সেন্ট্রাল ঘাটে নৌকা পারাপার যেন মৃত্যুফাঁদ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৩২ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
সেন্ট্রাল ঘাটে নৌকা পারাপার যেন মৃত্যুফাঁদ ফাইল ফটো

নারায়ণগঞ্জ সেন্ট্রাল ঘাটের নৌকার মাঝিদের স্বেচ্ছাচারিতায় যাত্রীরা প্রতিদিন মৃত্যুফাঁদের সম্মুখিন হচ্ছে। কারণ নিয়মের তোয়াক্কা না করে বেশি টাকার লোভে নৌকা মাঝিরা ২০-২১ পর্যন্ত যাত্রী পারাপার করছেন। প্রত্যেকটি নৌকার ধারণ ক্ষমতার তুলনায় দ্বিগুণ যাত্রী আরোহন করলেও যাত্রীদের তা মুখ বুজে সহ্য করতে হয়। যাত্রীরা এই অনিয়মের প্রতিবাদ করলে উল্টো লাঞ্ছিত হতে হয়। এর ফলে জিম্মি হওয়া যাত্রীরা প্রয়োজনের তাগিদে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হচ্ছে।

এতে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, সেন্ট্রাল ঘাটে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে কিছুদিন নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে সবকিছু সম্পন্ন হয়। এছাড়া বছরের বাকি সময় তাদের ইচ্ছেমত যাত্রী পারাপার করে এবং বেশি ভাড়া আদায় করে। এভাবে যাত্রী আরোহন করলে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এসব জেনে শুনেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন নদী পারাপার হচ্ছি। কারণ এসব দেখার কেউ নেই। এজন্য শীতলক্ষ্যা সেতু এখন বন্দরবাসীর প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান সেন্ট্রাল ঘাটে নৌকা মাঝিদের ৩ টাকা করে ভাড়া আদায়ের নির্দেশনা দিয়েছিল। তবে সেই নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে নৌকায় মাঝিরা ৩ টাকার পরিবর্তে ৫ টাকা করে বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। আর প্রতি নৌকায় ১০-১২ জন করে যাত্রী আরোহনের নিয়ম থাকলেও তার কোনটিই মানছেনা মাঝিরা। বিশেষ করে রাতের বেলায় ট্রলার বন্ধ হলেই নৌকার মাঝিরা আরো কয়েকগুণ বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠে। তখন মাঝিদের স্বেচ্ছাচারিতার ভয়াবহ রুপ দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে বারোটায় সেন্ট্রাল ঘাটে রিজার্ভ ও সাধারণ সার্ভিস দুভাবে নৌকা চলাচল করে। সাধারণ পাবলিক সার্ভিসের নৌকায় আরোহন করতেই শুরু হল বিড়ম্বনা। একজন দুজন করে যাত্রী আরোহন করতে করতে ১৫-২০ মিনিট সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। আর তাতে যাত্রীদের পীড়াপিড়িতে অবশেষে ২১জন যাত্রী নিয়ে রওনা করে নৌকাটি। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে নদীর পানি থেকে মাত্র ৬-৭ ইঞ্চি উচ্চতায় ছিল নৌকাটি। মাঝ নদীতে পৌঁছতেই পাশ দিয়ে একটি হাল্কহেড অতিক্রম করে যার ঢেউয়ে নৌকা ডুবার উপক্রম হয়। এসময় নৌকার ভেতরে থাকা নারী যাত্রীরা বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এছাড়া আশেপাশের প্রায় প্রত্যেকটি নৌকায় ১৯-২০ জন করে যাত্রী আরোহনের চিত্র দেখা যায়। তবে যাত্রীরা এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করলেও মাঝিরা তা কানে তোলেনা। উল্টো নানা কথা শুনিয়ে দেয়।

নৌকার যাত্রীরা জানায়, এই দৃশ্য প্রতিদিনের। যাত্রীদের জীবনের কোন মূল্য নেই। নৌকার মাঝিরা শুধু টাকা বোঝে, যত যাত্রী তত টাকা। এমনিতে ৩ টাকার ভাড়া ৫ টাকা করে আদায় করছে। তার উপরে ১০-১২ জনের পরিবর্তে ১৮-২০ জন করে প্রত্যেকটি নৌকার উঠানো হচ্ছে। এই অবস্থায় কোন লঞ্চ বা বাল্কহেড অতিক্রম করলে ঢেউয়ে দুর্ঘটনা ঘটার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া ধারণ ক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত যাত্রী আরোহন করলে তো যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। সবাই যার যার মত করে যাত্রীদের কাটছে ও হয়রানি করছে। এতে করে নৌকাতে নদী পারাপার এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

গার্মেন্টকর্মী রাবেয়া বেগম বলছেন, রাতের বেলায় নদী পারাপার হতে বেশি সমস্যা হয়। কারণ একটু রাত হতেই ট্রলার বন্ধ হয়ে যায়। সেই সুযোগে নৌকার মাঝিরা যাত্রীদের পকেট কাটার মহোৎসবে মেতে উঠে। ৫ টাকা করে ১৮-২০ জনের মত যাত্রী উঠায় নৌকাতে। কখনো কখনো যাত্রী সংখ্যা ২০ জন অতিক্রম করে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে নৌকার মাঝিরা উল্টো কথা শুনিয়ে দেয়। তাদের কাছে আমার জিম্মি হয়ে পড়েছি। তাই কিছুই করার নাই। এসমি সেলিম ওসমান এসব জেনে শুনেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। সাধারণ জনগণ কি করবে।

ব্যবসায়ী ছাত্তার মিয়া বলছেন, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে হয়। নৌকার মাঝিদের বলেও কোন কাজ হয়না। এ জেলার এমপি মেয়ররা ও নেতারা এ বিষয়ে কোন কথা বলেনা। আমার বলে কি হবে। যতদিন শীতলক্ষ্যা সেতু না হতে ততদিন বন্ধরবাসীর এ দুর্ভোগ থাকবেই।

নৌকা মাঝিরা বলছেন, আধা ঘণ্টা থেকে ১ ঘণ্টা পরপর সিরিয়াল পাওয়া যায়। এতোক্ষণ বসে থেকে অল্প যাত্রী নিয়ে পোশায়না। তাছাড়া সব মাঝিরা এরুপ যাত্রী নিয়ে নদী পারাপার হচ্ছে। ভাড়া সবাই যা নেয় আমিও তাই নিচ্ছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর