থাকছেন না কোয়ারেন্টাইনে, বিদেশী ৫ হাজারকে নিয়েই নারায়ণগঞ্জে ভয়


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:০২ পিএম, ১৯ মার্চ ২০২০, বৃহস্পতিবার
থাকছেন না কোয়ারেন্টাইনে, বিদেশী ৫ হাজারকে নিয়েই নারায়ণগঞ্জে ভয়

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও মানুষ মাস্ক, হ্যান্ড স্যানেটাইজার, গ্লাভস ইত্যাদি ব্যবহার শুরু করেছেন। যেকোন কাজ করার আগে কিংবা পরে সকলেই হাত ধোয়ার অভ্যাসের মধ্যে চলে আসছেন। অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে হাত ধোয়ার মেশিন ও স্যানেটাইজার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতো কিছুর পরও নারায়ণগঞ্জে সন্দেহজনক করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

ইতোমধ্যে ৬৯জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তবে ভালো হয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন ১১জন। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে আন্তঙ্কের নাম হয়েছে বিদেশে থেকে দেশে ফিরেছেন তাদের নিয়ে। তারা কেউ সরকারি নির্দেশনা মেনে ‘হোম কোয়ারেন্টিনে’ থাকছে না। এজন্য জরিমানাও করা হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ ইমতিয়াজ গণমাধ্যমকে জানান, গত ১ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে নারায়ণগঞ্জে এসেছে ৫ হাজার ৩৯ জন। যারা নারায়ণগঞ্জের ৫টি উপজেলার বাসিন্দা। এজন্য জেলা ও উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা তাদের পর্যবেক্ষণ করবেন যাতে হোম কোয়ারেন্টিনে ওইসব ব্যক্তি ১৪জন থাকেন। একই সঙ্গে তাদের স্বাস্থ্য চিকিৎসা বিষয়েও খোঁজ খবর রাখবেন।

এদিকে গতকাল বিকেলে শিবু মার্কেট এলাকায় সৌদি ফেরত ও কুয়েত ফেরত দুই ব্যক্তিকে ৫ হাজার করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও বন্দর এলাকায় ওইদিন সন্ধ্যায় আরো একজনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বৃহস্পতিবারও একজনকে জরিমানা করা হয়েছে।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক জানান,‘ সৌদি ফেরত ও কুয়েত ফেরত দুই ব্যক্তি সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাড়ির বাইরে শিবু মার্কেট এলাকায় ঘুরাঘুরি করছিল। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে জানালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের জরিমান করা হয়।

একই ভাবে বন্দর এলাকায় ঘুরাঘুরি করতে থাকায় সৌদি ফেরত ব্যক্তিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদেশ থেকে যারা এসেছেন কিংবা আসছেন তাদের সবাইকে বাধ্যতামূলক ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। সেটা তিনি কোরানা ভাইরাসে আক্রান্ত হোক আর না হোক। যারা হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবেন তাদের ১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। না দিলে তারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করবে। তার আগে যাতে কোন ভাবে কোরানা ভাইরাস ছড়াতে না পারে সেজন্য বাধ্যতামূলক হোমা কোয়ারেন্টিন রাখা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, ‘বিদেশ ফেরত লোকজনই আমাদের আতঙ্কের মূলক কারণ। কারণ কোরানা ভাইরাস আমাদের দেশে উৎপত্তি হয়নি। যারাই আমাদের দেশে আক্রান্ত হয়েছে কিংবা মারা গেছে সকলেই বিদেশ থেকে আক্রান্ত হয়ে এসেছে কিংবা বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তির সংস্পর্শে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছে। ফলে বিদেশীরা সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে না আসলে এ রোগ ছাড়াতে পারবে না। ফলে এ বিদেশীরাই আমাদের জন্য ভয়ের কারণ।

তিনি বলেন, ‘সরকার প্রত্যেক বিদেশ ফেরত ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টিন থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এটা অনেক ভালো নির্দেশনা। তবে এটা অনেকেই মানছে না। ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় বিদেশীরা বাড়ির বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান সহ হাটে বাজারে যাচ্ছে। যেখান থেকে ভাইরাস ছড়ানোর অশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু এজন্য আগে তাদের সচেতন হতে হবে।

ইউএনও নাহিদা বারিক বলছেন, বিদেশ থেকে যারাই এসেছেন তারা যদি সরকারি নির্দেশনা না মানে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জরিমানার পাশাপাশি জেল দেওয়া হবে।

সিভিল সার্জন মুহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, বিদেশ থেকে যারা এসেছেন তারা যদি সচেতন না হয় তাহলে আক্রান্ত প্রথমে তাদের পরিবারের সদস্যরাই হবে। পরে সেটা বাইরের মানুষের মধ্যে ছড়াবে। তার চেয়ে বরং সবাই নির্দেশনা মেনে চলা ভালো। সকলেই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়ার নির্দেশনা মেনে চলবেন।

তিনি বলেন, বিদেশীদের নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাদের বিষয়ে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা যেন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকে সেজন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি নেওয়া আছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর