মদের বারের প্যারাডাইজ ভবন মালিককে সেলিম ওসমানের নির্দেশ (ভিডিও)


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৪৬ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার
মদের বারের প্যারাডাইজ ভবন মালিককে সেলিম ওসমানের নির্দেশ (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ার বালুরমাঠ এলাকাতে যে ভবনে মদের বার হয়েছে সেই ভবন মালিককে উদ্দেশ্য করে এমপি সেলিম ওসমান বলেছেন, ‘আপনি আমার বন্ধু। আপনি নিজের টাকায় বিল্ডিং বানিয়েছেন। সেখানে মদের বার ভাড়া দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের মানুষ এখন আপনাকে ধিক্কার জানায়। আপনাকে বলছি কোন সন্ত্রাসীর কাছে বাড়ি ভাড়া দিবেন না। আপনি তাদের সাথে কথা বলেন। প্রয়োজনে আপনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন আমার কাছ থেকে রেস্টুরেন্ট ভাড়া নিয়ে এখন অবৈধভাবে মদের বার চালানো হচ্ছে। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ব্যবস্থা নিবে আমরা সবাই আপনাকে সহযোগীতা করবো। আপনাকে নির্দেশ করলাম কোন সন্ত্রাসীর কাছে বাড়ি ভাড়া দিতে পারবেন না। এখানে কোন রেস্টুরেন্ট বার চলবে না। নোটিশ করেন ভাড়াটিয়াকে চলে যেতে। কোন চাইনিজ রেস্টুরেন্টও চলবে না বন্দোবস্ত করবেন। নতুবা নারায়ণগঞ্জ শহর ছেড়ে চলে যাবেন।’

বার বন্ধ করার পরদিন এটা বন্ধের দাবীতে আন্দোলন করা স্থানীয় আলেম ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সেলিম ওসমান এসব কথা বলেন। ১৩ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের চাষাঢ়া রাইফেল ক্লাব মিলনায়তনে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শহরের ভাষা সৈনিক সড়ক যেটা বালুরমাট হিসেবে পরিচিত সেখানে রয়েছে প্যারাইজ ক্যাবলস গ্রুপের মালিকানাধীন বহুতল ভবন। এ ভবনের ৮, ৯ ও ১০ এ তিনটি ফ্লোর ৪০ লাখ টাকা অ্যাডভান্সে ভাড়া নিয়ে ‘ব্লু পেয়ার’ নামক একটি সুসজ্জিত বারের ডেকোরেশনের কাজ সম্পন্ন করেন এর মালিক গাজী মুক্তার। প্যারাডাইজের পক্ষে ভাড়া দিয়েছেন মোবারক হোসেন।

ডিআইটি মসজিদের খতিব ও হেফাজতে ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়ালে এর সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, হেফাজতে ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান রহমান সহ প্রায় ৩ শতাধিক ওলামা কেরামবৃন্দ।

সেলিম ওসমান বলেন, ‘সমস্যা সমাধানের জন্য সিটি করপোরেশন নামক প্রতিষ্ঠানের দায় ছিল। সিটি করপোরেশন এ ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছে। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের সদস্য হয়নি। অথচ তারা সিটি করপোরেশন হতে চাইনিজ রেস্টুরেন্টের নামে লাইসেন্স নিয়েছে। সিটি করপোরেশন ইচ্ছা করলেই পুলিশের সহযোগিতায় এটা বন্ধ করতে পারতেন। সিটি করপোরেশন ঊর্ধ্বতন মহলের ভয়ে কাজ না করেন তাহলে কি করবেন। সিটি করপোরেশন ঊর্ধ্বতন মহলের কাছে লিখতে পারতেন এটার বিরুদ্ধে যে এটা থাকলে শহর খারাপ হয়ে যাবে শহর নষ্ট হবে। তিনি এটা লিখতে পারতেন। কিন্তু তারা সেটা করেনি। সিটি করপোরেশনের মেয়রকে অনুরোধ করলাম ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করেন।’

‘আমি কোন রাজনীতির কথা বলছি না। আমি দায়িত্বের কথা বলছি। শহরকে সুন্দর করতে রাতারাতি যদি ভবন ভেঙে ফ্যাক্টরি ভেঙে রাস্তায় বসে দেওয়া হয় তাহলে কেন মদের লাইসেন্স ট্রেড লাইসেন্স বাতিল হলো না।’ বক্তব্যে প্রশ্ন তুলেন সেলিম ওসমান।

শহরের ভাষা সৈনিক সড়ক যেটা বালুরমাট হিসেবে পরিচিত সেখানে রয়েছে প্যারাইজ ক্যাবলস গ্রুপের মালিকানাধীন বহুতল ভবন। এ ভবনের ৮, ৯ ও ১০ এ তিনটি ফ্লোর ৪০ লাখ টাকা অ্যাডভান্সে ভাড়া নিয়ে ‘ব্লু পেয়ার’ নামক একটি সুসজ্জিত বারের ডেকোরেশনের কাজ সম্পন্ন করেন এর মালিক গাজী মুক্তার। প্যারাডাইজের পষে ভাড়া দিয়েছেন মোবারক হোসেন।

সেলিম ওসমান বক্তব্যে বলেন, ‘কোন মদ্য বিক্রির দোকান থাকতে পারবে না। আমি ইসলাম কায়েমের জন্য শান্তির জন্য কাজ করবো যতদিন বেঁচে থাকবো।’

তিনি ওলামাদের পরিপ্রেক্ষতে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেন, আপনারা আন্দোলনে নামার আগে প্রথমে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা উচিত ছিল। তাদের প্রশাসনের সিদ্ধান্ত এবং ব্যবস্থা গ্রহণে অনেক সুবিধা হতো। পত্রিকায় দেখেছি আপনারা এ সমস্যা সমাধানের জন্য নারায়ণগঞ্জ-৪ ও ৫ আসনের সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। গতকাল আমি আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলকে সাথে নিয়ে পুলিশ সুপারের সাথে আলোচনা করেছি। সেখানে বলেছি যদি আপনারা মদ বিক্রির প্রমান পান তাহলে ব্যবস্থা নিবেন। উনারা ব্যবস্থা নিয়েছেন। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

ওলামাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি আপনাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞা প্রকাশ করছি আপনারা আমাদের দুই ভাইয়ের উপর আস্থা রেখেছেন। আপনারা একটি ভাল কাজ করে দেখিয়েছেন। ইসলাম শান্তির ধর্ম। কোন বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়। যতদিন বাচবো আপনাদের সাথে নিয়ে শান্তির জন্য কাজ করবো। আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আপনারা যেমন ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা চিন্তা করে এমন একটি প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। ঠিক তেমনি ভবিষ্যত প্রজন্মকে সঠিক পথ দেখাতে আপনারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাদের সাথে কথা বলতে পারেন। তাদেরকে ইসলামের আলোকে বিভিন্ন দিক নিদের্শনা দিতে পারেন। কিভাবে রোজা রাখতে হবে কিভাবে এবাদত করতে হয়। কোন কাজটা ইসলামে হারাম করা হয়েছে। কোন উত্তেজনা নয় আপনারা নারায়ণগঞ্জে শান্তি বজায় রাখুন। আমিও আপনাদের সাথে একমত। নারায়ণগঞ্জ শহরের ওই জায়গায় এমন একটি প্রতিষ্ঠান চলতে দেওয়া হবেনা। যা কিনা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম অপরাধ মূলক কাজের দিকে উৎসাহিত করবে। ব্লু-পেয়ার ওই বারটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে না উঠে সেই ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য আমি নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে অনুরোধ রাখছি।

প্রসঙ্গত নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় বালুর মাঠ এলাকাতে প্যারাডাইজ ভবনে আলোচিত মদের বারটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ১২ ফেব্রুয়ারী বুধবার অধিদপ্তরের ডিজির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করে এ সিদ্ধান্ত দেন। দুপুরে পরিদর্শনের পর সন্ধ্যায় আর বন্ধের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

গত ২৯ জানুয়ারি ব্লু পিয়ার রেস্টুরেন্টের নামে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে মালিক পক্ষ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মদের বার নিয়ে মিথ্যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে দাবি করে রেস্টুরেন্টটির প্রধান নির্বাহী গাজী মোক্তার হোসেন বলেছিলেন, বারের বিষয়টি মিথ্যা প্রচারণা। এটি একটি রেস্টুরেন্ট। বার করার চিন্তাভাবনা তাদের নেই। সাংবাদিকদের ফাঁকি দেওয়ার কিছু নাই। একটি ভালো মানের রেস্টুরেন্ট করেছি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য। এখানে অনেক বিদেশী ক্রেতা থাকেন। তাদের জন্য বিশ্বমানের খাবার থাকবে এই রেস্টুরেন্টে।

তবে ফেব্রুয়ারীর শুরু হতেই আনুষ্ঠানিকভাবেই মদ বিয়ার বিক্রি শুরু হয়। এ নিয়ে একের পর এক সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি আলেম ওলামারাও এ নিয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ৭ ফেব্রুয়ারী জুমআর নামাজ শেষে ডিআইটি রেল কলোনী জামে মসজিদের সামনে গণ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে আবদুল আউয়াল ৭ দিনের সময় বেধে দিয়েছিলেন। বন্ধ না হওয়ায় ঘোষণা অনুযায়ী আগামী শুক্রবার ১৪ ফেব্রুয়ারীর কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছিল।

লাইসেন্স অনুযায়ী ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই মদের বারের অনুমোদন প্রদান করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এক বছর মেয়াদী এর লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের (২০২০) ৩০ জুন। ব্লু পিয়ার রেস্টুরেন্টের ৯তম তলায় বারটি চলবে লেখা আছে অনুমতি পত্রে। এতে আরো বলা হয়েছে, ৯ম তলায় ৪ হাজার ৩শ স্কয়ার ফুটের বারে ৮০টি আসন রাখা যাবে। বার প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা হতে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ২১ বছরের কম কাউকে পানীয় পরিবেশন করা যাবে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর