rabbhaban

মা হারানো লামিয়ার অঝোর কান্নায় বিচারের আর্তি (ভিডিও)


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:০৩ পিএম, ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
মা হারানো লামিয়ার অঝোর কান্নায় বিচারের আর্তি (ভিডিও)

প্রাইমারী স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে সবে মাত্র হাই স্কুলে পা দিয়েছে লামিয়া। গণবিদ্যানিকেতন স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেনিতে পড়ে সে। ছোট বেলা থেকে মায়ের সাথে বেশ ভাব। রাতে ঘুমানো, স্কুল, কোচিংয়ে নিয়ে যাওয়া, গল্প করা, মায়ের সাথে এসব ছিল তাঁর প্রতিদিনের রুটিন। কিন্তু হঠাৎ মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে খুন হতে হলো লামিয়ার মা আরজু বেগমকে। সব জায়গায় মায়ের অবস্থান থেকে হঠাৎ মায়ের অনুপস্থিতি কোনো ভাবেই মানতে পারছে না সে। মাকে হারিয়ে বিচারের দাবিতে স্কুল ইউনিফর্ম পড়েই সংবাদ সম্মেলনে এসে অঝোরে কাঁদলো লামিয়া। প্রশ্ন ছুড়ে দিল সবার কাছে, ‘আমার মা হত্যার বিচার কি হবে না?’

লামিয়ার মায়ের নাম আরজু বেগম। পরিবার সহ তাঁরা নারায়ণগঞ্জের টানবাজারের র‌্যালি বাগান এলাকায় বসবাস করে। র‌্যালি বাগান এলাকায় মাদকের আগ্রাসনে যখন যুব সমাজ ধ্বংসের পথে। তখন যুব সমাজকে নিয়ে মাদক বিরোধী সংগঠন শুরু করেন তিনি। আরজু বেগম র‌্যালি বাগান মাদক নির্মূল কমিটির সহ সভাপতি ছিলেন। যুব সমাজকে সচেতন করতে প্রতিনিয়ত কাজ করতেন তিনি। তাঁর এই কর্মকান্ডের কারণে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে দিন দিন অপ্রিয় ব্যক্তিতে পরিণত হন।

গত ২৯ মার্চ বিকেলে টানবাজারের র‌্যালি বাগান এলাকায় মাদক বিরোধী প্রতিবাদ মিছিল করার সময় ধরে নিয়ে বিদ্যুতের শক দিয়ে আরজু বেগমকে নির্মমভাবে হত্যা করে মাদক ব্যবসায়ীরা। এর পর থেকেই একা হয়ে যায় লামিয়া।

২ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে হত্যাকান্ডের বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকে নিহত আরজু বেগমের পরিবার ও স্বজনরা। স্কুলের ইউনিফর্ম পরেই স্কুল থেকে সংবাদ সম্মেরনে আসে লামিয়া। মায়ের হত্যাকারীদের বিচার চেয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকে সে।

কান্না জড়িত কণ্ঠে লামিয়া বলে, ‘আমার একা স্কুলে যাইতে হয়। আমার মাকে ছাড়া আমি কেমনে থাকি? আমাকে দেখার মত তো আর কেউ নাই। আমি কি রেধে খাওয়াইতে পারি আমার বাবাকে? আমার মায়ের হত্যার কি বিচার হবে না? আমি আমার মায়ের হত্যার বিচার চাই। আমি আর কিছু চাই না। আমার মাকে যে মাইরা ফেলছে তাদের বিচার হোক। ওরা আমার মাকে শুধু শুধু মারলো কেন। আমার মা মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়াইছে এই জন্য আমার মাকে মাইরা ফেলছে।’

লামিয়ারা চার বোন এক ভাই। বড় তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। সবাই ব্যস্ত নিজেদের সংসার নিয়ে। যে বড় ভাই আছে সে মানসিক প্রতিবন্ধি। বাবা আক্তার হোসেন একজন সাধারণ দিনমজুর। মা একাই প্রতিবন্ধি ভাই ও তার দেখাশোনা করতো। ছোট বেলা থেকে লামিয়াকে স্কুলে নিয়ে আসা নিয়ে যাওয়া সব করতো তাঁর মা।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত আরজু বেগমের স্বামী আক্তার হোসেন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান করায় আমার স্ত্রীকে জীবন দিতে হলো। আর খুনের সাথে জড়িত একজন আইনজীবী। এই আইনজীবীই মাদক ব্যবসায়ীদেরকে সেল্টার দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আসামীরা বিভিন্ন ভাবে আমার পরিবারকে ভয় দেখাচ্ছে। মেয়েকে স্কুলে যাওয়ার সময় ভয়ভীতি দেখায়। ভয়ে মেয়ে কোচিংয়ে যায় না। কোর্টে ১৪’শ এর মত আইনজীবী কিন্তু আমাদের পাশে কেউ দাঁড়ায় না। আমাদের পক্ষ থেকে মামলা নিতে বললেই শুধু বলে যে আইনজীবীদের পক্ষে আমরা যাই না। কিন্তু আসামী লিজার পক্ষে আইনজীবীর অভাব হয় না। কোর্টে গেলে ২০-২৫ জন এসে আসামী লিজার পক্ষে কথা বলে আমাদেরকে ভয় দেখায়।

তিনি বলেন, আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। আমরা কোথাও যেতে পারি না। সব সময় ভয়ে থাকি। মামলা থেকে জামিন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসছি। আমার একটাই দাবি আমার স্ত্রীকে যারা হত্যা করেছে তাদেরকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর