নারায়ণগঞ্জে ৫০ কেজি পলিথিন পুড়িয়ে ২৫ লিটার জ্বালানী তেল


স্টাফ করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৭:১৫ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, সোমবার
নারায়ণগঞ্জে ৫০ কেজি পলিথিন পুড়িয়ে ২৫ লিটার জ্বালানী তেল

নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলীতে প্লাস্টিক ও পলিথিনের বর্জ্য এখন সম্পদে পরিণত হতে চলেছে। যে কেউ এগুলো এখন বিক্রি করতে পারবে। আর এসব বর্জ্য দিয়ে এখন তৈরি হবে জ্বালানী তেল ও গ্যাস।

নারায়ণগঞ্জ শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্দেশ্যে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জ্য ক্রয় শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। ২৪ ফেব্রুয়ারী সোমবার দুপুরে শহরের দুই নং রেল গেইট এলাকায় প্লাস্টিক-পলিথিন ক্রয় কেন্দ্রের উদ্বোধনের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

ফতুল্লা থানাধীন পঞ্চবটি এলাকায় সিটি করপোরেশনের ‘জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্র’ নামে একটি প্রকল্প রয়েছে। এ মেঘা অর্গানিক লিমিটেড তাদের লোকজন দিয়ে এ জায়গা থেকে টাকা দিয়ে পলিথিন ক্রয় করবে।

মেঘা অর্গানিক বাংলাদেশ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, কয়েক বছর ধরে এখানে শুধু জৈব সার উৎপাদন করা হতো। কিন্তু গত বছর ২ সেপ্টেম্বর মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। তেল পরিশোধন মেশিন না থাকায় এতোদিন আমরা পলিথিন সংগ্রহ করতে পারিনি। এখন মেশিন আছে তাই সংগ্রহ শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে ১২ জনের কাছ থকে প্রতি কেজি ১৫ টাকা ধরে ৮৫ কেজি পলিথিন বর্জ্য ক্রয় করা হয়। এখন থেকে প্রতি সপ্তাহের শনিবার সকাল ১১টায় ২নং রেল গেট এলাকায় পলিথিন ক্রয় করা হবে। নগরীর যেকেউ তাদের প্লাস্টিক ও পলিথিন এখানে বিক্রি করতে পারবেন।

তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে আরো বলেন, পলিথিন বা প্লাস্টিক হচ্ছে হাইড্রোকার্বন। পলিথিন বর্জ্য, প্লাস্টিক, পিভিসি বা টায়ারকে মূল্যবান জ্বালানি ডিজেল এবং কালো কার্বনে রূপান্তরের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রথমে পলিথিন বর্জ্য বা প্লাস্টিক পরিচ্ছন্ন করা হয়। পরে রিঅ্যাক্টরে লোড করে চুল্লি বন্ধ করা হয়। ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ৩৫০ থেকে ৭০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর পলিথিন বর্জ্য রূপান্তর শুরু হয় অপরিশোধিত তেল ডিজেল, পেট্রোল, ফার্নিশ অয়েল ও জ্বালানি গ্যাস এবং কার্বন।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিন ৫০ কেজি পলিথিন পুড়িয়ে ২৫ লিটার তেল পাওয়া যায়। ওই তেল পরিশোধন করে ১৫ লিটার ফার্নিশ অয়েল, ৮ লিটার ডিজেল, ২ লিটার পেট্রোল, ২০ কেজি কার্বন পাওয়া যায়। এছাড়াও জ্বালানি যে গ্যাস পাওয়া যায় সেটা সংরক্ষনের মেশিন না থাকায় সেটা পলিথিন পোড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ১০ ভাগ অপচয় হয়।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের কাছ থেকে উৎপাদিত তেল নিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও একটি পাম্প স্টেশন তেল নিতে আগ্রহী। আমরা আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রতিদিন ৫০০ কেজি পলিথিন পোড়াবো সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। তখন পাম্পের সঙ্গে চুক্তি করে তেল বিক্রি করা হবে। এতে করে পাম্প কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ উভয় লাভবান হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সাঈদ আনোয়ার হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় পলিথিনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জেল ও জরিমানা করা হয়। এমনকি বিভিন্ন কারখানা সিলগালা করা হয়েছে। কিন্তু মানুষ সচেতন না হওয়ায় এর ব্যবহার কমছে না। তাই আমরা মানুষকে সচেতন করতে স্কুল কলেজ, রাস্তা ঘাট, বাজার সহ বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। অচিরেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর