শহর ফাঁকা হলেও অলিগলিতে যেন উৎসবের আমেজ


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ০৯:২০ পিএম, ২৭ মার্চ ২০২০, শুক্রবার
শহর ফাঁকা হলেও অলিগলিতে যেন উৎসবের আমেজ

সরকারি অফিস আদালত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টস, শপিং মার্কেট, দোকান, টং সহ গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এর কারণ জরুরী প্রয়োজন ছাড়া যেন কেউ ঘর থেকে বের না হয়। প্রয়োজনে খাবারও পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এর পর থেকেই ফাঁকা হয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জ শহর ও মহাসড়কের রাস্তাগুলো। এক সুনশান নিরবতা চলছে।

কিন্তু মহাসড়ক ও প্রধান সড়কের এ দৃশ্য থাকলেও উল্টোচিত্র শহরের অলিগলি ও উপজেলা পর্যায়ের রাস্তা ও বাজারের। চায়ের দোকানে ভীড়, রাস্তার পাশে আড্ডা, ক্রিকেট ও ফুটবল নিয়ে যুবকদের খেলাধুলা দেখলে যেকেউ মনে করতে পারেন ঈদের ছুটি চলছে।

২৭ মার্চ শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ঘুরে দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি দোকান ছিল খোলা। বিশেষ করে মুদির দোকান, কনফেকশনারী, চায়ের দোকান, ডেকোরেটর, সেলুন ইত্যাদি। আর এসব দোকানের সামনে ছিল মানুষের ভীড়। তবে অলিগলিতে তেমন যানবাহন দেখা যায়নি। ফলে শিশু কিশোররা রাস্তাকেই খেলার মাঠ হিসেবে নিয়েছে। তাছাড়া অনেক তরুন যুবক অলিগলির রাস্তার পাশে বসে আড্ডা দিতেও দেখা গেছে। তাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশিই ছিল না সুস্থ্য সুরক্ষার মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের কোন প্রবণতা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দূর পাল্লার যানবাহন বন্ধ হওয়ার পর থেকেই ব্যস্ততম মহাসড়ক হয়েছে জনমানবহীন। যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষ জ্যামে বসে থেকে হাসফাস করতো সেখানে একটা প্রাণীও আজ নেই। এমনকি মহাসড়কের পাশে কোন দোকানও খোলা দেখা যায়নি। তবে কয়েক ঘন্টা পর পর একটি করে পণ্যবাহী ট্রাক দেখা যায়।

এদিকে যানবাহন না থাকায় মহাসড়কের পাশে পুলিশ বক্সেও কাউকে দেখা যায়নি। এমনকি ট্রাফিক পুলিশও ছিল না রাস্তায়। সবই যেন শূন্য পড়েছিল।

অন্যদিকে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপলোডকৃত ছবিতেও দেখা যায় উপজেলার রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, সোনারগাঁও, বন্দর ও সদরের বিভিন্ন এলাকায় বাজার বসেছে। সেখানে ছিল স্বাভাবিক দিনের মতোই ক্রেতাদের উপস্থিতি। একই অবস্থা ছিল ফতুল্লা, কাশিপুর, ইসদাইর রেললাইন, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে মানুষের ভীড় দেখা যায়।

সদর উপজেলার বাবুরাইল এলাকার বাসিন্দা নাদিম বলেন, সরকার সব কিছু বন্ধ করে দিয়েছে ঘরে থাকার জন্য কিন্তু অলিগলিতে আসলে দেখা যায় সেটা আসলে কেউ মানছে কিনা। সবাই যে যার মতো বসে আড্ডা দিচ্ছে গল্প করছে। ক্রিকেট খেলছে। চায়ের দোকানে বসে সবাই গান শুনচ্ছে।

তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে কোন অভিযান এখনও পর্যন্ত অলিগলিতে দেখা যায় না। দিনে সকালে ও সন্ধ্যায় দুইবার পুলিশ টহল দিলে হয়তো কমে আসতো।

ফয়েজ উদ্দিন বলেন, পুলিশ সেনাবাহিনী আর মোবাইল কোর্ট অভিযান শুধু করছে শহরের প্রধান সড়কে। কিন্তু অলিগলিতে ঢুকছে না। অলিগলিতে সব দোকানই খোলা। রাস্তার মোড়ে বখাটেদের আড্ডা সবই ঠিক আছে। চায়ের দোকানে ভীড় করছে। অলিগলিতে কোন প্রশাসনের পদক্ষেপ নেই।

রাকিব উদ্দিন বলেন, অবিলম্বে প্রশাসনকে পাড়া মহল্লায় অভিযান চালাতে হবে। যারাই অপ্রয়োজনে বের হয়েছে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এতো কিছু করেও সুফল আসবে না। কারণ প্রধান সড়কে না বের হলেও অলিগলিতেই সব থেকে বেশি বের হয় মানুষ। এতে করে করোনা ভাইরাসের সংক্রামন আরো বাড়তে পারে।

সদর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা নাহিদা বারিক জানান, পাড়া মহল্লায় অলিতে গলিতে যাতে জনসমাগম না ঘটে সেজন্য প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। কেউ শৃংখলা ভঙ্গ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর