চাষাঢ়ায় মদ বিক্রি শুরু, রাতভর উল্লাস (ভিডিও)


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:০৩ পিএম, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
চাষাঢ়ায় মদ বিক্রি শুরু, রাতভর উল্লাস (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় বালুর মাঠ এলাকায় প্যারাডাইস ভবনে ‘ব্লু পিয়ার’ নামক রেস্টুরেন্ট উদ্বোধনে এবার আনুষ্ঠানিকভাবেই মদ বিয়ার বিক্রি শুরু হয়েছে। সম্প্রতি উদ্বোধনের সময়ে মালিক পক্ষ মূলত রেস্টুরেন্ট ব্যবসার কথা জানালেও ৪ ফেব্রুয়ারী থেকে সেখানে কিছুটা গোপনে মদ ও বিয়ার বিক্রি শুরু হয়েছে নিশ্চিত হওয়া গেছে। রাতে মদ পান শেষে অনেকেউ উল্লাস করতে করতে বের হয়।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘ব্লু পিয়ার চালু হয়ে গেছে। এসপি ডিসি অনুমোদন না দিলে আমরা এটা অনুমোদন দিবো না। তারা চাইলে এটা আবাসিক এলাকায় নিয়ে যাক। প্রয়োজনে সাইনবোর্ড সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় নিয়ে যাক। যেখানে খায় সেখানে নিয়ে এটা করা হোক। এখানকার লোকেশনটা ঠিক হয়নি।’

হাই আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে মেয়র আইভীও শুনলাম কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি রেস্টুরেন্ট অনুমোদন দিয়েছে তবে এখানে অন্য কিছু করা হলে ব্যবস্থা নিবেন। এছাড়াও নূর মসজিদের ইমাম সাহেব জুম্মার নামাজের বয়ানে বলেছেন, সকলের কাছে অনুরোধ করেছেন, যাতে এ মদের বার এখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আমরাও চাই এখান থেকে যেন সরে যায়। তারা বলছে ইয়াবার বিকল্প নাকি মদ। মাদক কোনটাই ভালো না।’

তিনি আরো বলেন, এখন যে ফ্লোরগুলোতে তারা আছে সেটা থেকে বাড়িয়ে আরো একটি ফ্লোর নিতে চাইছে। ১২ তলার একজন ভাড়াটিয়াকে তারা উঠিয়ে দিতে চাইছে। ওই ভাড়াটিয়াও অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে আমি এমপি, এসপি ও ডিসি সহ আলেম ওলামাদের সঙ্গেও কথা বলবো। যাতে এটা দ্রুত বন্ধ করা হয়।’

এ ব্যাপারে জেলা হেফাজতের আমীর আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘এসপি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন এখানে এটা হবে না। তবে এখন যেহেতু আবার হচ্ছে এ বিষয়ে আমরা প্রমাণ সংগ্রহ করছি। একই সঙ্গে এসপিকে ফোনে জানাবো। যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।’

এদিকে এ রেস্টুরেন্টের প্রচারণার জন্য নারায়ণগঞ্জের যেসব এলাকাতে বিদেশীরা বসবাস করছেন তাদের কাছে লিফলেট পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট একজন জানান, ভূইগড়ের রূপায়ন টাউন এলাকাতে প্রচুর বিদেশী বসবাস করেন। তাদের ফ্ল্যাট বাসায় ব্লুপিয়ারের লিফলেট পাঠানো হবে। এছাড়া আদমজী ইপিজেড, ফতুল্লা শিল্পাঞ্চল, ফতুল্লার বিসিক শিল্প নগরী এলাকা সহ শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণ কাজে জড়িত বিদেশীদের মধ্যেও ওই লিফলেট বিতরণ করা হবে।

ইতোমধ্যে ৪ ফেব্রুয়ারী রেস্টুরেন্ট বিয়ার ও মদ বিক্রি শুরু হয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিকজন নিশ্চিত করেছেন। তবে বিষয়গুলো ধামাচাপা দিতেও চলছে মালিক পক্ষের দেনদরবার।

লাইসেন্স অনুযায়ী এ বারের ওয়্যার হাউজে সর্বোচ্চ ৫ হাজার লিটার মদ, বিয়ার, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় রাখা যাবে। ওয়্যার হাউজের আয়তন ১১৪ বর্গফুট যার মধ্যে দৈর্ঘ্য ১৮ দশমিক ৭ ফুট ও প্রস্থ্য হবে ৬ দশমিক ১ ফুট। নিউজ নারায়ণগঞ্জের কাছে আসা অনুমতি পত্রে এ পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।

ওই পত্রে দেখা গেছে ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই মদের বারের অনুমোদন প্রদান করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এক বছর মেয়াদী এর লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের (২০২০) ৩০ জুন। ব্লু পিয়ার রেস্টুরেন্টের ৯তম তলায় বারটি চলবে লেখা আছে অনুমতি পত্রে। এতে আরো বলা হয়েছে, ৯ম তলায় ৪ হাজার ৩শ স্কয়ার ফুটের বারে ৮০টি আসন রাখা যাবে। বার প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা হতে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ২১ বছরের কম কাউকে পানীয় পরিবেশন করা যাবে না।

এ অবস্থায় কৌশল পরিবর্তন করে গত ২৯ জানুয়ারী উদ্বোধন করা হয়। তখন বলা হয়, এখানে কোন মদের বার চলবে না। মূলত এটা একটি রেস্টুরেন্ট। নারায়ণগঞ্জে বসবাসরত ৭শ বিদেশীর কথা চিন্তা করেই এটা তৈরি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানান, মূলত তিনটি ফ্লোর নিয়ে মদের বার ও রেস্টুরেন্ট চালু হয়েছে। এখন একটি ফ্লোরে রেস্টুরেন্ট চললেও বাকি দুটি ফ্লোর আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। রেস্টুরেন্ট কয়েকদিন চলার পরেই সেখানে বার চালু করা হবে। এ ক্ষেত্রে মালিক পক্ষ কিছুটা কৌশল নিয়েছেন। তারা দুটি ফ্লোরের জন্য রেস্টুরেন্ট রেখেছেন। আর বাকি একটি ফ্লোরে বারের অনুমতি নিয়েছেন। তাছাড়া তারা ইতোমধ্যে লাইসেন্সও গ্রহণ করেছেন। পলে এটা সরকারী আইনে বন্ধ করাটাও দুস্কর হবে। কারণ সিটি করপোরেশন হতে রেস্টুরেন্টের অনুমোদন ও মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর হতে মদের বারের যে অনুমোদন নেওয়া তার প্রত্যেকটি আলাদা ফ্লোর নেওয়া।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ব্লু পিয়ার রেস্টুরেন্টের আবেদন করেন ঢাকার সবুজবাগ থানাধীন বাসাবো মান্ডা এলাকার ফায়জুল খানের ছেলে রাশেদ খান। ট্রেড লাইসেন্স এর আবেদন ফরমে মো. রাশেদ খান ‘ব্লু পিয়ার রেস্টুরেন্ট’ নামে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার জন্য আবেদন করেন।

এ আবেদনের সঙ্গে অঙ্গীকার করেন, ‘সিটি করপোরেশনকে কোন ভুল তথ্য দেয়া হলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়াও বর্তমান জেলা প্রশাসন থেকে পর্যটন লাইসেন্স প্রাপ্তি, বিদ্যুৎ লাইন, ফায়ার সনদ, টেলিফোন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের চাহিদা অনুযায়ী ট্রেড লাইসেন্স বিশেষ প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করার আগে সিটি করপোরেশনের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পুনঃনিরক্ষনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করা হবে। তাছাড়া ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে কোন প্রকার অভিযোগ উথাপিত হলে সিটি করপোরেশন কর্তৃক তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পরে কোন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে আমার কোন আপত্তি থাকবে না। আপত্তি করলেও আইনগত গ্রহণযোগ্য হবে না।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর