ভবন ধসে নিহত ওয়াজিদের জন্মদিন


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৫:০১ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার
ভবন ধসে নিহত ওয়াজিদের জন্মদিন

দুই সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে ছিল ওয়াজিদ। শান্তশিষ্ঠ আর নরম স্বভাবের হওয়ায় এলাকাজুড়ে সবারই ছিল আদরের। নিরব স্বভাবের হলেও পড়ালেখায় ছিল বেশ চৌকস। যে কারণে বাবা মায়ের চোখের মণি ছিল সে। ছেলের জন্মদিনের জন্য সাধ্যমত আয়োজনের চেষ্টা চালিয়ে চাচ্ছিলেন মা। কিন্তু হঠাৎ একটি দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে চলে যায় ওয়াজিদ। আর স্তব্ধ করে দেয় পুরো পরিবারকে।

ভবন ধসে নিহত ইফতেখার আহমেদ ওয়াজিদের (১২) জন্মদিন ১৬ নভেম্বর। কিন্তু জন্মদিনের সব আয়োজন একটি মাত্র দুর্ঘটনায় রূপ নেয় শেষ বিদায়ের আয়োজনে।

গত ৩ নভেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ মুন্সিবাড়ি এলাকায় ধসে পড়ে একটি চারতলা ভবন। এসময় ভবনের ভিতরে আটকে পড়ে খালাতো দুই ভাই মো. সোহায়ের (১২) ও ইফতেখার আহমেদ ওয়াজিদ (১২)। তাঁরা দুই ভাই ধসে পড়া ভবনটির নিচতলায় আরেক খালার বাসায় আরবি পড়তে গিয়েছিল। ভবন ধসের সেই ঘটনায় সোহায়েরের মৃত দেন স্থানীয়রা উদ্ধার করতে পারলেও আটকা পড়ে ওয়াজেদ। প্রায় ৪৮ঘণ্টা পর দেয়ালের চারফুট নিচ থেকে ওয়াজিদের মৃতদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। সেই ঘটনায় অকালেই প্রাণ দিতে হয় দুই ভাইকেই।

ঘটনার পরের দিন ৪ নভেম্বর ওয়াজিদের বাসায় গিয়েছিল এই প্রতিবেদক। ওয়াজিদের মায়ের বুকফাটা কান্না আর আহাজারিতে ভারি হয়ে ছিল বাড়ির পরিবেশ। বিলাপ করতে করতে ওয়াজিদের মা কাকলী বেগম বলছিল, এই মাসের ১৬ তারিখেই আমার মানিকের জন্মদিন। আমার মানিক কোথায় লুুকিয়ে আছে ওরে নিয়া আসো। আমি আমার মানিকরে ছাড়া বাঁচমু না। আল্লাহগো আমি আচল পাইতা বিইসা আছি তুমি আমার মানিকরে ফিরায়া দেও।’

পাশেই বসা ছিল একমাত্র ছেলে হারিয়ে বাকরুদ্ধ ওয়াজেদের বাবা রুবেল। পাথরের মত চুপ করে বসে আছে আর চোখ বেয়ে অঝোরে ঝড়ে পড়ছে একমাত্র ছেলে নিখোঁজের শোকে। তবে শেষ পর্যন্ত কেউ আশা ছাড়েনি।

সময় যত বাড়তে থাকে ততই ক্ষীণ হতে থাকে ওয়াজিদের জীবিত ফিরে আসার আশা। আর কান্না আরো বাড়তে থাকে ওয়াজিদের পরিবারে মাঝে। এর পরের দিন ৫ নভেম্বর বিকেল ৪টায় ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে উদ্ধর করা হয় ওয়াজেদের মৃতদেহ। শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে যায় ওয়াজিদের দের বাবা-মায়ের।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর