পলিথিনে জলাবদ্ধতায় নগরবাসী


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৯ পিএম, ১৭ আগস্ট ২০১৯, শনিবার
পলিথিনে জলাবদ্ধতায় নগরবাসী

ঈদের আগে বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশে অবস্থিত বিপনী বিতান ও হকারদের ফেলে দেওয়া পলিথিনে আবারো ভরে গেছে বঙ্গবন্ধু সড়কের ড্রেন। ফলে অকার্যকর অবস্থায় চলে গেছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। ফলে অল্প বৃষ্টি হলেই শহরে তৈরি হচ্ছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা যা স্থায়ী হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এতে করে ঈদের আমেজ শেষ হতে না হতেই আবারো দুর্বিষহ দুর্ভোগে পরেছে নগরবাসী।

জানা যায়, এবারের ঈদের সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই মার্কেটগুলো পুরোপুরি জমজমাট হয়ে যায়। একই সাথে ঈদের পূর্ব মুহূর্তে প্রশাসন কিছুটা শিথিল হলে বিকেল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে ব্যবসায় পরিচালনা করে হকাররা।

বিক্রি শেষে বিপনীবিতান ও হকাররা অতিরিক্ত পলিথিন সড়ক ও ফুটপাতের উপর ফেলে দিয়ে চলে যায়। ধীরে ধীরে এই পলিথিন জমথে থাকে ড্রেনগুলোতে। প্রতিদিন এভাবে চলতে চলতে একসময় বন্ধ হয়ে যায় ড্রেনের মুখ। এতে করে ঈদ শেষ হতে হতে একেবারে বন্ধ হয়ে যায় ড্রেনের মুখ। ফলে এখন সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরী হচ্ছে।

১৭ আগস্ট শনিবার সরেজমিনে দেখা যায় এমন চিত্র। দুপুরে একটু বৃষ্টিতেই শহর জুড়ে তৈরী হয় জলাবদ্ধতা। বৃষ্টি শুরুর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু সড়ক হাটু পানিতে তলিয়ে যায়। আর সেই পানিতে থৈ থৈ করে ভাসতে দেখা যায় পলিথিনের জঞ্জাল যা ড্রেনের মুখ বন্ধ করে রেখেছে। এসব পলিথিনের কারণে ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পানি নিষ্কাশন হয় না। এতে করে ঈদের আনন্দের মাঝেই জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এদিকে কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।

এ প্রসঙ্গে পথচারী আনোয়ার হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ঈদের আগে থেকেই এমন একটা পরিস্থিতি তৈরী হতে পারে ভেবে রেখেছিলাম। কারণ ঈদের আগে অফিস থেকে রাতে যখন বাসায় ফিরতাম তখন শহরটাতে পলিথিনে ভরে থাকতে দেখতাম। স্বাভাবিক ভাবেই যা বৃষ্টির পানির সাথে ড্রেনে গিয়ে পরবে আর ড্রেনের মুখ বন্ধ করে দিবে। গ্রাম থেকে ফিরতে না ফিরতেই সেই সমস্যার সম্মুখীন হলাম। সকালে গ্রাম থেকে এসে একটা কাজে দুপুরে শহরে এসে দেখি শহরে জলাবন্ধতা। সড়কের উপর দিয়ে পলিথিন ভাসছে। আমার মনে হয় এই জলাবদ্ধতা ঘন্টার পর ঘন্টা থাকলেও পানি নামবে না।

কলেজরোড এলাকার বাসিন্দা পূর্ণিমা সেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, এমনিতেই দেশ জুড়ে ডেঙ্গু আতঙ্ক। তার উপর জায়গায় জায়গার পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরী হয়ে আছে। এই ড্রেনের পানিদে যদি তিনদিনের বেশি পানি জমে থাকে তাহলে এখানেও এডিস মশা জন্মাবে। আর এখান থেকেও এডিম মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগ ছড়িয়ে পরতে বেশি দিন লাগবে না।

তিনি আরো বলেন, যারা এই পলিথিনগুলো ফেলছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। যেসব মার্কেট থেকে পলিথিন ফেলা হচ্ছে তাদেরকে বড় অঙ্কের জরিমানা করা দরকার। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের কাছে অনুরোধ করব যত দ্রুত সম্ভব ড্রেন তকে পলিথিন অপসারণ করবেন। যাতে দ্রুত এই পানি নামতে পারে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর