নারায়ণগঞ্জ ছাড়ছে মানুষ, ফাঁকা হচ্ছে বন্দরনগরী


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১১:১১ পিএম, ২৪ মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার
নারায়ণগঞ্জ ছাড়ছে মানুষ, ফাঁকা হচ্ছে বন্দরনগরী

করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়ে ইতোমধ্যে ১০ দিনের জন্য সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছেন সরকার। কিন্তু আর এ সুযোগে গ্রামের বাড়ি ছুটছেন শহরের কর্মব্যস্ত মানুষেরা। সরকারি পরবর্তী ঘোষণার পরই তার শহরমুখী হবেন জানান তারা।

২৪ মার্চ মঙ্গলবার দুপুর থেকেই শহরের বাস স্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলটেশনে ভীড় করতে দেখা গেছে যাত্রীদের। তবে এর মধ্যে ট্রেন ও লঞ্চ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। আর কম সংখ্যক বাস চললেও তাতে ছিল যাত্রীদের উপচেপড়া ভীড়। আবার অনেকেই লঞ্চ ট্রেন না পেয়ে বাসা ফিরে গেছেন।

বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাস টার্মিনালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে বন্ধন, উৎসব সহ বেশ কয়েকটি পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকলেও ঢাকাগামী বিআরটিসি, আনন্দ পরিবহন চলছিল। অন্যদিকে শিমরাইলগামী বন্ধু ও বাঁধন পরিবহন দুটাও চলছিল কম সংখক। ফলে এসব যানবাহনে যাত্রীদের ছিল প্রচন্ড ভীড়। অনেকেই আবার গন্তব্যে যাওয়ার গাড়ি না পেয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

মুন্সিগঞ্জের যাত্রী আলিফা বেগম বলেন, ‘সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে বিকেল ৪টার দিকে লঞ্চ টার্মিনালে আসেন মুন্সিগঞ্জ যাওয়ার জন্য। তবে এসে দেখতে পান টার্মিনালের গেটে তালা দেওয়া। পরে স্থানীয়রা বলেন, দুপুর থেকে লঞ্চ বন্ধ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ, রামচন্দ্রপুর সহ কোন পথে লঞ্চ চলছে না।’

তিনি বলেন, ‘মুন্সিগঞ্জ যাওয়ার জন্য কোন গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। লেগুনা, বাস কিছুই নেই। সিএনজিও ৬০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা চাইছে।’

সরকার ঘরে থাকতে বলছে তাহলে কোথায় যাচ্ছেন? প্রশ্নের জবাবে আলিফা বেগম বলেন, ‘গার্মেন্টস বন্ধ দিয়ে দিয়েছে। এখানে থাকলে যে খরচ হবে তা চালাতে কষ্ট হবে। আর বন্ধ ১০দিন দিয়েছে। কিন্তু এটা যদি পরে বাড়িয়ে দেয় তখন কোথায় যাবো। তখন তো যানবাহনও পাবো না তাই বাড়ি চলে যাচ্ছি।

বিআইডব্লিউটিএ এর জনসংযোগ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন মজুমদারের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে নারায়ণগগঞ্জ থেকে চলাচলকারী সব ধরনের যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

উল্লেখ্য নারায়ণগঞ্জ থেকে ৭টি রুটে ৭০টি লঞ্চ চলাচল করে থাকে। নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ রুটে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬-৭ টা পর্যন্ত ২০ মিনিট পর পর লঞ্চ ছেড়ে যায়। এই রুটে ২৫টি লঞ্চ চলাচল করে। নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুর রুটে ১৫টি, মতলব-মাছুয়াখালী রুটে ১৯টি, হোমনা-রামচন্দ্রপুর ১টি, ওয়াবদা, সুরেশ্বর-নরিয়া (শরিয়তপুর) কয়েকটি লঞ্চ চলাচল করে থাকে।

বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা তালেব উদ্দিন বলেন, কালীবাজার ফ্রেন্ডস মার্কেটে চাকরি করি। এখন দোকান বন্ধ দিয়ে দিয়েছে। যে হোটেলে খাই সেখানেও খাওয়াবেনা বলে দিয়েছে। কোথায় খাবো সবই তো বন্ধ। আর বাইরে খেতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন। তাই বাধ্য হয়ে বাড়িতে চলে যাচ্ছি।

উকিলপাড়া হোসিয়ারী কারখানার কয়েকজন শ্রমিক জানান, হোসিয়ারী কারখানা বন্ধ দিয়ে দিয়েছে। এখন কোথায় ঘুমাবো, কোথায় পানি পাবো, খাবো কোথায় এসব কিছু চিন্তা করে বাড়িতে চলে যাচ্ছি। আজকে না গেলে কাল থেকে আর গাড়িও পাবো না। তাই রাত হলেও বাড়িতে চলে যাচ্ছি।

রমিজ উদ্দিন বলেন, এখানে ঘরের ভিতরে বসে থাকতে হবে। ছেলে মেয়েরা সবাই গ্রামে থাকে। তাই গ্রামে চলে যাচ্ছি। অফিস খোললে আবার চলে আসবো। ছুটিটা বাড়িতেই থাকি।

বিআরটিসি বাস পরিচালনা কমিটির সভাপতি কামাল মৃধা বলেন, সরকার এখনও বাস বন্ধের কোন নোটিশ দেয়নি। যার জন্য গাড়ি চলছে। বন্ধ ঘোষণা দিলেই সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে। গত কয়েক দিনের তুলনায় আজকে যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি। কয়েক মিনিটের মধ্যে সব সিট ভরে যাচ্ছে। অনেকে দাঁড়িয়েও যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমরাও তাদের যাতায়াত কম করার জন্য বলছি। কিন্তু সবাই শহর ছেড়ে গ্রামের উদ্দেশ্যে যাচ্ছে যার জন্য বললেও শুনছে না। তারপরও যাত্রীদের জন্য হ্যান্ডওয়াশ রাখা হয়েছে। যাত্রীদের হাতে দেওয়া হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর