rabbhaban

সব হারিয়ে বোবা কান্না ক্ষতিগ্রস্তদের


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৭ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার
সব হারিয়ে বোবা কান্না ক্ষতিগ্রস্তদের

নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন এলাকায় স্টাফ কোয়ার্টারসহ অবৈধভাবে দখল করে গড়ে উঠা কয়েক শতাধিক ছোট বড় স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়েছে রেলওয়ে কর্তপক্ষ। উচ্ছেদ অভিযানে আকস্মিক স্টাফ কোয়ার্টারের ১১০টি স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েন স্টাফ কোয়ার্টারের বাসিন্দারা। অনেকই বসতঘরের ভেতর থেকে ব্যবহৃত সামগ্রী সরিয়ে নিতে না পারায় সেগুলি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। দুপুরে ভগ্নস্তুপ থেকে অনেককেই দেখা গেছে নিত্য ব্যবহার্য তৈজস সামগ্রী বের করার চেষ্টা করছেন। অনেকই খুঁজছিলেন অর্থ স্বর্ণালংকার।

১৬ অক্টোবর বুধবার বেলা ১১টা থেকে ঢাকা রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। উচ্ছেদ অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ের সহকারি প্রকৌশলী হামিদউল্লাহ, সার্ভেয়ার ইকবাল মাহমুদ, কনসালটেন্ট আবু বকর সিদ্দিকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, রেলওয়ের স্টাফ কোয়ার্টারে ১১০টি পরিবার বসবাস করতো যারা এখানে অর্ধশত বছরের বেশী সময় ধরে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছিল। ২০১২ সালের ১২ মে নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন কলোনী এলাকার ৪৭ হাজার ২০০ স্কয়ার ফুট জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষের পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে দখল কার্যক্রম বন্ধ ছিল। রেলওয়ে কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এর নামে পিন্টু ও মোস্তফা গং এর নেতৃত্বে সেখানে মার্কেট নির্মাণের পায়তারা চলে আসছিল। স্টাফ কোয়ার্টারগুলো উচ্ছেদ করা হবেনা এমন আশ্বাস দিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করতো রেলওয়ের একটি চক্র। তাদের সঙ্গে রেলওয়ের ভূ সম্পদক কর্মকর্তাদেরও যোগসাজশ ছিল।

গত ১৪ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে ১নং রেলওয়ে স্টেশন কলোনীবাসী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীবৃন্দের উদ্যোগে ভূমিদস্যু পিন্টু ও মোস্তফা গংদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। ওই মানববন্ধন থেকে দেওভোগের শেখ রাসেল পার্ক রক্ষায় প্রয়োজনে হরতাল পালনের ঘোষণা ছাড়াও রেলওয়ে স্টাফ কোয়ার্টার যাতে উচ্ছেদ করা না হয় সে দাবি জানান বক্তারা। এতে ক্ষুব্দ হয়ে বুধবার ১৬ অক্টোবর সকালে রেলওয়ের স্টাফ কোয়ার্টারগুলো গুড়িয়ে দেয়া হয়। রেলওয়ের স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাসরত দিলীপ, আসলাম, মিনু, জুলহাস, ফারুক, বাবু, শাহজাহান, মজিবর, স্বপন, আঁখিসহ অনেকের ঘর থেকে কোন ধরনের সামগ্রীই বের করতে পারেনি। যে কারণে পরিবারগুলোর সদস্যদের মধ্যে দেখা গেছে বোবা কান্না। অনেকেই ভগ্নস্তুপ থেকে ভাঙ্গাচোরা নানা সামগ্রী বের করছিলেন আর চোখ মুছছিলেন। কেউবা খুঁজছিলেন অর্থ স্বর্ণালংকার। এক বাসিন্দা জানান, বৃহস্পতিবার তার মেয়ের স্কুলে পরীক্ষা। তিনি বসতঘর থেকে আইডি কার্ড বের করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে আইডি কার্ড বের করতে দেয়া হয়নি। প্রতিবাদ করার কারণে তাকে উল্টো গ্রেফতার করে সাজা দেয়ার হুমকী দেয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনের স্টেশন মাস্টার গোলাম মোস্তফা বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরেই উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে মাইকিং করা হয়েছে। তারপরেও অনেকে তার সামগ্রী সরিয়ে নেয়নি। সকাল থেকে উচ্ছেদ অভিযানে রেলওয়ের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ জায়গা দখলমুক্ত করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর