নারায়ণগঞ্জে নিষিদ্ধ পলিথিনের ছড়াছড়ি


সিটি করেসপন্ডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:১৫ পিএম, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
নারায়ণগঞ্জে নিষিদ্ধ পলিথিনের ছড়াছড়ি

‘কোনটা ছোট আবার কোনটা বড়, কোনটা মোচড়ানো, কোনটা আবার ফ্রেশ, এমনি ভাবে চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্লাস্টিক। এসব প্লাস্টিকের স্তূপ জমে আছে চাষাঢ়া শহীদ জিয়া হল প্রাঙ্গনে। কে কবে কখন পরিস্কার করবে এর কোন নিশ্চয়তা নেই।’

জানা গেছে সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ জিয়া হলের মেলাকে অবৈধ ঘোষণা করে একদিনের মধ্যে উচ্ছেদ করা হয়। এর পর থেকেই মেলার স্টলগুলো থেকে এসব পলিথিন ফেলা হয়েছে। মালামাল নিয়ে গেলেও প্লাস্টিক বা পলিথিন পরিষ্কার করা হয়নি।

২৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শহীদ জিয়া হলের মতো পলিথিন ফেলা রাখা হয়েছে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতের পাশে ড্রেনে। যার ফলে ড্রেনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে শহরের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার শংকা বাড়ছে।

পলিথিন ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নারায়ণগঞ্জে অবাধে বাড়ছে পলিথিনের ব্যবহার। হাত বাড়ালেই মিলছে পলিথিন। নিষেধাজ্ঞার পরও শহরের প্রকাশে বিক্রি হচ্ছে পলিথিন। তবে এ পলিথিনের বেশির ভাগই হলো সাদা।

স্থানীয়দের মতে, পলিথিনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রশাসনের কঠোরতা কিংবা আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় এ সমস্যা সমাধান হচ্ছে না।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে ভারী কিংবা অল্প বৃষ্টিতে শহরের অন্যতম প্রধান বঙ্গবন্ধু সড়কে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। আর এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টির প্রধান কারণ পলিথিন কিংবা প্লাস্টিক। পলিথিন ড্রেনের মুখগুলোতে গিয়ে আটকে যায়। দীর্ঘদিন আটকে থাকলেও পঁচে কিংবা নষ্ট না হওয়ায় বৃষ্টি হলে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করে। এতেই নগরীতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। তবে এসব পলিথিনগুলো ড্রেনের মুখে আটকে যাওয়ার উৎস হলো ফুটপাতে অবৈধ দখল করে রাখা হকার। যাদের পণ্যের ব্যবহার পলিথিনগুলো নির্দিষ্ট কোন স্থানে না রেখে ড্রেনে ফেলার কারণে সৃষ্টি হয় এ সমস্যা।

পলিথিন সব থেকে বেশি ব্যবহৃত হয় শহরে দিগুবাবু বাজারে। যেখানে কাঁচা সবজি কিংবা যেকোন পণ্য কিনলেই দেওয়া হয় পলিথিন। ফলে এসব পলিথিন পণ্যের সঙ্গে সকলে বাসা বাড়িতে নিয়ে যায়। কেউ এ পলিথিনগুলো ময়লা নিষ্কাশনের গাড়িতে দিলেও অর্ধেকের বেশি ফেলা হয় রাস্তায় কিংবা ড্রেন। ফলে এ ভিতরে থাকা ময়লা আবর্জনা পঁচে গেলেও পলিথিনের কিছুই হয় না। ধীরে এগুলো পরিবেশের ক্ষতি করতে থাকে।

পলিথিন ব্যবহারকারী কয়েকজন ব্যাক্তি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, এখন বাজারগুলোতে কোনো কিছু কেনার পর দোকানিরা পলিথিন ব্যাগে তা ভরে দিচ্ছেন। পলিথিনের বিকল্প ব্যাগ থাকলেও দাম বেশি, তাই এর প্রতি ক্রেতা বা বিক্রেতাদের আগ্রহ কম।

দিগুবাবু বাজারে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারকারী সুলতান মন্ডল বলেন, দোকান থেকে কিছু কিনলে তারাই পলিথিন ব্যাগ দেয়। আমি কী করবো।

বিক্রেতা খোরশেদ আলম বলেন, ক্রেতারা ব্যাগ নিয়ে বাজারে আসে না। তাই পলিথিন না দিলে তাঁরা মাল ক্রয় করতে চান না। তাই উপায় না দেখে পলিথিন রাখতে হয়। পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ থাকলেও বাজারে এর চাহিদা বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, ক্রেতারা চটের কিংবা কাপড়ে ব্যাগ নিয়ে বাজারে আসলে আমাদের আর পলিথিন দিতে হয় না। এতে আমাদের অনেক লাভ হয়। কারণ প্রতিটি পলিথিনের জন্য টাকা খরচ হয়। সবাই যখন পলিথিনে পন্য নিবে না তখন আমরাও দিবো না। এ বিষয়ে ক্রেতাদের আগে বেশি সচেতন হতে হবে।

প্রসঙ্গত ২০০২ সালের ৮ এপ্রিল পরিবেশ অধিদপ্তর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পলিথিনের সব ধরনের শপিং ব্যাগ উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ, বিক্রি, বিক্রির জন্য প্রদর্শন, মজুদ ও বিতরণ নিষিদ্ধ করে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর