rabbhaban

নারায়ণগঞ্জে ২ খুন


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৩৮ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার
নারায়ণগঞ্জে ২ খুন

ক্যালেন্ডারের পাতায় সপ্তাহ না ঘুরতেই নতুন করে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটছে। কখনো নৃশংসভাবে কুপিয়ে আবার কখনো মায়ের হাতে সন্তান খুনের মত ঘটনাও ঘটছে। এতে করে খুনের ঘটনাগুলো এক একটি পৈশাচিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

১৪ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া হত্যাকান্ডের ঘটনার সচিত্র তুলে ধরা হল। এ সপ্তাহে ২টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

১৯ অক্টোবর বন্দরে পূর্বশক্রার জের ধরে রনি (৩০) নামে যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুবৃর্ত্তরা। শনিবার রাতে পুরান বন্দর সমরক্ষেত্র চৌধুরীবাড়ি এলাকায় এঘটনা ঘটে। নিহত রনি ওই এলাকার সালাউদ্দিন পলাশের ছেলে।

নিহতের বাবার অভিযোগ, রনি একটি মশার কয়েল ডিলারশীপের ব্যবসা করতো রাতে মদনপুর থেকে আসার পথে কয়েকজন যুবক তাকে কুপিয়ে আহত করে। হত্যাকারীরা রনির হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করে। সকালে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায় সে। ব্যবসায়ীক কারণে পূর্বশক্রার জের ধরে এ হত্যাকান্ড হতে পারে।

১৫ অক্টোবর সদর উপজেলার ফতুল্লায় নিজের দেড় বছর শিশু পুত্রকে চার তলা বাড়ির ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে নিহত শিশুর চাচা জাহিদুজ্জামান খান বাদী হয়ে নিহত শিশুর মানসিক ভারসাম্যহীন মা রোকসানাকে এক মাত্র আসামী করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করে।

মামলার তদন্তকারী অফিসার ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, রোকসানা আক্তার তার দুই বছরের শিশু পুত্র আশফাক জামান জাহিনকে নিয়ে সোমবার দুপুর ৩টায় ছাদে উঠে। এসময় শিশুটিকে কি কারনে ছাদ থেকে সে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে তা কিছুই বলতে পারেনা। তবে সে মানসিক ভারসাম্যহীন সেটা তার কথাবার্তায় বুঝা যায়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, বাদীর বড় ভাই নুরুজ্জামান ১২ বছর পূর্বে রোকসানা আক্তারকে (২৮) বিয়ে করেন। বিয়ের পর তাদের সংসারে এক মেয়ে ফাহমিদা জামান অর্পা (১১) দুই ছেলে জারিফ (৩) ও জাহিন (২) জন্ম গ্রহন করেন। বিয়ের পর থেকে রোকসানা আক্তার মানুষিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন যাবৎ তাকে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করানো হচ্ছে।

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, ফতুল্লার পাগলা পশ্চিম নন্দলালপুর এলাকার আমান উল্লাহ প্রধানের বাড়ীতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভাড়ায় বসবাস করেন নুরুজ্জামান মারুফ। সোমবার দুপুর ৩টায় নুরুজ্জামান কাজে ছিলেন ওই সময় তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার ছোট ছেলে জাহিনকে নিয়ে ছাদে উঠে। এক পর্যায়ে ছেলেকে ধাক্কা দিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে বাসায় চলে যায় রোকসানা। পরে মেয়ে অর্পার কাছ থেকে ফোনে খবর পেয়ে নুরুজ্জামান বাসায় এসে শিশু সন্তানকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষনা করেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, শিশুর মায়ের বিরুদ্ধে শিশুর চাচা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। আর গ্রেপ্তারকৃত শিশুর মা রোকসানা মঙ্গলবার বিকেলে আদালতে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে নিজের সন্তানকে হত্যা করার দায় স্বীকার করে  ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর