rabbhaban

গুড়িয়ে দেওয়া হলো রহমতউল্লাহ ইন্সটিটিউট ভবন (ভিডিও)


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৪:৫২ পিএম, ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার
গুড়িয়ে দেওয়া হলো রহমতউল্লাহ ইন্সটিটিউট ভবন (ভিডিও)

দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলার পর নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং রেল গেইট সংলগ্ন অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা রহমতউল্লাহ মুসলিম ইন্সটিটিউট ভবন গুড়িয়ে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন।

২০ জুন বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিন হায়াত আইভীর ব্যক্তিগত সহযোগি আবুল হোসেনের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন নাসিকের পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক শ্যামল পাল।

স্থানীয়রা জানান, মুসলিম সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য ১৯৪৩ সালে রহমত উল্লাহ নামে তৎকালীন মহাকুমার প্রশাসক টিনের ঘর নির্মাণ করে রহমত উল্লাহ মুসলিম ইন্সটিটিউট গঠন করা হয়। স্বাধীনতার আগে ও পরে এখানে নাটক, সঙ্গীত, আবৃত্তি সহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে এখানে টিনের ঘরের পরিবর্তে ৩ তলা ভবনটি নির্মাণ করা হয়। আর এ ইন্সটিটিউটের সভাপতি হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক। কিন্তু ভবনটি রাস্তার মধ্যে হওয়ায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হতো। ফলে যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ৫০ গজ দূরে রহমত উল্লাহ মুসলিম ইন্সটিটিউট শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করে দেয়া হয়। আর সেইখানে ইন্সটিটিউটের কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়ার জন্য আহবান জানানো হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেটা না করে নতুন ভবনটিতে দোকান ভাড়া দিয়ে পুরাতন ভবনেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। আর তখন থেকেই যানজট নিরসনে ভবনটি উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন।

নাসিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা ভবনটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছিল নাসিক। কিন্তু মামলার কারণে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে পারেনি। সম্প্রতি নাসিকের পক্ষে মামলার রায় আসায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় নাসিক।

ভবনটিতে কনফেকশনারী, ফ্রিজ, এসি, সেলাই মেশিন, টেইলার, সুতা, রাবারের দোকান সহ প্রায় ৩৫টি দোকান ছিল। প্রতিটি দোকানেই লাখ টাকার পন্য ছিল বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের দাবি তাদের কোনো সময় দেওয়া হয়নি। সকাল বেলা ভবন ভাঙ্গার জন্য এক্সকাভেটার নিয়ে এসে সরাসরি ভাঙ্গা শুরু করে। ব্যবসায়ীরা কোনো মালামাল সরাতে পারেননি। এতে করে ক্ষতির মুখে পরেছেন ব্যবসায়ীরা।

পপুলার ফুড কর্ণারের মালিক মো. দুলু মিয়া নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, সকালে বাসায় ছিলাম। হঠাৎ একজন ফোন দিয়ে বলে ভবন ভাঙ্গা হচ্ছে। দৌড়ে এসে দেখি কিচ্ছু নেই। ভাঙ্গা শুরু হয়ে গেছে। আমার দোকান নিচ তালায় থাকায় সবার আগে আমার দোকান ভাঙ্গা পরেছে। ভিতরে লক্ষ টাকার মালামাল, টিভি, ফ্রিজ ছিল কিছুই বের করতে পারিনি। সব শেষ।

অভিযান প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য মেয়র আইভীর পিএস আবুল হোসেনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আলমগীর হিরণ জানান, ৬ মাস ধরে তাদের দোকান সরিয়ে নেওয়ার জন্য আহবান জানানো হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সেটা করেনি। যখন তারা দোকানের আসবাবপত্র ও মালামাল সরিয়ে নিচ্ছিল না তখনই অভিযান শুরু হয়। তাছাড়া সকালে অভিযান শুরুর আগেও ২ ঘণ্টা সময় দেয়া হয়। তাদের অভিযোগ মিথ্যা।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এহেতেশামুল হক বলেন, দেওভোগ এলাকার সড়কটি প্রশস্ত করার জন্য ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে শহরের যানজট কমে আসবে।

রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউটের সেক্রেটারী আজগর হোসেন জানান, ভবনটি রাস্তার মধ্যেই ছিল। সিটি করপোরেশন উচ্ছেদের জন্য বলেছিল আমরা সময় চেয়েছিলাম। এছাড়াও আমাদের অন্য একটি ভবন রয়েছে। সেখানেই কার্যক্রম স্থানান্তর করা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর