লোকাল বাসে পরিণত ‘বন্ধন ও উৎসব’ জনআস্থায় বিআরটিসি


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৪১ পিএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার
লোকাল বাসে পরিণত ‘বন্ধন ও উৎসব’ জনআস্থায় বিআরটিসি

‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ প্রতিপাদে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রোডে চলাচল করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) দ্বিতল বাস। ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ৩০টাকা ভাড়া ৩০ মিনিটে ঢাকা’ স্লোগানটিও ধরে রেখেছে এর চালক ও কর্তৃপক্ষ। যদিও যানজটের কারণে প্রায় সময় ৩০ মিনিটে পৌঁছাতে সম্ভব হয় না। তারপরও ভাড়া ৩০টাকা হওয়া ও সেবার মান ভালো হওয়ায় কোন অভিযোগ নেই যাত্রীদের।

১৬ নভেম্বর শনিবার সকালে সরেজমিনে শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, একটি মাত্র দ্বিতল বিআরটিসি বাস দাঁড়িয়ে আছে। একে একে যাত্রীরা টিকেট নিয়ে নিজ নিজ আসনে বসছেন। এর মধ্যে নারীদের জন্যও আলাদা ৯টি সিট রাখা হয়েছে। এগুলো ছাড়াও বাসটি ছিল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। যাত্রীদের তেমন কোন ভীড় বা হই হুল্লোড় নাই। নারী পুরুষ সারিবদ্ধ ভাবে কাউন্টারে দাঁড়িয়ে টিকেট সংগ্রহ করছেন। এগুলো ছাড়াও অতিরিক্ত বাস দাঁড় করিয়ে রেখে যানজট কিংবা রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি। যা দেখা গেছে বন্ধন পরিবহন, উৎসব পরিবহন সহ অন্যান্য বাসের ক্ষেত্রে।

জানা গেছে, উৎসব পরিবহন লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য কামাল মৃধা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কে বাস ভাড়া ৩০টাকা করা জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে তৎকালীন এসপি হারুন অর রশিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন। এছাড়াও সংবাদ সম্মেলন করেও ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন না হলেও সরকারি ভাবে বিআরটিসি ডাবল ডেকার বাস চালু হয়। যেটা শহরে বাস টার্মিনাল থেকে বায়তুল মোকারম পর্যন্ত যায়। এর জন্য ভাড়া নেওয়া হয় ৩০ টাকা। তবে উৎসব পরিবহন ও বন্ধন পরিবহন সহ অন্যান্য পরিবহনের ভাড়া এখনও ৩৬ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

বিআরটিসি বাসের যাত্রী ঐশী দাস বলেন, ‘আগে বন্ধন বাসে চলাচল করতাম। কিন্তু বিআরটিসি বাস হওয়ার পর আর ওইসব বাসে যাই না। কারণ বিআরটিসি বাসের সিটগুলো অনেক ভালো। তার চেয়ে বড় হলো ভাড়া ৩০ টাকা। ওইসব পরিবহন থেকে ৬ টাকা কম। আর বাস কাউন্টার ছাড়া রাস্তা থেকে যাত্রী নেয় না।’

হিমেল মিয়া বলেন, ‘বিআরটিসি সার্ভিস অনেক ভালো। সরকারি পরিবহন হিসেবে ভালো সার্ভিস দিচ্ছে। অভিযোগ বলতে কিছু নেই। তবে বাসের সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে। কেন না বাস কম থাকায় অনেক যাত্রী অন্য পরিবহনের যাতায়াত করতে বাধ্য হয়। এতে করে মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে।’

তিনি বলেন, এ পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের নজর রাখতে হবে। প্রায়ই অন্য পরিবহনের চালক হেলপার সহ মালিকপক্ষের লোকজন এটা বন্ধ করার পায়তারা করে আসছে। আগেও একাধিকবার বিআরটিসি বাস বন্ধ করে দিয়েছে। তাই এবার যেন বন্ধ না হয় সেটাই আমরা দাবি জানাচ্ছি।

কামাল মৃধা বলেন, পরিবহনের সন্ত্রাসীদের কারণে আমি উৎসব পরিবহন চালু করতে পারি নাই। কিন্তু সরকারি ভাবে ৩০টাকা ভাড়ায় যেহেতু বিআরটিসি বাস চালু হয়েছে তাতে আমি খুশি। যদি উৎসব চালু করতে পারতাম তাহলে আরো ভালো লাগতো। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর