rabbhaban

নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ খেয়াঘাটের বেহাল দশা :এমপি মেয়র কেউ উদ্যোগ নেয় না


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৫ পিএম, ২৪ আগস্ট ২০১৯, শনিবার
নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ খেয়াঘাটের বেহাল দশা :এমপি মেয়র কেউ উদ্যোগ নেয় না

সরকারি হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ এবং গার্মেন্টস এর মত অধিকাংশ শিল্প প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ শহর কেন্দ্রীক। শহর থেকে বন্দরকে আলাদা করেছে শীতলক্ষ্যা নদী। ফলে প্রতিদিন চিকিৎসা, পড়ালেখা বা কাজের জন্য শহরমুখি হতে হয় বন্দরবাসীর। শীতলক্ষ্যা নদী পার হয়ে বন্দরের মানুষের শহরে যাতায়াতের অন্যতম পথ হচ্ছে নবীগঞ্জ-হাজীগঞ্জ ঘাট। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ নদী পথের এই ঘাট দিয়ে যাতায়াত করে। তবে ঘাট ব্যবস্থাপনার কোনো কমিটি না থাকায় প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বন্দরবাসীকে। বিশেষ করে রোগী এবং বয়ষ্কদের কাছে ঘাটটি এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, ২০১৭ সালের মার্চ থেকে নবীগঞ্জ-হাজিগঞ্জ ঘাট ‘টোল ফ্রি’ ঘোষণা করেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান। ওই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারী বন্দর নবীগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত কদমরসুল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর পর থেকে ‘টোল ফ্রি’ হিসেবে চলছে ঘাটটি।

সকলের প্রত্যাশা ছিল টোল ফ্রি ঘোষণার পর দুর্ভোগ কমবে বন্দরবাসীর। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে তার উল্টো। টোল ফ্রি ঘোষণার পর থেকে ঘাটটি হয়ে পড়েছে একেবারে অভিভাবক শূন্য। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ছাউনি আর এমপির পক্ষ থেকে টোল ফ্রি ঘোষণার পর এই ঘাটের যাত্রীদের খোঁজ রাখেনি কেউ।

ফলে ঘাটের জেটি ভেঙ্গে গুড়িয়ে গেলেও মেরামতের পদক্ষেপ নেয়ার মানুষ নেই। অবহেলায় পরে থাকতে থাকতে এখন তা বড় ধরনের ভোগান্তির রূপ নিয়েছে। যুবকেরা একটু কষ্ট করে চলাচল করতে পারলেও রোগী এবং বয়স্কদের জন্য এই জেটি দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

২৪ আগস্ট সরেজমিনে দেখা যায় এই চিত্র। ঘাটটিতে স্থায়ী কোন জেটি নেই। এর বদলে বাঁশ কাঠ এবং রশি দিয়ে বেঁধে তৈরী করা হয়েছে অস্থায়ী জেটি। জেটির জায়গায় জায়গায় কাঠ নেই। স্থায়ী কোনো পিলার না থাকায় চলাচলের সময় ভয়ংকরভাবে দুলতে থাকে। যা বয়স্ক ও শিশুদের মাঝে আতঙ্ক তৈরী করে।

অপরদিকে ঘাট নির্মাণের পর কোনো থেকে কোনো রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা না করায় সিঁড়ি ক্ষয়ে প্রায় সমান ঢালের মত হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানিতে পিচ্ছিল হয়ে অনায়াসেই পিছলে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। আর ঘাটটি এমন অবস্থাতেই চলছে বছরের পর বছর ধরে।

ভোগান্তি প্রসঙ্গে এই ঘাট দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী বন্দরের বাসিন্দা ওমর ফারুক নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘এই সমস্যা আজকের না। বহু বছর ধরে এই সমস্যা। এমপি সাহেব, মেয়র মহোদয় সবার কাছেই জানানো হইছে। কিন্তু কাউকেই কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখছি না।’’

আলি হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘যারা যুবক তাঁরা চলাচল করতে পারে। কিন্তু অনেকের ছোট বাচ্চা নিয়ে আসে, ব্যাগ নিয়ে আসে, কেউ রোগী নিয়ে পার হয়। বৃদ্ধ মহিলা পরুষ আছে সবাইতো এই জেটি দিয়েই পার হয়। তাদের ভোগান্তি মুখে প্রকাশ করার মত না। প্রতিনিয়ত জেটির ফাকাতে পা দিয়ে পরে গিয়ে আহত হয়। আবার অনেকের দেখেছি পরে গিয়ে মোবাইল ক্যামেরা সহ দামি জিনিস নদীতে পরে গেছে। এই ক্ষতিপূরণ কি কেউ দিবে?’’

মাঝিদের সাথে কথা বলে জানা যায় ট্রলার ও খেয়া নৌকা মিলিয়ে প্রায় ৫০টি নৌকা এখানে চলাচল করে। অধিকাংশ মাঝির নিজস্ব কোনো ট্রলার নেই। সাবাই নৌকা ভাড়া নিয়ে চালায়।

এদিকে ঘাটের ইজারা না দেওয়ায় ঘাট দেখাশোনার জন্য কেউ নেই। একেবারে অচলাবস্থা তৈরী হলে মাঝে মাঝে মাঝিদের উদ্যোগে জেটি ঠিক করা হয়। কিন্তু মাঝিদের আয় স্বল্প হওয়ায় বড় ধরনের বাজেট নিয়ে কাজ করতে পারেন না তারা। তাই অল্প দিনেই আবার আগের অবস্থায় চলে যায়।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক মাঝি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, দৈনিক যে টাকা আয় হয় এর অর্ধেকের বেশি দিতে হয় ট্রলার মালিককে। এরপর নিজের খরচ, ফ্যামিলির খরচ। দিন শেষে দেখা যায় এই কাজের জন্য টাকা থাকে না। তারপরেও নিজেরাই টাকা তুলে মাঝে মাঝে মেরামত করাই। কিন্তু মালিক পক্ষ আমাদের এই কাজে কোনো সহযোগীতা করে না। সিটি কর্পোরেশন থেকেও কোনো সহযোগীতা করে না। তাই বড় ধরণের কাজ করাতে পারি না। স্থায়ী ভাবে পিলার না বসিয়ে বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী পিলার তৈরী করে যতদিন চলবে ততদিন ভোগান্তি থাকবেই।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর