rabbhaban

৫ ফেরির ৪টি অকেজো, ফেলে রাখায় চুরি


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০৪ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০১৯, বুধবার
৫ ফেরির ৪টি অকেজো, ফেলে রাখায় চুরি

শীতলক্ষ্যার বুকে ভাসমান অবস্থায় পরে থাকতে থাকতে ৫টি ফেরির ৪টিই এখন একেবারে অকেজো অবস্থায় পরে আছে। যে একটি ফেরি চলছে সেটিও লক্কর ঝক্কর অবস্থায় আছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ৪টি ফেরির ৮টি ইঞ্জিন একেবারে বাতিল হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ঘাটে পরে থাকায় প্রতিদিন ফেরির পাত ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি হচ্ছে। এমতাবস্থায় সরকারি সম্পত্তি রক্ষার্থে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, বন্দরবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে শীতলক্ষ্যা নদীতে দুই ধাপে চালু করা হয় ফেরি সার্ভিস। প্রথম ধাপে গত বছরের ১৪ জুন হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ রুটে ৩টি ফেরির উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান।

দ্বিতীয় ধাপে ২১ আগস্ট নবীগঞ্জ-৫নং ঘাট রুটে আরো ২টি ফেরি দিয়ে ফেরি সার্ভিস উদ্বোধন করেন তিনি।

প্রতিটি ফেরিতে দুইটি করে ইঞ্জিন থাকে। ৪টি ফেরির দুইটি করে মোট ৮টি ইঞ্জিন অকেজো হয়ে গেছে। এখন শুধু ৭নং ফেরির ইঞ্জিন ভালো আছে। এই একটি ফেরি দিয়েই পারাপার করা হচ্ছে এই ঘাটে। ৪৭নং, ১১নং, ২নং ফেরি অকোজো হওয়ার পর থেকে ফেলে রাখা হয়েছে হাজীগঞ্জ ঘাটে। ২৫নং ফেরি ফেলে রাখা হয়েছে নবীগঞ্জ ঘাটে। দীর্ঘদিন ফেলে রেখে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ না করায় প্রতিদিন ঘটছে চুরির ঘটনা।

সর্বশেষ ২৮ আগস্ট দুপুর আড়াইটায় হাজীগঞ্জ ঘাটে নোঙর করে রাখা ফেরিতে চুরির ঘটনা ঘটে। সবার অগোচরে হ্যাক্সো ব্লেড দিয়ে ফেরির ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ তামার তাঁর কাটছিল চোর। এসময় স্থানীয় ছেলেরা সেখানে ঘুরতে গেলে তাদেরকে দেখে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পাড়ে থাকা কচুরিপানায় লুকায় চোর। বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগে জানানো হলে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করেও চোরকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় যুবক আকাশ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, বন্ধুদের সাথে হাঁটতে হাঁটতে ফেরির কাছে এসে কিছু কাটার আওয়াজ পাই। উকি দিয়ে দেখি ফেরির ইঞ্জিন থেকে কিছু কেটে ফেলা হচ্ছে। প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো ফেরি মেরামত করা হচ্ছে। কিন্তু কাছে গিয়ে সন্দেহ হওয়াতে ‘কি করছেন এখানে?’ জিজ্ঞেস করার সাথে সাথে দৌড় দেয়। আমরা গেঞ্জি টেনে ধরলে গেঞ্জি ছিড়ে পালিয়ে নদীতে ঝাপ দেয়।

ফেরির স্টাফ সিদ্দিক নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, হ্যাক্সো ব্লেড দিয়ে ফেরির দুই ইঞ্জিনের তাঁর কেটেছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে ফোন করে জানিয়েছি। তারা এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।

তিনি আরো বলেন, চুরির ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও বহুবার চুরি হয়েছে। একটি ফেরি থেকে অল্টারনেটর চুরি করা হয়েছে যা ছাড়া ইঞ্জিন চলে না। কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। থানায় মামলা হয়েছে। তার পরেও চুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফেরির একজন কর্মকর্তা জানান, ৪টা ফেরি এখানে মাসের পর মাস পরে আছে। একটি ফেরিরও ইঞ্জিন ভালো না। ঢাকা থেকে ইঞ্জিনিয়ার এসে ফেরত গেছে। কারণ নষ্ট হওয়ার পর ঠিক না করে ফেলে রাখা হয়েছে। এসময় চোর এলোপাথাড়ি ভাবে তাঁর কেটেছে। যে কারণে এমন ভাবে নষ্ট হয়েছে যে ঠিক করার উপায় নেই। এগুলো এখন বাতিল হয়ে গেছে। চালাতে গেলে আবার খুলে নতুন করে ইঞ্জিন তৈরী করতে হবে। যে একটি ফেরি চলে সেটার অবস্থাও ভালো না। লক্কর ঝক্কর অবস্থা চলার সময় মারাত্মক ভাবে কালো ধোঁয়া বের হয়। যে কোনো সময় এটাও নষ্ট হবে।

তিনি আরো বলেন, ফেরির দেখাশোনা করার জন্য কোনো লোক নেই। যারা আছে সবার আলাদা আলাদা কাজ আছে। শুধু রাতে পাহারার জন্য একজনকে রাখা হয়েছে। যে কারণে কোনভাবেই চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। এগুলো শুধু শুধু এখানে রেখে দেওয়া হয়েছে। দিনদিন এগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে ফেরিগুলোর দায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা (সুপারভাইজার) হাবিবুর রহমান গাজীর দেখা যাওয়া যায়নি ফেরি ঘাটে। সার্বক্ষনিক ফেরি ঘাটে থাকার কথা থাকলেও ২টা আড়াইটা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টা ঘাটে অবস্থান করেও তাঁর খোজ পাওয়া যায়নি।

পরবর্তিতে তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর