নারায়ণগঞ্জে ৩ বাহিনীর উচ্ছেদ অভিযানেও সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:১০ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার
নারায়ণগঞ্জে ৩ বাহিনীর উচ্ছেদ অভিযানেও সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী

নারায়ণগঞ্জ শহরের অবৈধ হকার দখলদার ও হকার উচ্ছেদে যৌথ অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। এসময় কাউকে জরিমানা না করা হলেও বেশ কিছু আসবাবপত্র জব্দ করা হয়েছে। তবে এ অভিযান শেষে করার সঙ্গে সঙ্গেই আবারও দখল হয়ে গেছে রাস্তা সহ ফুটপাত। ফলে অভিযান চললেও সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী।

২৬ ফেব্রুয়ারী বুধবার দুপুর থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনে সহযোগিতায় ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আর ওই অভিযানের নেতৃত্ব দেন নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান ফারুকের নেতৃত্বে ওই অভিযানে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের অর্ধশতাধিক উচ্ছেদ কর্মী।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক শ্যামল পাল নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, দুপুর আড়াইটায় শহরের ভাষা সৈনিক সড়কের (বালুর মাঠ) অবৈধ দখলদার ও হকারদের উচ্ছেদে অভিযান শুরু হয়। পরে নবাব সলিমুল্লাহ সড়কের (রামকৃষ্ণ মিশনের সামনে) উভয় পাশে ফুটপাতের অবৈধ হকার উচ্ছেদ করা হয়। সব শেষে চাষাঢ়া থেকে নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাশে ফুটপাত দখল করে রাখা অবৈধ দোকানদার ও হকারদের উচ্ছেদ করা হয়।

তিনি বলেন, অভিযানে কাউকে জেলা জরিমানা করা হয়নি। তবে টেবিল, চেয়ার, টঙ দোকান সহ ২০ থেকে ২৫টি আসবাবপত্র জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের হুশিয়ারী দেয়া হয়েছে যদি পরবর্তীতে তাদের আবারও দখল করতে দেখা যায় তখন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ৫ টায় অভিযান শেষে হওয়ার পর আবারও ভাষা সৈনিক সড়ক, সলিমোল্লা সড়ক ও বঙ্গবন্ধু সড়কের উভয় পাশের ফুটপাত দখল করে নেয় দোকানদার ও হকাররা। আর সেই ছবি তুলতে গেলে দোকানদার ও হকাররা সাংবাদিকদের হুমকি ধমকি সহ অশোভনীয় আচরণ করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা বলেন, ফুটপাত হকারদের নিজেদের জায়গা মনে করেন। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় আছে তাই এখান থেকে তাদের কেউ উচ্ছেদ করতে পারবে না। পুলিশ প্রশাসন কঠোর না হলে কিংবা হকার নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এসব বন্ধ হবে না। এভাবে সকালে উচ্ছেদ করলে বিকেলেই আবার বসে পরে। এ উচ্ছেদ অভিযান জনগনের কোন উপকারে আসে না। বরং এতে প্রশাসনের অসাধু ব্যক্তিদের অর্থ আদায়ের সুযোগ হয়।

বিকেলে আবারও রাস্তা ও ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ার বিষয়ে শ্যামল পাল বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৬দিনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছেন। আমরা সরকারি বন্ধের দিন ছাড়া ধারাবাহিক অভিযান করবো। এর মধ্যে এমন কাউকে পেলে জেলা কিংবা জরিমানা করা হবে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি নগরবাসীর সুবিধার জন্য ফুটপাত ও রাস্তা ফাঁকা রাখতে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর