rabbhaban

নারায়ণগঞ্জে ৩ খুন ১ লাশ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:১৪ পিএম, ০৯ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার
নারায়ণগঞ্জে ৩ খুন ১ লাশ

কখনো খুন কখনো লাশ হয়ে নিথর দেহ বাড়ি ফিরছে স্বজনদের চোখের কান্না হয়ে। স্বজনেরা কখনো বুক ফাটা কান্নায় আবার কখনো বোবা কান্নার মধ্য দিয়ে প্রিয়জনদের হারানোর শোকে বিলাপ করে। তবুও থামেনা লাশের মিছিল। বরং দিনে দিনে এর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এতে করে প্রিয়জন হারা স্বজনদের মাঝে সব সময় এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করে।

১ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া খুন ও লাশ উদ্ধারের ঘটনার সচিত্র তুলে ধরা হল।

আড়াইহাজারে গৃহবধু সাহেলা আক্তারকে (২৫) গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায় স্বামী মোবারক হোসেন (৩৫)। ৮ অক্টোবর দিবাগত মধ্য রাতে উপজেলার গোপালদী পৌরসভার উত্তর কলাগাছিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার সকালে গোপালদী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে।

নিহতের বোন পারভীন আক্তার জানান, বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে নানা বিষয়টি নিয়ে মনোমালিন্য চলছিল। বিভিন্ন সময় তাকে মারধর করা হতো। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই তাকে হত্যার হুমকী দিয়ে আসছিল। সংসারে কলহের জেরে সাহেলার শোয়ার ঘরের খাটে গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাম্পত্য জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

৭ অক্টোবর ফতুল্লায় মাহবুবুল হক বাবলু (৫১) নামের জেনারেটর ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একদল যুবকের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ একটি চায়ের দোকানে জেনারেটরের সংযোগ দেওয়া নিয়ে বিরোধের জের ধরে ওই যুবকেরা বাবলুকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে।

নিহতের বড় ভাই জুয়েল জানান, বাবলু হাজীগঞ্জ বাজারে টিভি ফ্রিজ মেরামতের কাজ ও জেনারেটর সংযোগ প্রদানের ব্যবসা করে। স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে সংযোগ প্রদান নিয়ে স্থানীয় আলম, রাকিব, খালেক আরো কয়েকজনের সাথে বিরোধ আছে। ওই বিরোধের জের ধরেই রাত ২টায় বাবলু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে এলোপাথারী পিটিয়ে আহত করে। স্থানীয়রা বাবলুকে শহরের খানপুর ৩শ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেন।

৪ অক্টোবর সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া ইউনিয়নের পিয়ারনগর এলাকায় অজ্ঞাত কিশোরীর অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় মোগরাপাড়া-মঙ্গলেরগাঁও সড়কের পাশ্ববর্তী একটি ঝোপ থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

সোনারগাঁ থানার উপ-পরিদর্শক পংকজ কুমার জানান, মোগরাপাড়া ইউনিয়নের পিয়ার নগর এলাকার রাস্তার পাশের একটি ঝোপের মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় অজ্ঞাত একটি লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয় এলাকাবাসী। খবর  পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই কিশোরীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। পুলিশের ধারণা ৪-৫ দিন আগে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে লাশটি নির্জন স্থানে ফেলে যায়। হত্যার বিষয়ে ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে জানা যাবে।

৪ অক্টোবর বন্দরে সোহাগ (১৫) নামে দিনমজুরের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সোহাগ বন্দরের সালেহনগর এলাকার রিকশাচালক দিলু ওফে দুলু মিয়ার ছেলে। সে শহরের রেলস্টেশনস্থ সারঘাট এলাকার মনির হোসেনের ভাঙারী দোকানে কাজ করত।

এলাকাবাসী জানান, বন্দরের সালেহনগর এলাকার দেলুর ছেলে সোহাগ নারায়ণগঞ্জ সারঘাট এলাকার মনির হোসেনের ভাঙারী দোকানে কাজ করত। সে রেলস্টেশনের থাকত, বাড়ি আসত না। শুক্রবার ভাঙারী দোকান মালিক মনির হোসেন সোহাগের লাশ নিয়ে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় দেলুর বাড়িতে আসে।

মনির এলাকাবাসীকে জানায়, নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছে সোহাগ। ৪ অক্টোবর শুক্রবার বেলা ১২টায় খানপুর রেললাইনস্থ সরদারপাড়া এলাকার সুমন মিয়ার ছেলে সজিবের সাথে গোসল করতে শীতলক্ষা নদীতে যায়। সজীব জানায় গোসল করতে গিয়ে সোহাগ পানিতে ডুবে যায়। ২০ মিনিট পর পানি থেকে সোহাগের লাশ উদ্ধার করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটে চলেছে। যদিও পুলিশ প্রশাসনের তৎপড়তায় কয়েকটি হত্যাকা-ের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এতে করে আতঙ্ক আরো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর