rabbhaban

অটো রিকশার বৈধতা নাই, অচিরেই ব্যবস্থা : ইউএনও নাহিদা বারিক


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:২৩ পিএম, ০৯ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার
অটো রিকশার বৈধতা নাই, অচিরেই ব্যবস্থা : ইউএনও নাহিদা বারিক

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও নাহিদা বারিক বলেছেন, অটো রিকশার বিরুদ্ধে আইনগত দিক বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই অটো রিকশাগুলোর কোন বৈধতা নেই। এ বিষয়ে আমরা পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেব।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে পুলিশ লাইনসের সামনে পুলিশ লাইনস স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা বেগম অটোরিকশার চাপায় নিহত হওয়ার পরদিন ৯ নভেম্বর শনিবার দুপুরে মাসদাইর এন এস টাওয়ার তিন তলা শোকার্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাতে হাজির হন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক।

তিনি মাহমুদার দুই মেয়ের জড়িয়ে ধরে সান্তানা দেন এবং যে কোন প্রয়োজনে পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন আছে বলে আশ্বস্ত করেন। ওই সময় তিনি শোকাহত পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, ইজি বাইকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিক্ষিকা মাহমুদার দেবর মো: নূর আলম জানান, ঘটনার দিন পুলিশ লাইন স্কলে পুলিশের পরীক্ষা ছিল। সেই পরীক্ষা নিতেই শিক্ষিকা মাহমুদা স্কুলে গিয়েছিলেন।

তিনি জানান, আমরা ভাবতে পারিনি আমাদের জন্য এ রকম একটি দুর্ঘটনা অপেক্ষা করছে। ঘাতক অটোরিকশার চালক পালিয়ে গেছে।

মাসদাইর এন এস টাওয়ারের বাসিন্দা আলিমুদ্দিন জানান, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন পাগলা পুলিশ লাইন সড়ক দিয়ে যেসব অটোরিকশা চলাচল করছে এগুলোর কোন আইনগত বৈধতা নেই। তারপরে কোন ক্ষমতাবলে এগুলো সড়কে চলছে তা প্রশাসন ভালো বলতে পারবে।

মাসদাইর এলাকার ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান বলেন, সহজ যাতায়াতে ইজিবাইক আমাদের যাতায়াতে জরুরি কিন্তু ইজিবাইক চলাচলে সরকারের কোন বৈধতা নেই। সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা এসব সড়কে চলাচলে টোকেন প্লেটের মাধ্যমে অনুমোদন দিচ্ছে। এতে মাসে কয়েক লাখ টাকা একটি সড়ক থেকেই সন্ত্রাসীরা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রশাসন দেখেও রহস্যজনক নিরবতা পালন করছে।

পঞ্চবটি এলাকার মানিক মিয়া বলেন, ইজিবাইকে তিনটি সমস্যা এর চাঁদা দিয়ে সন্ত্রাসীরা সুসংগঠিত হচ্ছে, সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে আর। সড়কে তাজা প্রাণ ঝরছে। এ ইজিবাইককে জেলা প্রশাসনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

সম্প্রতি সদর উপজেলা পরিষদে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও নাহিদা বারিক বলেন, যেসকল স্থানে ইজিবাইক চার্জ দেয়া হয় সে সকল স্থানগুলো বন্ধ করে দিতে। চার্জ দিতে না পারলে এসকল ইজিবাইক আর রাস্তায় বের হতে পারবে না। ফলে যানজট ও দুর্ঘটনার পরিমাণ অনেকটাই কমে আসবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে যানজট সমস্যা মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অবৈধ রিক্সা, অবৈধ ইজিবাইক-অটোরিক্সা সড়কে চলাচল বন্ধ করতে হবে। আমরা বারবার পদক্ষেপ নিয়েও তা করতে পারছি না। তাই আমি এখানে উপস্থিত এসিল্যান্ড, তিন থানার প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ইজিবাইক চার্জ করার স্থানগুলোকে বন্ধ করে দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন একসাথে কাজ করলে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবেনা।

তিনি আরো বলেন, সাধারণ রিকশার গতি স্বাভাবিক পর্যায়ে থাকে। যার ফলে কোন গাড়ি পিছন থেকে ধাক্কা না দিলে তেমন কোন দুর্ঘটনা ঘটে না। তবে ব্যাটারি চালিত রিকশাগুলোর ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বেশি হয়। কারণ এগুলোর গতি কিছু কিছু সময় ইজিবাইকের চেয়েও বেশি হয়। যার ফলে হঠাৎ ব্রেক ধরতে গেলে যাত্রী পিছন থেকে পরে যায়। এতে অনেকে আহত হয়। এজন্য ব্যাটারি চালিত রিকশার জন্য নূন্যতম প্রশিক্ষণ যেটা দরকার সেটাও তারা নেয় না। ছোট নেই বড় নেই সবাই নিয়ে বের হয়ে যায়। দ্রুত গতিতে চলাতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি আরো বলেন, সাধারণ রিকশার চেয়ে ব্যাটারি চালিত রিকশায় পরিশ্রম কম হয়। আর দ্রুত যাত্রীদের গন্তব্যে পৌছে দেওয়া যায় বলে শহরে প্রবেশ করলে আয় বেশি হয়। কিন্তু সাধারণ রিকশা পরিশ্রমের তুলনায় আয় কম। সাধারণ রিকশা চলালে এক বেলা চালিয়ে অন্য বেলায় বিশ্রাম নিতে হয়। না হলে কয়েকদিন চলালে অসুস্থ্য হয়ে যেতে হবে। এসব করণে ওই রিকশা চালায় না।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর