সাব্বির হত্যার দিনকে সন্ত্রাস ও মাদক বিরোধী দিবস ঘোষণার দাবী


প্রেস বিজ্ঞপ্তি | প্রকাশিত: ০৫:৩০ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার
সাব্বির হত্যার দিনকে সন্ত্রাস ও মাদক বিরোধী দিবস ঘোষণার দাবী

প্রয়াত ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠক সাব্বির আলম খন্দকারের ১৭ তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে দিবসটিকে সন্ত্রাস ও মাদক বিরোধী দিবস ঘোষণার দাবী জানানো হয়।

১৮ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বিশাল শোক র‌্যালী বের হয়।

র‌্যালী পূর্ব সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন খানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দাকার, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিস্বাস, বিএিনপি নেতা খন্দকার মনিরুল ইসলাম, জেলা ওলামা দলের সভাপতি শামছুর রহমান বেনু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজল, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মমতাজউদ্দিন মন্তু, আইনজীবি নেতা সরকার বোরহান, আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শরীফুল ইসলাম শিপলু, জেলা শ্রমিক দল সভাপতি নাসির উদ্দিন, মহানগর শ্রমিক দলের সাধারন সম্পাদক ফারুক হোসেন।

বক্তারা বলেন, আজ যেই মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্বে সরকার সহ দেশবাসী কথা বলছে সেই মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্বে সহীদ শাব্বির আলম খন্দকার নব্বইয়ের দশক থেকেই সোচ্চার ছিলেন। তিনি মাঠ পর্যায়ে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্বে প্রতিরোধ গড়ে তোলায় মাদক ও সন্ত্রাসের গডফাদারদের চক্ষুসূলে পরিণত হন। সমাজের ও দেশের চিন্তা করেই একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হয়েও অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েও তার হত্যার বিচার পায়নি তার পরিবার।

বক্তারা সমাবেশ থেকে হত্যাকারীদের ফাঁসি ও নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত করার এবং দাবি জানান ১৮ ফেব্রুয়ারীকে সন্ত্রাস ও মাদক বিরোধী দিবস ঘোষণার দাবী করে বক্তারা।

সাব্বির আলম খন্দকার গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এর সাবেক সহ সভাপতি ও ব্যবসায়ী নেতা ছিলেন। মৃত্যু তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাসেরও সহ-সভাপতি ছিলেন।

উল্লেখ্য যে ২০০২ সালের ২২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাস, চাঁদা ও মাদক মুক্ত করার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাসে অনুষ্ঠিত জেলার ৩২ টি ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে সেনাবাহিনীর মত বিনিময় সভায় শহীদ সাব্বির আলম খন্দকার ‘আমার জানাযায় অংশগ্রহণ করার আহবান জানিয়ে বক্তব্য শুরু করছি’ বলে নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নাম, ঠিকানা ও তাদের গডফাদারদের নাম প্রকাশ করেন এবং সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষনা করে নারায়ণগঞ্জবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। তখন শহীদ সাব্বিরের ব্যাপক তৎপরতায় ঝুট সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি গার্মেন্টস ব্যবসায়ী, চুন ফ্যাক্টরী ও নারায়ণগঞ্জবাসী নিস্তার লাভ করে।

চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীরা কোনঠাসা হয়ে পরলে তাদের গডফাদারদের ষড়যন্ত্রে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা প্রাতঃকালীন ভ্রমনকালে ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী শহীদ সাব্বির আলম খন্দকারকে গুলি করে হত্যা করে।

সাব্বির হত্যাকান্ডের পর তার বড় ভাই তৈমূর আলম বাদি হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্ল­া) আসনের তৎকালীন বিএনপি দলীয় এমপি গিয়াসউদ্দিন, তার শ্যালক জুয়েল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান, তার ভাই জিকু খান ও মামুন খান, শাহীন ওরফে বন্দুক শাহীন (ইতোমধ্যে ক্রসফায়ারে নিহত), রায়হান, মনির, এরশাদ, মনিরুল ইসলাম সজল, অহিদুল ইসলাম ছক্কু, সাঈদুর রহমান, সাঈদ হোসেন রিপন, রিয়াজুল ইসলাম, হালিম, টুক্কু মিয়া, কাওসার, মামুন, নাদিম হোসেন, মঙ্গল ওরফে লিটন, মোক্তার হোসেন, মনিরুজ্জামান শাহীন, নাজির ও আঃ আজিজ সহ ১৭ জনকে আসামী করে ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করেন।

সিআইডির এএসপি মসিহউদ্দিন দশম তদন্তকারী কর্মকর্তা দীর্ঘ প্রায় ৩৪ মাস তদন্ত শেষে তিনি ২০০৬ সালের ৮ জানুয়ারী আদালতে ৮ জনকে আসামী করে চার্জশীট দাখিল করেন। এতে মামলা থেকে গিয়াসউদ্দিন, তার শ্যালক জুয়েল, শাহীনকে অব্যাহতি দিয়ে সাবেক ছাত্রদল সভাপতি জাকির খান, তার দুই ভাই জিকু খান, মামুন খানসহ মোট ৮ জনকে আসামী উল্লে­খ করা হয়।

মামলার প্রধান আসামী গিয়াস উদ্দিনকে মামলা থেকে বাদ দেয়ায় মামলার বাদি তৈমূর আলম খন্দকার সিআইডির দেয়া চার্জশীটের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালের ২৪ জানুয়ারী আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিল করেন।

না রাজি পিটিশনে তৈমুর আলম বলেন, ‘গিয়াসউদ্দিনই সাব্বির আলম হত্যাকান্ডের মূল নায়ক। গিয়াসউদ্দিন ও তার সহযোগিদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা একটি গোজাঁমিলের চার্জশীট দাখিল করেছেন। পরবর্তিতে আদালত মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।’

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর