সপ্তাহের নারায়ণগঞ্জ : ২ ধর্ষণ


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৪১ পিএম, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
সপ্তাহের নারায়ণগঞ্জ : ২ ধর্ষণ

নারায়ণগঞ্জে বিয়ে ও প্রেমের প্রলোভনে ধর্ষণের ঘটনা অহরহ ঘটছে। এছাড়াও অর্থ সহ নানা ইস্যুতে সহয়তার নামেও দেহ লোভি পশুরা বিভিন্ন ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে থাকে। এসব নরপশুরা বিভিন্ন প্রলোভনের ফাঁদ তৈরি করে এসব অপকর্ম করে থাকে। আর ধরা পড়লেও আইনের ফাঁক দিয়ে বের হলে ফের নতুন শিকারের খোঁজ করে। অন্যদিকে ধর্ষিতা সহ তার পুরো পরিবার এই কলঙ্ক সারা জীবন বয়ে বেড়ায়।

৮ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনার সচিত্র তুলে ধরা হল। এ সপ্তাহে ২টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

১১ নভেম্বর সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে ২ সন্তানের জননীকে (৩৫) সাহায্য দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের বেহাকৈর ব্যানডিস কারখানা এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ধর্ষক হান্নানুর রহমান রতন (৫৭) পালিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে যাওয়া সোনারগাঁও থানার (এসআই) সৈয়দ আজিজুল হক জানান, প্রাথমিক ভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ধর্ষক রতন মিয়া এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

ধর্ষিতার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, একই এলাকার দিন মজুরের স্ত্রী ২ সন্তানের জননী ৪/৫ মাস পূর্বে ব্রেন স্টোক করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তিনি এলাকাবাসীর নিকট থেকে অর্থ সাহায্য নিয়ে চিকিৎসা করে আসছিল। ৫/৬ দিন পূর্বে ওই নারীর সাথে দেখা হলে তাকে অর্থ সাহায্য দেওয়ার আশ^াস দেন হান্নানুর রহমান রতন। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় দিকে উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের বেহাকৈর এলাকার ব্যানডিস কারখানার পাশে রতন মিয়ার ব্যক্তিগত অফিসের ৩য় তলার একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পরে এ ঘটনাটি নারী কাঁচপুর ইউনিয়নের চেয়্যারম্যান মোশাররফ ওমরকে জানালে তিনি থানা পুলিশকে জানায়।

৮ নভেম্বর বন্দরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় যুবতীকে ধর্ষণের ঘটনায় লম্পট আজিজুল হক ওরফে আইজ্জাকে (৪৩) গ্রেপ্তার করেছে মদনগঞ্জ ফাঁড়ি পুলিশ। এ ব্যাপারে ধর্ষিতা যুবতী বাদী হয়ে ওই দিন রাতে বন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

জানা গেছে, বন্দর থানার চরঘারমোড়া এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের লম্পট ছেলে চাউল ব্যবসায়ী আজিজুল হক আজিজ দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একই এলাকার দিনমজুরের মেয়েকে (২২) বিভিন্ন স্থানে একাধিক বার ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষিতা বিয়ের জন্য লম্পট আজিজকে চাপ সৃষ্টি করলে লম্পট আজিজ বিষয়টি বার বার এড়িয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ধর্ষিতা যুবতী এলাকার পঞ্চায়েতের কাছে বিচার চেয়ে না পেয়ে বন্দর থানায় অভিযোগ দায়ের করে। পরে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রফিকুল ইসলামের হস্তক্ষেপে পুলিশ লম্পট আজিজকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষিতা শুধু শারীরিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়না মানসিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এর পাশাপাশি তার পুরো পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্থ হয়ে পড়ে। সমাজের চোখেও হেয় প্রতিপন্ন হয়। ভবিষ্যত জীবনে নেমে আসে গভীর অন্ধকারের ছায়া। এতে করে কোন পরিবারে কন্যা সন্তান কিংবা নারী সদস্য থাকলেই এই আতঙ্কে ভোগেন পরিবারের কর্তা ব্যক্তি সহ বর্ষিয়ানরা।

 

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর