গডফাদাররা অধরা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৬:৫১ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার
গডফাদাররা অধরা

সন্ত্রাস, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে খুন হন ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার। বক্তব্য রাখেন গডফাদারের বিরুদ্ধে। কিন্তু সেটা প্রকাশ পায়নি। ততদিনে আততায়ীদের হাতে খুন হন তিনি। সেই খুনের ১৭ বছর অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু বিচার হয়নি।

নাম প্রকাশে একজন ব্যবসায়ী জানান, ২০০১ সালের ৩০ অক্টোবর বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট ক্ষমতায় আসে। এর পরে সারাদেশের মত নারায়ণগঞ্জেও চলে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারী থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ৮ মাসে ওই সময়ের এমপি গিয়াসউদ্দিন এমপি চুন কারখানাগুলো থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা চাঁদা তুলেছেন এমন অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনও হয়। সংবাদ সম্মেলনের এ খবরটি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ সহ দেশ ব্যাপি আলোচনার ঝড় তোলে। এতে এমপি গিয়াসউদ্দিন ও বাহিনীর সদস্যরা চুন ব্যবসায়ীদের উপর ক্ষুদ্ধ হয়।

সংবাদ সম্মেলন করার ৩ মাসের মাথায় ৩০ ডিসেম্বর সন্ত্রাসীরা উপর্যপুরি গুলি করে নৃশংসভাবে খুন করে চুন ব্যাবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুন্দর আলীকে। একই বছর খুন হয় সিদ্ধিরগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী মোজাফ্ফর হোসেন। এরপর সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে খুন হন ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার। এ ঘটনায় বড় ভাই তৈমূর আলম বাদী হয়ে গিয়াস উদ্দিন ও তার শালক জুয়েলসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড়ের আওয়ামী লীগ নেতা হাজী কফিলউদ্দিন খুন হয়।

বিএনপির একজন ব্যবসায়ী জানান, ২০০৩ সালে মূলত গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ এর যাত্রা মাত্র শুরু হয়। তখনই বিভিন্ন কারখানাতে গিয়ে বিএনপির লোকজন ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। এতে করে তখন বিকেএমইএ এর সহ সভাপতির পদে থাকা সাব্বিরকেও বেশ বেগ পোহাতে হয়। সে কারণেই তিনি ওই বছরের শুরুতে অপারেশন ক্লিন হার্ট চলাকালে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা সহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বক্তব্য রাখেন।

২০০২ সালের ২২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাস, চাঁদা ও মাদক মুক্ত করার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সে অনুষ্ঠিত জেলার ৩২টি ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে সেনাবাহিনীর মত বিনিময় সভায় শহীদ সাব্বির আলম খন্দকার ‘আমার জানাযায় অংশগ্রহণ করার আহবান জানিয়ে বক্তব্য শুরু করছি’ বলে নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নাম, ঠিকানা ও তাদের গডফাদারদের নাম প্রকাশ করেন এবং সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে নারায়ণগঞ্জবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন।

ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি একটি তালিকা তৈরি করেছেন। এসব গডফাদারদের নাম ও তালিকা তিনি প্রকাশ করবেন দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে, নারায়ণগঞ্জ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে। কিন্তু বক্তব্য দেওয়ার কয়েকদিন পরেই তাঁকে নির্মম হত্যার শিকার হতে হয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, কারা ছিল সেই গডফাদার। কারা ছিল ওই সময়ে ঝুট সেক্টর থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেক্টর দখলের প্রক্রিয়াতে। তখন শহীদ সাব্বিরের ব্যাপক তৎপরতায় ঝুট সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি গার্মেন্টস ব্যবসায়ী, চুন ফ্যাক্টরী ও নারায়ণগঞ্জবাসী নিস্তার লাভ করে।

ওই বক্তব্য প্রদানের কয়েকদিন পর ১৮ ফেব্রুয়ারী শহরের মাসদাইর এলাকায় নিজ বাড়ির অদূরে আততায়ীদের গুলিতে তিনি নিহত হন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর