মামলার আসামী হচ্ছেন বরখাস্ত চেয়ারম্যান এহসান


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৩:৪৮ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
মামলার আসামী হচ্ছেন বরখাস্ত চেয়ারম্যান এহসান

বন্দর ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন ও ট্রেড লাইসেন্স খাতে ৩৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চেয়ারম্যান এহসানউদ্দিনকে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারির পর এবার তাকে আসামী করে মামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী ওই প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

এতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনকে সরকারী পাওনা আদায় আইন ১৯১৩ অনুযায়ী মামলা করে আদায়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারী বরখাস্ত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, যেহেতু নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলাধীন বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহম্মেদ এবং একই ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন ইউপি সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ এর বিরুদ্ধে জন্ম নিবন্ধন ফি বাবদ ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে ৭ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮০ টাকা, ২০১৬-২০১৭ অর্থ বহরে ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ৭২০ টাকা এবং ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৯শ টাকা সর্বমোট ৩৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা পরিষদের সংশ্লিষ্ট খাতে জমা প্রদান না করে আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সেহেতু নারায়ণগঞ্জ জেলার কন্দর উপজেলাধীন বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহম্মেদ এবং একই ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন ইউপি সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ এর বিরুদ্ধে জন্ম নিবন্ধন ফি বাবদ ৩৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা পরিষদের সংশ্লিষ্ট খাতে জমা প্রদান না করায় জনস্বার্থে তাঁর দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদে ক্ষমতা প্রয়োগে প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন নয় মর্মে সরকার মনে করে। সেহেতু নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলাধীন বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহম্মেদ কর্তৃক সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী উল্লেখিত ইউপি চেয়ারম্যানকে তাঁর স্বীয় পদ হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।

২০১৬ সালের ৪ জুন নির্বাচনে বন্দর ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির এহসানউদ্দিন ৮ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৬ হাজার ৬১২ ভোট। এখানে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন পারভেজ খান।

এরই মধ্যে জন্ম নিবন্ধন ও ট্রেড লাইসেন্স খাতে ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এহসানের ইউনিয়ন পরিষদের বরখাস্তকৃত সচিব মোহাম্মদ ইফসুফের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২৮ নভেম্বর বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহমেদ বাদী হয়ে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ‘ঘ’ অঞ্চল আদালতে এই মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার স্বাক্ষী হিসেবে রয়েছেন, বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুস সালাম, বন্দর ইউনিয়নের সচিব মোঃ শওকত হোসেন সৈকত, বন্দরের তিনগাঁওয়ের মিনার বাড়ী এলাকার বাসিন্দা সাগর সরকার, বন্দরের বাড়ীখালী এলাকার বাসিন্দা আল আমিন, বন্দরের কুশিয়ারা এলাকার বাসিন্দা মোঃ উজ্জল একই এলাকার বাসিন্দা হেলেনা আক্তার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই টাকা আত্মসাতের ঘটনায় এহসান নিজেও সম্পৃক্ত। তিনিও দায় এড়াতে পারেন না। তবে নিজে বাঁচতে এবার তিনি সচিবকে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন। মামলা ঠুকে সেই ফাঁসানোর প্রক্রিয়া আরো একধাপ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ এই দুই অর্থ বছরের জন্ম নিবন্ধন ও ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত ছয় মাসের ট্রেড লাইসেন্স খাতে আদায়কৃত অর্থ আত্মসাত করেছেন বন্দর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহম্মেদ ও তার সচিব (বরখাস্ত) মোহাম্মদ ইউসুফ। এই দুই খাতে মোট ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তদন্তে এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে উক্ত টাকা আদায় সহ ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসককে। এবং আত্মসাতকৃত টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর