করোনা আতঙ্কে থমকে গেছে নারায়ণগঞ্জ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১১:২৯ পিএম, ২৫ মার্চ ২০২০, বুধবার
করোনা আতঙ্কে থমকে গেছে নারায়ণগঞ্জ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের হানায় পুরো বাংলাদেশ কাঁপছে। এর প্রভাব নারায়ণগঞ্জেও পড়েছে। সারা দেশের সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। গণপরিবহন বন্ধের ঘোষণায় এর কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। আর ঘোষণা অনুযায়ী সকল মার্কেট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ। এর মধ্যে ২৬ মার্চ থেকে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া করোনাভাইরাস আতঙ্কে সবাইকে বাসায় নিরাপদে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। জনসমাগত ঠেকাতে পুলিশ প্রশাসন সহ সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করছে। এতে করে জেলার প্রায় সকল দোকানপাঠ বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফুটপাত অনেক আগেই ফাঁকা হয়ে পড়েছে। জনগণও আগে ভাগে গ্রামে চলে গেছে। এতে করে পুরো শহর জনশূন্য হয়ে থমকে গেছে। কোথাও কোন শোরগোল নেই, নেই পথচারীদের পদচারণা। এক কথায় করোনা আতঙ্কে পুরো নারায়ণগঞ্জ শহর থমকে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ড থেকে গুটি কয়েক বাস চলাচল করছে। তবে লঞ্চ ও ট্রেন সার্ভিস একেবারে বন্ধ রয়েছে। যেকারণে বাস স্টেশনে কিছু যাত্রীর দেখা মিললেও অন্য কোন যাত্রীর ছিটে ফোটাও দেখা যাচ্ছেনা। শহরের কালিরবাজার এলাকার ফুটপাত সহ সকল মার্কেট বন্ধ রাখা হয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে বঙ্গবন্ধু সড়কেও। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সকল দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যদিও শাখা রোডে মোদি দোকান সহ নিত্যপণ্যের দোকনগুলো খোলা ছিল। কিন্তু তাতেও শোরগোল ছিলনা। শহরের সড়কে গুটি কয়েক পথচারী ছাড়া কারো দেখা মিলেনি। যেখানে অন্য সময়ে পথচারীদের আনাগোনায় পুরো শহর মুখরিত থাকতো। সেখানে জনশূন্য পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর তাতে করে পুরো শহর থেকে একদিনের ব্যবধানে থমকে গেছে।

এখানে উল্লেখ্য প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রামন ঠেকাতে সকল মার্কেট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, হাসপাতাল, ওষুধের দোকান ও কাঁচাবাজার ছাড়া বাকি সব দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত মাত্রায় ছোয়াচে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে জনসমাগত শূন্য রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে প্রথমে র‌্যাব ও পুলিশ প্রশাসন মাঠে নামলে পরবর্তীতে যোগ হয় সেনাবাহিনী। এর ফলে জনগণ এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। আর বিনাকারণে সড়কেও বের হতে পারছেনা। এর মধ্যে লম্বা ছুটির কারণে অনেকে গ্রামের বাড়িতে পাড়ি জমিয়েছে। এতে করে পুরো শহর ফাঁকা হয়ে পড়েছে। আবার অনেকে শহরে অবস্থান করলেও করোনা ভাইরাস ও পুলিশ প্রশাসনের ভয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেনা। তাছাড়া ঘর থেকে বের হয়েও কিছু পাওয়া যাচ্ছেনা। যেকারণে পুরো শহর কার্যত অর্থে ফাঁকা হয়ে থমকে গেছে।

পথচারী জামান মিয়া বলছেন, গলাচিপায় দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করি। কিন্তু ঈদের ছুটি ছাড়া এতো নিরব কখনো দেখিনি। পথচারীদের পদচারণায় পুরো শহর গমগম করতো। কিন্তু করোনা আতঙ্কে পুরো শহর নিরব হয়ে গেছে। সবকিছু যেন থমকে গেছে।

ফুটপাতে মাস্ক বিক্রি করা কালু মিয়া বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবত এই শহরে বিভিন্ন জিনিসপত্র ফেরি করে বিক্রি করতাম। কিন্তু এখন করোনা আতঙ্কে মাস্কের দাম বৃদ্ধির ফলে এই ব্যবসা করছি। কিন্তু শহরে লোক না থাকায় বেচাবিক্রি অনেক খারাপ। ঈদের ছুটি ছাড়া এতো ফাঁকা কখনো দেখিনি। মনে হচ্ছে শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে।

নগরবাসী রানী বেগম বলছেন, শহরে বের হতেও ভয় লাগছে। কারণ আশে পাশে কাউকে দেখছিনা। এতে করে ভয় আরো কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে। ঈদের ছুটিতেও নারায়ণগঞ্জ শহর এতো নিরব থাকেনা। তখনো কিছুটা শোরগোল থাকে। কিন্তু করোনা আতঙ্কে এখন পুরো শহর ফাঁকা হয়ে গেছে। হঠাৎ করে যেন পুরো শহর থমকে গেছে।

ছাত্তার মিয়া বলছেন, এখন মনে হচ্ছে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে বেশি ভাল হতো। কথা বলার মত কোন লোক খুঁজে পাচ্ছিনা। অনেকে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে। আর যারা শহরে আছে তারা সবাই বাড়িতে। করোনা আতঙ্কে কারো বাড়িতেও যেতে পারছিনা। আর কেউ বাড়ি থেকেও বেড় হচ্ছেনা। এতে করে পুরো ফাঁকা শহরে অবস্থান করছি। ভাবতেই কেমন যেন লাগছে। তবে এমন চিত্র আগে কখনো দেখিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাণচঞ্চল নারায়ণগঞ্জ শহর হঠাৎ করে থমকে গেছে। করোনা আতঙ্কে এর সব আনন্দ-উল্লাস হারিয়ে গেছে। চায়ের কাপে শহীদ মিনারে ও বিভিন্ন টি স্টলে আর আড্ড জমছেনা। আড্ডাবাজদের দল কোথায় যেন পাড়ি জমিয়েছে। করোনা আতঙ্ক এতোটাই জাপটে ধরেছে যা সবকিছুকে থমকে দিয়েছে। ঠিক তেমনই একটি শহরে পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ। যদিও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসমাগম শূন্য করা ছাড়া কোন উপায় নেই। কিন্তু এই শূন্যতা নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে আরেকটি অধ্যায় রচনা করেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর