করোনা সচেতনতায় বস্তিগুলোতে ঢুকে না কেউ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:৫৬ পিএম, ২৪ মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার
করোনা সচেতনতায় বস্তিগুলোতে ঢুকে না কেউ

করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে মানুষকে সচেতন করতে প্রচারণ প্রচারণা, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উপকরণ বিতরণ সহ জনসমাগম নিষেধ করেছে প্রশাসন। কিন্তু এসব উদ্যোগের পরও আতঙ্ক কমছে না। আর আতঙ্কের প্রথমে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিম্ন শ্রেনি পেশার মানুষেরা। যার প্রধান কারণ হলো ঘনবসতিপূর্ণ বস্তিতে বসবাস করা। এখনও পর্যন্ত তাদের নিরাপত্তা নিয়ে কোন কার্যক্রম দেখা যায়নি।

জানা গেছে, শিল্পনগরী হিসেবে নারায়ণগঞ্জে বসবাসকারী বেশিরভাগই বহিরাগত। এছাড়া এখানে শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যাই তুলনামূলক বেশি। তার মধ্যে নিম্ন শ্রেনি পেশার মানুষ যেমন রিকশা চালক, দিনমজুর, গার্মেন্টস শ্রমিক, সুইপার, গৃহকর্মী ইত্যাদি সংখ্যা ৮০ শতকরা। আর যারা বসবাস করেন নগরীর বস্তি বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়।

স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে গেলে সুস্থ্য ব্যক্তিও আক্রান্ত হতে পারেন। এজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ঘন ঘন হাত ধোয়া কিংবা স্বাস্থ্য সুরক্ষার উপকরণ ব্যবহার করা। যেখানে নি¤œ শ্রেনির পেশার মানুষের প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিন যোগাড় করতে হয় সেখানে এসব সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা অকল্পনীয়।

নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত বিদেশ থেকে নারায়ণগঞ্জে এসেছেন ৫ হাজার ৩৯ জন। যারা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বাসিন্দা। তাদের অনেকেই এখনও পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে থাকছেন না। যার জন্য একাধিক ব্যক্তিকে জরিমানাও করা হয়েছে। এছাড়াও যারা আক্রান্ত হয়েছেন এবং আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তাদের প্রত্যেকেই আক্রান্ত হয়েছেন বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের সংস্পর্শে গিয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহর অঞ্চলেই একাধিক বস্তি কিংবা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা রয়েছে একাধিক। যার মধ্যে টানাবাজার কলোনী, মিনাবাজার কলোনী, জমিখানা, নিতাইগঞ্জ ঋষিপাড়া বস্তি, পাইকপাড়া, চাঁদমারী বস্তি, খানপুর, তল্লা, উত্তর চাষাঢ়া, ইসদাই ও মাসদাইর সহ ফতুল্লা থানাধীন বেশ কয়েকটি। এসব এলাকায় বসবাস কারী অর্ধেকের বেশি নারীরা গৃহকর্মী বা গার্মেন্টস শ্রমিক আর পুরুষরা রিকশা চালক, দিনমজুর, ক্লিনার ইত্যাদি। ফলে প্রত্যেকেই জীবিকার প্রয়োজনে শহরের বেরিয়ে পরছেন। আক্রান্ত কিংবা সন্দেহ জনক কোন কিছু যাচাই বাছাই ছাড়াই মানুষের সংস্পর্শে চলে আসছেন। এতে করে দ্রুত বস্তিতে বসবাসকারীদের মধ্যে ভাইরাস ছাড়ানোর আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা নি¤œ শ্রেনির পেশার হলেও তাদের মধ্যমে অন্যদেরও ছাড়ানোর শঙ্কা বাড়ছে।

এসব এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই করোনা ভাইরাস নাম শুনলেও মূলত এটি কি? আদৌ কিভাবে ছাড়ায় এবং এর থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় কি কেউ জানে না। অনেকেই নিজ নিজ কর্মস্থলে যাচ্ছেন কিন্তু মাস্ক, হ্যান্ড স্যানেটাইজ ব্যবহার করছেন না। নূন্যতম হাত ধোয়া কিংবা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকার কোন লক্ষণও দেখা যায়নি। অনেকেই হাত না ধোয়া ছাড়া খাবারও খাচ্ছেন।

টানবাজার কলোনীর বাসিন্দা হারাদন দাস বলেন, ‘প্রতিদিন মানুষের বাসা বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করি। আমাদের কোন গ্লাভস কিংবা মাস্ক নেই। যে টাকা বেতন পাই তাতে চাল ডাল কিনবো না এগুলো কিনবো।’

চাঁদমারী বস্তিতে থাকেন শেফালী বেগম। তিনি উত্তর চাষাঢ়া এলাকায় গৃহকর্মীর কাজ করেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিন বাসায় কাজ করি। তাদের সব কাজ করে দেই। একদিন কাজে না গেলে বেতন কম দিবে। তাই প্রতিদিনই কাজে যাচ্ছি। করোনা ভাইরাস নিয়ে তারাও কখনো কিছু বলেনি।

তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাস নাম শুনেচ্ছি। কিন্তু এর থেকে কিভাবে বাঁচবো জানি না। আমাদের বাসায় টিভিও নাই আর আমরা পড়ালেখাও জানি না। আর বস্তিতে এখনও পর্যন্ত কেউ এ ভাইরাস নিয়ে কিছু বলেনি। যে জানতে পারবো।’

রিকশা চালক সিদ্দিক মিয়া বলেন, এখন সবাই মাস্ক পড়েন তাই আমি নিজেও পরেছি। তাও এটা দুই সপ্তাহ আগে চাষাঢ়া এলাকায় বিতরণ করেছিল তখন সেখান থেকে নিয়েছি। ময়লা হয়নি তাই ধোয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, আমরা সারাদিন রোদের মধ্যে রিকশা চালাই আমাদের করোনা ভাইরাস হবে না। আর রিকশায় যারা চড়েন তাদের কার ভাইরাস আছে, নাকি নাই আমি তো বুঝতে পারবো না। ঝুঁকি নিয়েই রিকশা চালাতে হচ্ছে।’

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা ভাইরাস সচেতনতায় নির্দেশনা জানিয়ে মাইকিং করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন কাউন্সিলর ব্যক্তি উদ্যোগে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উপকরণ বিতরণ করছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর