rabbhaban

এসপির এক অভিযানেই সফল, ধরে রাখার পালা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৫৩ পিএম, ১৬ জুন ২০১৯, রবিবার
এসপির এক অভিযানেই সফল, ধরে রাখার পালা

মাত্র একদিনের অভিযানেই বদলে গেছে গোটা নারায়ণগঞ্জের ফুটপাতের দৃশ্য। নেই কোন দখলবাজ হকার, নেই গাড়ি পার্কিং, নেই দোকানদারের মালামালও। একজনের সঙ্গে অন্য জনের গায়ে গাঁ লাগছে না। মুক্ত ফুটপাতে স্বস্তিতে হেঁটে বেঁড়াচ্ছেন সাধারণ পথচারীরা। আর এতে নগরবাসী অভিনন্দন জানিয়েছে এসপি হারুন অর রশিদকে। তবে একদিনের এ অভিযানেই সফল হলেও কতদিন এমনটা ধরে রাখতে পারবেন সেটাই প্রশ্ন উঠেছে নগরবাসীর মধ্যে। কেন না ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর থেকে এমনই অভিযান চালিয়ে ছিলেন তৎকালীন পুলিশ সুপার মঈনুল হক। কিন্তু টানা দুই সপ্তাহ টিকে থাকলেও ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি সংঘর্ষের পর আবারও পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে নগরী। আবারও রূপ নেয় চিরচেনা নগরীতে। তবে বর্তমান এসপি হারুন অর রশিদ ঘোষণা দিয়েছেন ফুটপাত হকার মুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি সাধারণ মানুষের জন্য শান্তিপূর্ণ নগর উপহার দিতে চান।

উল্লেখ্য পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ১৫ জুন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে নগরীর ফুটপাত দখল মুক্ত করতে অভিযান শুরু করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। শহরের চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর থেকে শুরু করে দুই ভাগে দুই শতাধিক পুলিশ এক সঙ্গে পূর্ব ও পশ্চিমের ফুটপাতে অভিযান শুরু করে। তবে ওইদিন সকালে বৃষ্টি ও মেঘলা আকাশ থাকায় এমনিতেই নগরী ছিল অন্য দিনের তুলনায় ফাঁকা। এর মধ্যে যেসব হকাররা তাদের চেয়ার টেবিল আগের দিনের বিক্রি শেষে টেলিফোন কিংবা বিদ্যুতের খুটির সঙ্গে তালা দিয়ে বেঁধে গিয়েছেন তাদের সেইসব আসবাবপত্র ভেঙে ফেলা হয়েছে। আবার কিছু আসবাবপত্র তুলে নেয়া হয়েছে গাড়িতে জব্দ হিসেবে। আবার যাদের দোকান খোলা ছিল এবং তাদের মালামাল ফুটপাতে রাখার কারণে হুশিয়ারী দেয়া হয়েছে। দ্রুত সরিয়ে নিতে আল্টিমেটামও দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও অভিযানে ছিল দুই চাকার সাইকেলের উপর পুলিশের নিষ্ঠুরতা আবার ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়ির প্রতি উদারতার দৃশ্য। রাস্তার পাশে ফুটপাতে পার্কিং করে রাখা সাইকেলগুলোর চাকার হাওয়া ছেড়ে দিতে দেখা যায় পুলিশকে। তবে ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়িগুলো রাস্তার পাশে ও ফুটপাতে পার্কিং করে রাখলেও তার চালক কিংবা মালিককে সরিয়ে নিতে বলা হয়। এক্ষেত্রে তাদের কোন জরিমানা কিংবা শাস্তি দেয়া হয়নি। আর এ অভিযান করতে গিয়ে নগরীর বাসিন্দাদেরও ও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কেন না এসপির গাড়ি এ অভিযানে আসবে বলে রাস্তায় সিগন্যাল দেয় ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা। এতে করে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হতে দেখা যায়। এ যানজট দুই নং রেল গেট থেকে ক্লাব মার্কেটের সামনে পর্যন্ত চলে আসে। তবে এসব কিছুই হয়েছে নগরবাসীর জন্য।

১৬ জুন রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই ছিল চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর থেকে মন্ডলপাড়া ব্রীজ পর্যন্ত ফুটপাতে কোন দখলদার নেই। এমনকি ডিআইটি এলাকায় ইলেকট্রনিক দোকানের পণ্যও ফুটপাতে রাখেনি কোন দোকানদার। এছাড়াও ছোট ছোট গাছের চারা বিক্রি করতেও দেখা যায়নি ক্লাব মার্কেটের সামনে। আর সব থেকে বড় যে নগরীতে সকাল থেকেই ছিল না রিকাশা কিংবা যানবাহনের চাপ। নেই কোথাও অবৈধ পার্কিংও। ফলে ঈদের ছুটির মতোই ছিল নগরীর রাস্তাঘাট। তবে রোববার এমন পরিবর্তনের জন্য নগরবাসী শনিবারে পুলিশের অভিযানকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছেন।

দিগুবাবুর বাজারের আসা ক্রেতা রহমতউল্লাহ বলেন, অনেক দিন পর চাষাঢ়া থেকে হেঁটে দিগুবাবু বাজারে আসলাম। হেঁটে এসে যেন শান্তি পাচ্ছি। রিকশার জঞ্জাল নেই। ফুটপাতও ফাঁকা। এ যেন একটা শান্তির শহরই উপহার দিয়েছেন পুলিশ সুপার। কিন্তু এটা তিনি কতদিন ধরে রাখতে পারবেন সেটাই এখন দেখার পালা। 

তিনি বলেন, নগরীতে তিনজন প্রধান ব্যক্তি আছেন। দুইজন এমপি ও একজন মেয়র। কিন্তু তারা কেউ নগরবাসীর সুবিধার জন্য চিন্তা করেন না। একে অন্যের দোষ খুঁজেন। একে অন্যকে হেয় করে ব্যক্ত দিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি করেন। কিন্তু নগরবাসী মূলত কি চায় সেটা কেউ খোঁজ রাখেন না। এর আগেও যখন এসপি রাস্তা ঘাট ফাঁকা করেছিলেন তখনই মেয়র ও এমপিদের মধ্যে সংঘর্ষেই আবারও নগরীতে হাকার বসেছে। তারপর থেকে মেয়রও যেন এসব বিষয়ে কথা বলতে নারাজ। তাই এবারও চিন্তা কতদিন এসপি একা এটা ধরে রাখতে পারেন।

গলাচিপা এলাকার বাসিন্দা রবিন মিয়া বলেন, পুলিশের এক অভিযানের কারণে শহরের গাড়ি পার্কিং নাই, অবৈধ রিকশা নাই। ঠান্ডা ও শান্ত একটা পরিবেশ। সকাল থেকেই মনে হচ্ছে এ যেন এক অন্যরকম নারায়ণগঞ্জে বসাবাস করছি। এজন্য অবশ্যই এসপি সাহেবই ধন্যবাদের পাপ্য।

শুধু নগরবাসী নয় এসপির এমন কর্মকান্ডের প্রশসংসা করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হয়াৎ আইভী। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পুলিশের অভিযানে শহর যখন ফাঁকা। তখনই গাড়ি নিয়ে বঙ্গবন্ধু সড়ক হয়ে ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় একটি প্রীতি ফুটবল খেলার অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণের জন্য যান মেয়র আইভী। যাওয়ার পথে নিজেই প্রত্যক্ষ করেন এসপির কর্মকান্ডের।

আর তাই সন্ধ্যায় ওই সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আইভী বলেন, ‘এসপি সাহেবকে অনুরোধ করবো, আপনি এখানে আসার পর নারায়ণগঞ্জে বেশ কিছু ভাল কাজ করেছেন জনগণের পক্ষে। আপনি নারায়ণগঞ্জবাসীকে হাঁটার জন্য উন্মুক্ত জায়গার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

উচ্ছেদ অভিযান শেষে চাষাঢ়া শহীদ মিনারে ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করা হয় ‘পূর্বেও অভিযান করা হয়েছিল কিন্তু এ অভিযান কিছুদিন পর আর থাকে না। তখন নগরীর ফুটপাত আবারও দখল হয়ে যায়।’

জবাবে এসপি হারুন অর রশিদ বলেন, ফুটপাত হকার মুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সাধারণ মানুষের জন্য শান্তিপূর্ণ নগর উপহার দিতে চাই। এজন্য পুলিশের সদস্যরা গোয়েন্দা তদারকি করবে। কেউ যদি এখানে হকারদের বসাতে চেষ্টা করে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আরা যারাই হকারদের বসাতে চেষ্টা করবে তাদের কাছে অনুরোধ অন্য কোথাও তাদের জায়গা দিয়ে বসানোর ব্যবস্থা করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর