অতিঝুঁকিতে পাড়া মহল্লা, কমছে না আড্ডাবাজি


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৮:৫৩ পিএম, ২৬ মার্চ ২০২০, বৃহস্পতিবার
অতিঝুঁকিতে পাড়া মহল্লা, কমছে না আড্ডাবাজি

নারায়ণগঞ্জে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মাঠে নেমেছে র‌্যাব। শহরে জনসমাগত কমিয়ে সংক্রামক এই রোগটি প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছেন। এতে করে শহরের প্রধান বঙ্গবন্ধু সড়কটি জনসমাগত শূন্য হলেও পাড়া মহল্লায় ঠিকই জনসমাগম দেখা যাচ্ছে। পাড়া মহল্লাতে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে জনসমাগম আগের মত আছে। উল্টো বিভিন্ন এলাকাতে এই ব্যাপারে সচেতনতার কোন বালাই দেখা যাচ্ছেনা। এতে করে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিচ্ছে। এর ফলে প্রশাসনের সেই উদ্যোগ বিফলে যাবে।

এরই মধ্যে দুইদিন ধরে সেনাবাহিনীর সদস্য, র‌্যাব ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে টহল দিচ্ছে। অযথা ঘুরাফেরার কারণে কয়েকজনকে আটকে কানে ধরে উঠবসও করাচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা হতে লোকজন ফোনে জানাচ্ছেন তাদের পাড়া মহল্লাতে লোক সমাগম কিছুতেই কমানো যাচ্ছে না। সাইনবোর্ড আলামিন জামে মসজিদ এলাকার একজন জানান, তাদের এলাকাতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর প্রচুর লোকজন ছিল।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূর-এ-আলম বলেন, আমরা ঘুরে প্রতিটি এলাকার মানুষকে সচেতন করছি তাঁরা যাতে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না আসেন। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় আড্ডা, মানুষের জটলা যেখানে দেখছি সেটাকে দুর করার ব্যবস্থা করছি। কেউ যদি এসকল নির্দেশনা না মানে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থাগ্রহণে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জেল জরিমানা করে হলেও স্বাস্থ্য সচেতনতার নিয়মকানুন মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। যতদিন এই পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণ না হয় ততদিন আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব ঠেকাতে সারাদেশেই জনসমাগম কমানোর নির্দেশ দেয় সরকার। যে কারণে বিভিন্ন সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচীও সংক্ষিপ্ত করা হয়। ১৪ দিনের জন্য বন্ধ করা হয় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সিনেমা হল। তবে তারপরেও নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাতে বন্ধ হচ্ছিলনা জনসমাগম। বিশেষ করে ফুটপাত দখল করে হকাররা যেনতেনভাবেই দোকান বসিয়ে তাদের পণ্য বিক্রি করে যাচ্ছিল। অবশেষে র‌্যাব ও পুলিশের অভিযানের পরে বন্ধ হয়েছে ফুটপাতে জনসমাগম। আর ফাঁকা ফুটপাতের কারণে জনমনেও স্বস্তি দেখা দিয়েছে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রধান বঙ্গবন্ধু সড়কের ফাঁকা অবস্থা দেখা গেলেও ভিন্ন চিত্র দেখা যায় অন্যত্র। শহরের একটু বাইরে যেতেই দেখা যায় জনসমাগত। আর পাড়া মহল্লাতে আগেই মত জনসমাগম দেখা যায়। তাদের মধ্যে কোন ধরনের প্রভাব পড়েনি। এমনকি অনেকে এ ব্যাপারে অবগতও নন। আবার কেউ কেউ এ বিষয়টিকে হেলায় উড়িয়ে দিচ্ছে।

শহরের বাইরে বন্দর উপজেলার বাবু পাড়া, আমিন আবাসিক এলাকা, রুপালী, ছালেহনগর, শাহী মসজিদ, সোনাকান্দা সহ উজেলার বিভিন্ন এলাকায় লোকসমাগম আগের মত দেখা যায়। পাড়া মহল্লার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে জনসমাগত দেখা যাচ্ছে। কেউ সচেতনতার নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা করছেনা। সমাজের অধিকাংশ জনগণ তাদের খেয়াল খুশিমত দিনাতিপাত করছে। সচেতনতার কোন বালাই নেই। এছাড়া প্রবাসী ফেরত সদস্যদের অনেকে হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেনা। যদিও পুলিশ প্রশাসনের তৎপড়াতায় এখন অনেকে হোম কোয়ারান্টাইনের নিয়ম মানতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে এর মধ্যে অনেকে একাকী জীবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টাও করছেন বলে জানিয়েছেন নির্দিষ্ট সূত্র।

সচেতন মহল মনে করছেন, শহরের পাশাপাশি প্রত্যেকটি এলাকার পাড়া মহল্লায় প্রশাসনের টহলের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অথবা জনপ্রতিনিধিদের তত্ত্বাবধায়নে প্রত্যেক পাড়া মহল্লায় এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তা না হলে বেশ ভীতিকর পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে আমাদের সমাজের জন্য। কারণ প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ঠেকাতে জনসমাগম সহ সংশ্লিষ্টরা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলেও এই ছোয়াচে রোগ চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে। তাই আগে থেকেই যথেষ্ঠ পরিমাণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

নারায়ণগঞ্জের ফুটপাতসহ বিভিন্ন স্থানে জনসমাগম বন্ধ হচ্ছিলনা। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাত থেকে নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলীতে জনসমাগম বন্ধে অভিযানে নামে র‌্যাব। ফুটপাতে হকারদের বসতে নিষেধাজ্ঞা জারিসহ জনসমাগম না করতে মাইকিং করে র‌্যাব। পাশাপাশি পুলিশও বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে।

সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বন্ধ ও দেওভোগে শেখ রাসেল নগর পার্কে জনসমাগম না করতে নোটিশ সাটিয়ে দেয় সিটি করপোরেশন। শুক্রবার বিকেল থেকেও চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও সোনালী ব্যাংকের সামনে র‌্যাবের টহল দলকে অবস্থান নেয়াসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে টহল দিতে দেখা গেছে। যে কারণে শুক্রবার দিনব্যাপীই শহরের ফুটপাত একপ্রকার ফাঁকাই ছিল। আর ফাঁকা চলাফেরা করতে পেরে জনসাধারণও স্বস্তি প্রকাশ করেছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা যাতে বিরাজমান থাকে এমনটিই প্রত্যাশা নগরবাসীর। তবে এর পাশাপাশি জেলার সব ওয়ার্ডে ও ইউনিয়নে ব্যাপারে যেন পদক্ষেপ নেয়া হয় সেই দাবিও জানানো হয়েছে। কারণ পাড়া মহল্লাতে এর কোন প্রভাব পড়ছেনা। সেখানে জনসমাগত দেখা যাচ্ছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর