জান্নাতুল ফেরদৌসের ইন্তেকাল ও এটিএম কামালের আক্ষেপ


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ১১:০১ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার
জান্নাতুল ফেরদৌসের ইন্তেকাল ও এটিএম কামালের আক্ষেপ

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, গত পরশু দিন জান্নাতুল ফেরদৌস ভাইয়ের সাথে একটি মামলায় হাজিরা দিয়েছি। জান্নাতুল ফেরদৌস হাজিরা দিয়ে খুব সময়ই দেরি করে থাকেন। কিন্তু সেদিন জান্নাতুল ফেরদৌস ভাই আমাকে বলেন, আপনার সাথে কথা আছে। আপনাকে আমি বাসায় নামিয়ে দিয়ে যাবো। তখন তিনি বলেন, কামাল ভাই আপনি জানেন আমি কিন্তু সুস্থ ছিলাম। কিন্তু পুলিশের মারধরের পর থেকেই আমি অসুস্থ হয়ে গিয়েছি।

এটিএম কামাল বলেন, আমরা যারা রাজনীতি করি তারা কিন্তু সামাজিক কাজও করি। জান্নাতুল ফেরদৌস ভাই একজন সামাজিক লোক ছিলেন। সবার সামনেই তাকেই কিন্তু একদিন পুলিশের হাতে নির্মমভাবে মারধরে শিকার হতে হয়েছিল। আমরা কেউ প্রতিবাদ করতে পারি নাই। এটা আমার কাছে খুব আক্ষেপ লাগে। আমরা রাজনীতি করে বলেই আমাদেরকে পুলিশ মারধর করবে, কেউ প্রতিবাদ করবে না। এটা আক্ষেপের বিষয়।

৪ ডিসেম্বর বুধবার রাতে দেওভোগ নাগবাড়ি এলাকার ইসলামাবাদ জামে মসজিদে জানাযার নামাজ শেষে মাসদাইর কবরস্থানে দাফন করা হয়। ওই সময়ে এটিএম কামাল এসব কথা বলেন।

৪ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মঙ্গলবার বিকালে তিনি হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে রাজধানীর মিডফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বুধবার সকালে তার শারিরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। দুপুরে তিনি মারা যান।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, তিন কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। জান্নাতুল ফেরদৌস নগরীর দেওভোগ নাগবাড়ি এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে।

তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, প্যানেল মেয়র আফরোজা হাসান বিভা, ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস।

জানাযায় উপস্থিত হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান, আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, মনিরুল ইসলাম রবি, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, শওকত হাসেম শকু, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজল, হোসিয়ারী এসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল আলম সজল, সহ সভাপতি কবির হোসনে, সাবেক সভাপতি রাশেদ সারোয়ার, বিকেএমইএ’র সহ সভাপতি মোরশেদ সারোয়ার, সাখাওয়াত হোসেন বাচ্চু।

অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, দল মত নির্বিশেষে সকলেই জান্নাতুল ফেরদৌসের জানাযায় উপস্থিত হয়েছেন। আপনাদের সকলেই উপস্থিতিই প্রমাণ করে তিনি কত ভাল মানুষ ছিলেন। আপনারা উপস্থিত হয়েছেন এজন্য আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। জান্নাতুল ফেরদৌস শুধু আমাদের কাছেই প্রিয় ছিলেন না, আপনাদের কাছেও প্রিয় ছিলেন। তিনি একজন ভাল মানুষ ছিলেন। যদি কোন ভুল করে থাকে তাহলে আপনারা সকলেই তাকে ক্ষমা করে দিয়েন। তার জন্য দোয়া করবেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, জান্নাতুল ফেরদৌস সামাজিক মানুষ ছিলেন। সামাজিক লোক ছিলেন। আমরা সাথে তার ভাল সম্পর্ক ছিল। রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও আমি তার জানাযায় উপস্থিত হয়েছি। আল্লাহ যেন তাকে বেহেসত নসিব করেন। সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে। আমরা মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করি। মানুষকে ভালবাসলেই আল্লাহ খুশি হন। আল্লাহ খুশি করার জন্য পরকালে যাওয়ার আগে যেন আমরা সবাই যেন ভাল কাজ করতে পারি। চলার পথে মানুষের ভুল থাকতেই পারে। আমরা সবাই তার জন্য দোয়া করবো।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের সবাইকে একদিন মরতে হবে। জান্নাতুল ফেরদৌসের মতো আমাদেরও একদিন এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যু স্বাভাবিক বিষয়। আমরা সবাই তার জন্য দোয়া করি।

অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, সকলের প্রিয়ভাজন ছিলেন জান্নাতুন ফেরদৌস ভাই। আমি তার হাত ধরেই রাজনীতিতে আসি। তিনি যখন জেলা যুবদলের আহবায়ক ছিলেন তখন আমি সিদ্ধিরগঞ্জ যুবদলের সভাপতি ছিলাম। এরপর আমি জেলা যুবদলের সভাপতি হয়েছি। তার সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক ছিল। তিনি একজন হাসোজ্জল মানুষ ছিলেন।

মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, আমাদের সহকর্মী ছিলেন জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি ভাল মানুষ ছিলেন। আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে জান্নাতুল ফেরদৌসের প্রতি ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। সেই সাথে তার কফিনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের টুপি রাখা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, সহ সভাপতি আক্তার হোসেন খোকন শাহ, সাধারন সম্পাদক মন্তাজউদ্দিন মন্তু ও দপ্তর সম্পাদক শওকত খন্দকার।

জান্নাতুল ফেরদৌস প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপির রাজনীতিতে আসেন। ১৯৮১ সালে জিয়া হলে বিজ্ঞানমেলায় আসেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেখানে রাষ্ট্রপতি জিয়ার চোখে পড়ে বুদ্ধিদীপ্ত জান্নাতুল ফেরদৌস। ওই সালেই বিএনপির অঙ্গ-সংগঠন ছাত্রদল গঠন করা হয়। ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির ৫১ সদস্যের মধ্যে জান্নাতুল ফেরদৌস ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ।

পর্যায়ক্রমে তিনি যুবদলের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরে জেলা যুবদলের আহবায়ক হন। ১৯৯১ সালে জেলা বিএনপির কমিটিতে তাকে দপ্তর সম্পাদক বানানো হয়। দুইবারের কমিটিতে তিনি ওই দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ জেলা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়াও তিনি বিএনপির সহযোগী সংগঠন জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর