছে। তাই অবিলম্বে আরো সংখ্যাক বাস নামানো উচিত।

টিকেট বিক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, রোববার সকাল থেকেই চাষাঢ়ায় কাউন্টার বসাতে পেরেছি। এর মধ্যে কয়েকবার পুলিশ এসে দেখেও গেছে। তবে আমরা শীতল ও হিমাচলের মাঝামাঝি যেখানে বসতে চেয়েছিলাম সেখানে বসতে দেয়া হয়নি। তবে এখন আমাদের পরিবাহন মাত্র ১৫টি তার মধ্যে ১১টি নতুন ও ৪টি পুরাতন। ফলে আমরা এখন আর্মি মার্কেটের সামনেই বসছি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতনরা কথা বলছে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নিবে।

তিনি আরো বলেন, পরিবহন কম থাকায় সকালেই সব বাস ঢাকায় চলে গেছে। সেগুলো না আসা পর্যন্ত যাত্রীদের টিকেট দেয়া হচ্ছে না। এজন্য যাত্রী এসেও ফেরত যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি তারা বলেছে ব্যবস্থা নিবে।

নারায়ণগঞ্জের বিআরটিসি ডিপো ম্যানেজার কামরুজ্জামান অভিযোগ করেন, শুক্রবার ও শনিবার বাসতে না দিলেও রোববার থেকে কাউন্টার বসেছে। তবে আজ কোন বাধা দেয়নি।

তিনি বলেন, নতুন সার্ভিস তাই ১৫টি বাস এ রোডে চলাচল করছে। দ্রুত এ সংখ্যা বাড়ানো হবে। তখন যাত্রীদের তেমন কোন অভিযোগ থাকবে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর