বুলবুলের ভোগান্তিতে বন্দরবাসীর সেতু না পাওয়ার ক্ষোভ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫২ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার
বুলবুলের ভোগান্তিতে বন্দরবাসীর সেতু না পাওয়ার ক্ষোভ

উপকূলীয় অঞ্চলের অন্তত ১০টি জেলায় তান্ডব চালিয়ে বিদায়ে নিয়েছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ বেশি থাকলেও সারাদেশে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব পড়েছে।

সারাদেশের মত বুলবুলের কবলে আটকা ছিল নারায়ণগঞ্জ। দুর্ঘটনা রোধে টানা দুই দিন নারায়ণগঞ্জেও বন্ধ ছিল সব ধরনের লঞ্চ চলাচল। এমনকি বৈরী আবহাওয়ার কারণে শীতলক্ষ্যার দুই পাড়ের নৌকা পারাপারও ছিল কদাচিৎ বন্ধ। এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বন্দরবাসীকে।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব কাটলেও দুই দিনের দুর্ভোগ আর আতঙ্ক ক্ষোভে প্রকাশ করেছে বন্দরবাসী। তাঁদের দাবি যদি শীতলক্ষ্যায় সেতু থাকতো তাহলে এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।

জানা গেছে, গত ৯ নভেম্বর রাতে বাংলাদেশের সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরা উপজেলায় আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। এরপর এটি সুন্দরবনের খুলনা ও বাগেরহাট অংশের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলের’ তান্ডবে ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছে বলে সবশেষ খবরে জানা যায়।

ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে নারায়ণগঞ্জে কোনো প্রাণহানি বা বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও বন্দরবাসীকে বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কারণ গত ৯ ও ১০ নভেম্বর বুলবুলের কারণে শীতলক্ষ্যা নদী পারাপারের একমাত্র উপায় খেয়া, ট্রলার সহ সব ধরণের নৌকা চলাচল বন্ধ ছিল। এসময় শীতলক্ষ্যা নদী পার হওয়ার জন্য নদীর দুই পারে আটকা পরে অসংখ্য মানুষ।

বন্দরের বাসিন্দা সাব্বির হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘সেতু না থাকার কারণে কি পরিমাণ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে আমি নিজের চোখে দেখেছি। দুপুরের দিকে একজন রোগী নিয়ে দুইজন আসে নদী পার হতে। কিন্তু বৃষ্টি আর বাতাসের কারণে নৌকা চিলাচল বন্ধ ছিল। যে কারণে আমাদের মত তাঁদেরকেও আটকা পড়তে হয়। কিন্তু রোগীর অবস্থা খুব খারাপ ছিল। তাঁরা রোগীকে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নেওয়ার জন্য এনেছিল। কিন্তু নদী অবস্থা দেখে আত্মীয়রা ঘাটেই কান্নাকাটি শুরু করে। রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে ঘাটে উপস্থিত সবাই মিলে একটা অটো ভাড়া করে দেই। পরে বন্দরের একটা প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যায়।’’

তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের সব থেকে ধনী জেলা। কিন্তু আমাদের জবিনের নিরাপত্তা নাই। এত বড় বড় নেতা নারায়ণগঞ্জে। কিন্তু কেউ একটা সেতু এনে দিতে পারলো না। শুধু শুনেই গেলাম এখানে সেতু হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমরা কিছুই পেলাম না।

দুইদিন দুর্ভোগের শিকার বন্দরের বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, দুই দিনেই সকালে অল্প বৃষ্টি ছিল তাই পার হতে কোনো সমস্যা হয় নাই। কিন্তু দুপুর থেকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয় সাথে প্রচন্ড বাতাস। যে কারনে পার হতে পারি নাই। দুই দিনেই ১টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ঘাটে আটকা ছিলাম। এরপর বৃষ্টি কমলে নদী পার হতে পারি।

তিনি আরো বলেন, জরুরি কাজ ছিল তাই ওই পাড়ে যাওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু যে অবস্থা তাতে কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে যাতায়াত করতে চায় নাই। নদীতে যে ঢেউ দেখেছি আর যে বাতাস ছিল এমন অবস্থায় নৌকা ডুবে যাওয়া অসম্ভব কিছু ছিল না। কিন্তু যদি শীতলক্ষ্যা সেতু থাকতো তাহলে আমাদের এতটা দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। খুব সহজেই নদী পার হতে পারতাম।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর