শহর ফাঁকা হলেও ‘পেটের দায়ে’ রিকশা চালকেরা


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:৫১ পিএম, ২৩ মার্চ ২০২০, সোমবার
শহর ফাঁকা হলেও ‘পেটের দায়ে’ রিকশা চালকেরা

করোনাভাইরাস আতঙ্কে সারা বিশ্ব এখন স্থবির। বাংলাদেশেরও কয়েকটি জায়গা লকডাউন করা হয়েছে। দেশের সকল মার্কেট বিপনী বিতান ও সরকারি অফিস বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর সেই ধাক্কা ব্যবসায়ীদের শরীরে লাগার আগেই লেগেছে শ্রমজীবি খেটে খাওয়া মানুষের পেটে। যে তালিকায় বড় একটি সংখ্যা রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষ।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তথ্য মতে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স ধারী বৈধ রিকশার সংখ্যা প্রায় ১০হাজার। শহরে অবৈধ রিকশার সংখ্যা কত তাঁর হিসাব কারো কাছে নেই। এছাড়া ইজিবাইক ও ব্যাটারী চালিত অটো রিকশার সংখ্যা বৈধ রিকশার সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। সব মিলিয়ে এই পেশায় মানুষের সংখ্যা ২০ থেকে ২৫হাজার।

২৩ মার্চ সোমবার বিকেলে শহরের চাষাঢ়ায় সরেজমিনে দেখা যায়, যানবাহনের সংখ্যা কম থাকলেও পেটের দায়ে এখনো সড়কে অবস্থান করছে রিকশাচালকেরা। অন্যান্য সময়ে ব্যস্ত সময় পার করলেও এখন অসহায়ের মত যাত্রীর অপেক্ষায় সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শতশত রিকশা। আর একটি বাস আসলেই সেটিকে ঘিরে ধরছে যাত্রীর আশায়। কারণ শহরে সাধারণ মানুষের আনাগোনা কমে যাওয়ায় রিকশা চালকদের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো।

এ প্রসঙ্গে রিকশা চালক ইকবাল হোসেন নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘‘একদিনের রিকশা ভাড়া ১২০টাকা। রিকশা নষ্ট হলে ঠিক করার খরচ। এছাড়া দিনে একবার খাওয়া-দাওয়া করতে হয়। সব কিছু মিলিয়ে কম হলেও দিনে ২০০টাকা খরচ হয়। যদি ৫০০টাকাও আয় করতে না পারি তাহলে সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যায়। কারণ রিকশা চালানোর টাকা দিয়ে পরিবারের খাবার, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, বাচ্চার পড়ালেখার খরচ চালাইতে হয়। কিন্তু সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভাড়া হইছে মাত্র ১৬০টাকা। এই টাকা দিয়ে সংসার কিভাবে চালাবো সেই চিন্তাতেই ঘুম নাই। করোনাভাইরাস নিয়ে চিন্তা করার সময় কই?’’

আরেক রিকশা চালক খালেক মিয়া নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, সকাল দিকে শহরে মানুষ বেশি ছিল। কিন্তু বিকেল হওয়ার আগেই শহর খালি। বাড়তি কোনো ভাড়া নাই। তাই সব রিকশা এখন চাষাঢ়াতে সিরিয়ালে দাঁড়ায়া আছে। কারণ ঢাকা থেকে বাস আসলে সেই বাস থেকেই যাত্রী পাওয়া যায়। এছাড়া আর কোনো যাত্রী পাওয়া যায় না। করোনার ভয় তো লাগেই কিন্তু ক্ষুধাও তো লাগে।

সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে এসব খেটে খাওয়া এসব মানুষের প্রত্যাশা, যদি সরকারিভাবে কোন ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে হয়তো ভাইরাসে আক্রান্ত না হলেও খুব দ্রুতই না খেয়ে মারা যাবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ধীরে ধীরে নারায়ণগঞ্জ শহর ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। এছাড়া সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লক্ষাধীক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক এখন বাসায় অবস্থান করছে। শহরে হকার বসা ও চায়ের দোকান বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এছাড়া সকল সরকারি অফিসগুলো সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। যে কারণে নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ার মত ব্যস্ততম এলাকা এখন মানুষের অভাবে খাখা করছে। যার প্রভাস সরাসরি পড়তে শুরু করেছে খেটেখাওয়া এসব মানুষগুলোর উপর।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৩ রোগীর দুইজন বসবাস করতো নারায়ণগঞ্জে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে আরো একজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশে এখনো পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩জনের। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৩জন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর