rabbhaban

পুলিশের বাধা নাই : ফের ফুটপাত হকারদের দখলে


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৪৭ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার
পুলিশের বাধা নাই : ফের ফুটপাত হকারদের দখলে

ঈদের পর আবারও দখল নিয়েছে ফুটপাত। রাস্তার দুই পাশের ফুটপাত দিয়ে চলাচল আবারও বন্ধ হওয়ার উপক্রম। অবাধে কয়েক মাস চলাচল করলেও আবারও পূর্বের চিত্রে ফিরেছে নগরীর ফুটপাত। নেই পুলিশের কোন তৎপরতাও। কিন্তু মানুষের দুর্ভোগ আবারও বেড়েছে। অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহবান নগরবাসীর।

২৫ আগস্ট  রোববার বিকেলে সরেজমিনে শহরের চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে এ দৃশ্য। দৃশ্য যেন প্রশাসনের প্রভাব নেই বললেই চলে।

দেখা যায়, চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর এলাকার সব থেকে জনপ্রিয় স্থান হলো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। আর এ শহীদ মিনারকে ঘিরে চারদিকেই বসানো হয়েছে অস্থায়ী খাবার দোকান। ফলে এসব খাবার দোকানের ভীড়ে মানুষ চলাচলের ফুটপাত বন্ধ হওয়ার উপক্রম। চলাচল করতে গেলেই একজন আরেকজনের শরীরে সঙ্গে লেগে যায়। এতে পুরুষের চেয়ে দুর্ভোগ বেশি নারীদের। এ দৃশ্য শুধু চাষাঢ়া এলাকায় নয়। চাষাঢ়া থেকে দুই নং রেল গেট এলাকা পর্যন্ত একই অবস্থা।

শুধু ফুটপাত নয় চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর এলাকায় আবারও সিএনজি, অটোরিকশা সহ লেগুনার অবৈধ স্ট্যান্ডও। ফলে এসব যানবাহনের অবৈধ পার্কিংয়ে রাস্তায় প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ভোগান্তি বাড়ছে যাত্রীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৫ জুন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে কয়েক শতাধিক পুলিশের অভিযানে নগরীর ফুটপাত ফাঁকা করা হয়। ফুটপাত দখলে রাখা হকারদের টেবিল, চেয়ার, প্লাস্টিক সহ বিভিন্ন আসবাবপত্র জব্দ করা হয়। যার টানা ঈদ পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। কিন্তু ঈদ শেষ হওয়ার দুই সপ্তাহ না যেতেই আবারও বসতে শুরু করেছে হকাররা। দখল নিতে শুরু করেছে দোকানদারও। আর এজন্য হকার নেতা, পুলিশ সহ বিভিন্ন জনকে দিন প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। তবে সেটাও নেতাদের হাত দিয়েই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাষাঢ়া শহীদ মিনারে ফোসকা বিক্রেতা বলেন, পুলিশের চাপে বেশ কিছুদিন বসতে দেয়নি। কিন্তু কিছু হকার নেতারা পুলিশকে ম্যানেজ করেছে। এখন বসতে হলে প্রতিদিন দোকান অনুপাতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। টাকা না দিলে পুলিশ এসে উঠিয়ে দেয়। আর টাকা দিলে কেউ কোন বাধা দেয় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহীদ মিনারের সামনে খাবার বিক্রেতা বলেন, নাম লিখবেন তো কালই আমাকে এখান থেকে উঠিয়ে দিবে। দোকান বসতে দিবে না। আর আমরা তো ব্যবসা করি টাকা নিলেও তো বসতে পারি। টাকা নেয় নেতারা। পুলিশ আসে না। নেতারাই নাকি পুলিশকে ম্যানেজ করেছে। তারাই আমাদের কাছ থেকে যে টাকা নেয় সেটা পুলিশকেও দেয়। কিন্তু কতটা কোন পুলিশকে দেয় সেটা জানি না।

চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা আবুল হাসান বলেন, কয়েক মাস স্বস্তিতে ছিলাম। কিন্তু ঈদ না যেতেই আবারও দখল করে নিয়েছে ফুটপাত। আবারও পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সেটাই আশা করি। তবে এরজন্য স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজন। এভাবে একবার বসবে আবার পুলিশ এসে উচ্ছেদ করবে সেটা হয় না। তাই পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও এমপিদেরও উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। তবেই নগরবাসী স্বস্তি পাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর