rabbhaban

চাষাঢ়ায় সরব ছিনতাইকারীরা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:১৭ পিএম, ০৩ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
চাষাঢ়ায় সরব ছিনতাইকারীরা চাষাঢ়া বিজয়স্তম্ভের ছবি।

নারায়ণগঞ্জ শহরে ফের সরব হয়ে উঠছে ছিনতাইকারীরা। গত দুই ঈদ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের কঠোরতায় নারায়ণগঞ্জ শহরে ছিনতাইকারীরা নিরব হয়ে গেলেও ঈদ পরবর্তী সময়ে ফের তারা সরব হয়ে উঠছে। দিনে দুপুরে প্রকশ্যেই তারা ছিনতাই করে আসছে। ছিনতাইয়ের ব্যাপারে কেউ কোন অভিযোগ না করলেও প্রায় প্রতিনিয়তই ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ছোট খাটো ঘটনায় হয়রানি এড়াতে সহজে তারা কেউ কিছু বলেও থাকেন না।

জানা যায়, বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ গত বছরের শেষের দিকে নারায়ণগঞ্জে যোগদান করেন। তিনি যোগাদানের পর পরই সকল অপরাধীদের বিরুদ্ধে ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামেন। ফলে নারায়ণগঞ্জ শহরে চুরি ছিনতাই সহ সকল অপরাধের মাত্রাই কমে আসে। বিশেষ করে গত ঈদুল ফিতরের পূর্ববর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের নির্দেশনায় নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রায় শতাধিক ছিনতাইকারী পুলিশের জালে আটকা পড়ে।

যার সূত্র ধরে নারায়গঞ্জ শহর জুড়েই ছিনতাইয়ের মাত্রা কমে আসে। সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নেই চলাচল করেছেন। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ শহরে ফের ছিনতাইকারীদের উপদ্রব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঝামেলা এড়াতে ভুক্তভোগীরাও কিছু বলছেন না।

ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চাষাঢ়া গোল চত্ত্বরের আশে পাশেই ছিনতাইকারীরা ঘুরাঘুরি করে থাকেন। তারা সকলেই আলাদা আলাদভাবে থাকেন। প্রথমে তারা টার্গেট করেন কাকে ধরবেন। যে রিক্সায় একজন যাত্রী থাকে এবং দেখতে নীরিহ টাইপের হয় তারাই বেশি ছিনতাইকারীদের টার্গেটের শিকার হয়ে থাকেন। হঠাৎ করে রিক্সা থামিয়ে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে যা পারেন তাই নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দিয়ে থাকেন।

এছাড়াও বাস থেকে যে সকল যাত্রী নামেও তাদের পিছু নিয়ে থাকেন ছিনতাইকারীরা। এরপর সুযোগ বুঝে মোবাইল, মানিব্যাগ কিংবা হ্যান্ডব্যাগ যা পারেন তাই ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

ঠিক একইভাবে ছিনতাইকারীদের মুখোমুখি হয়েছিলেন কলেজরোড এলাকার বাসিন্দা শামীম। তিনি চাষাঢ়া সমবায় মার্কেটের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে থাকেন। শামীম জানান, প্রতিদিনের মতোই ৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার কলেজ রোড থেকে রিক্সাযোগে কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। তাকে বহন করা রিক্সাটি চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর পেরোতেই কয়েকজন ছিনতাই তাকে ঘিরে ধরেন। একজন সরাসরি শামীমের সাথে কথা বলে আর বাকীরা রিক্সার পাশেই দাঁড়ানো ছিলেন। যাতে কেউ কিছু বুঝতে না পারে। তবে শামীমের সাহসিকতার কারণে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে ছিনতাইকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ।

এভাবে প্রায় প্রতিনিয়তই চাষাঢ়া সহ নাররায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।

ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গুরুতর যেসব ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা হয়, কেবল সেগুলোর ক্ষেত্রেই পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে। আর যেগুলো গণমাধ্যমে আসে না এমন ‘ছোটখাটো’ ছিনতাইয়ের ঘটনার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবেও আঘাতপ্রাপ্ত হন। আতঙ্ক স্থায়ী হয়। অফিস বা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাসায় ফেরার পথে মানুষ অহরহই এ রকম ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন, কিন্তু থানায় যান না তাঁদের অধিকাংশই।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর