rabbhaban

নারায়ণগঞ্জে ৭ দিনে দুই খুন এক লাশ


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:১০ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০১৯, রবিবার
নারায়ণগঞ্জে ৭ দিনে দুই খুন এক লাশ

নারায়ণগঞ্জে সপ্তাহের ব্যবধানে ফের ৩ লাশ ঝরেছে। এর মধ্যে ২টি হত্যাকান্ডের ঘটনা রয়েছে। এছাড়া বাকি ১টি লাশ উদ্ধারের ঘটনার মোটিভ হত্যাকান্ডের দিকে ইঙ্গিত করছে। এতে করে খুন আতঙ্কে পুরো জেলায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

৭ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া খুন ও লাশ উদ্ধারের ঘটনার সচিত্র তুলে ধরা হল। এ সপ্তাতে ২টি খুন ও একটি লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।

১৪ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে ঈদ উল আজহার ছুটিতে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঈদের দিন ভোরে সদর উপজেলার ফতুল্লার পাগলা রেলস্টেশন এলাকায় রাকিব (২২) নামের যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বখাটেদের বিরুদ্ধে। রাকিব ফতুল্লার নয়ামাটি মুসলিমপাড়া এলাকার মজিদ হাওলাদারের বাড়ির ভাড়াটিয়া নওশেদ বেপারীর ছেলে। সে এলাকার একটি দোকানে পুরাতন টিন কেনাবেঁচা করতো।

হত্যাকান্ডের সময় রাকিবের সঙ্গে থাকা বন্ধু আব্দুল্লাহ জানান, ভোর ৪টায় কেনাকাটা শেষ করে বাড়ি ফিরছিল রাকিব ও আবদুল্লাহ। তাদের বহন করা রিকশা পাগলা রেলস্টেশন এলাকায় আসলে একই এলাকার মানিক সহ ৪/৫ জন পথরোধ করে রিকশাটি আটকায়। তখন দুর্বৃত্তরা রাকিবকে চোর আখ্যায়িত করে ধাওয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

১৩ আগস্ট সকালে নারায়ণগঞ্জে ঈদ উল আজহার ছুটিতে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে সেবিকার লাশ উদ্ধার করা হয়। লঞ্চ টার্মিনাল ঘাট এলাকা থেকে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সেবিকা নাজনীন আক্তারের (২২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সোমবার সকাল থেকে নিখোঁজ ছিল। সেদিন বিকেলে নাজনীনের বাবা গোলাম শিকদার বন্দর থানায় একটি জিডি করেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এস আই ফয়সাল হাওলাদার জানান, নদীতে লাশ ভেসে উঠলে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। মৃত্যুর কারণ ময়না তদন্তের আগে বলা যাচ্ছে না।

১০ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসায়ীদের গণপিটুনিতে জুম্মন নামে আরেক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। দুপুর দেড়টায় উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের পূর্ব দেলপাড়া এলাকায় এঘটনা ঘটে। জুম্মনকে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় জুম্মনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত জুম্মন কুতুবপুর ইউনিয়নের দেলপাড়া রঘুনাথপুর এলাকার কাইয়ূমের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় মাদক ও চুরিসহ অন্তত ৫টি মামলা রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্ব দেলপাড়া এলাকায় একটি বাড়ির সামনে জুম্মন দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় একই এলাকার কালুর ছেলে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মারুফ লোহার শাবল নিয়ে এসে জুম্মনকে এলোপাথাড়ি পিটাতে থাকে। এসময় জুম্মনের সঙ্গে যোগ দেয় আরো ৫ থেকে ৭ জন। এরপর সকলে মিলে প্রকাশ্যে গণধোলাই দেয় জুম্মনকে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে সে মারা যায়।

ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার এসআই ইলিয়াস জানান, মাদক ব্যবসার বিরোধের জের ধরে কয়েকজন মিলে জুম্মনকে গণধোলাই দিয়ে হত্যা করেছে। জুম্মনের মৃতদেহ ঢাকা মেডিকেলে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হত্যাকান্ড ও লাশ উদ্ধারের ঘটনায় প্রিয়জন হারা স্বজনদের আহাজারিতে বুক ভাসাচ্ছে। যেকারণে খুন আতঙ্ক নারায়ণগঞ্জবাসীকে ঝাপটে ধরেছে। আর সেই আতঙ্ক তাদের কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর