লকডাউন এলাকার সামনে দিয়েই নদীপথে পারাপার


স্পেশাল করেসপনডেন্ট | প্রকাশিত: ১০:০১ পিএম, ০৪ এপ্রিল ২০২০, শনিবার
লকডাউন এলাকার সামনে দিয়েই নদীপথে পারাপার

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় ২৩নং ওয়ার্ডের রসুলবাগ এলাকা লকডাউন করেছে প্রশাসন। করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে শুক্রবার ৩ এপ্রিল রাতে বন্দর সেন্ট্রাল খেয়াঘাটে নৌ চলাচল বন্ধ করলেও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাতেই লকডাউনের এলাকার সামনের ঘাট দিয়ে চলাচল করছে ট্রলার। শনিবার দুপুরে বরফকল খেয়াঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে এমন দৃশ্য।

জানা গেছে, সম্প্রতি শিউলী ওরফে পুতুল নামে ৪৫ বছর বয়সী এক নারী প্রচন্ড জ্বর ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। ২৯ মার্চ তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেল সেখানকার ডাক্তার তাকে ঢাকায় পাঠানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু সেটা না করে বন্দরে তার বাসায় নিয়ে আসে। পরদিন গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেদিনই তাকে বন্দর নিয়ে এসে দাফন করা হয়। নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষা শেষে ২ এপ্রিল করোনার পজেটিভ রিপোর্ট ধরা পড়ে। এ ঘটনায় জানার পর রাতেই প্রশাসন ও পুলিশ সেখানে উপস্থিত হন। রাতেই বন্দরের রসুলবাগ এলাকার জামাল সোপ কারখানা থেকে রসুলবাগ মোড় পর্যন্ত সড়কটি লক ডাউন করে দেয় হয়। সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

নিহত নারীকে দাফনের আগে গোসল করানো নারীর বাসাও লকডাউন করেছে প্রশাসন। এছাড়া চিকিৎসা সেবা দেওয়ায় ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ড বয় সহ ৭জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার রসুলবাগ জামে মসজিদ ও বাগবাড়ি জামে মসজিদে জুমআর নামাজ হয়নি। পাইকপাড়া এলাকায় ওই নারী বাবার বাড়ির বাবা-মা সহ পরিবারের সকলকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বন্দর উপজেলার ইউএনও শুক্লা সরকার বলেন, ‘আক্রান্ত মৃত নারীকে গোসল করানো নারীর বাসাও লকডাউন করা হয়েছে। এছাড়া ওই নারীর সংস্পর্শে আসা সকলের তালিকা করা হচ্ছে। শনিবার সকলের নমুনা পরীক্ষা করা হবে।

সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলী এলাকার একটি বাড়ির ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাসহ ৯টি পরিবারের ২৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ৩ এপ্রিল শুক্রবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয় ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়। জানা যায়, এ বাড়ির একজন নারী যিনি বাড়িওয়ালা তিনি বন্দরে করোনার মৃত নারীকে গোসল করিয়েছিলেন।

এদিকে বন্দরের যেই এলাকাটি লকডাউন করা হয়েছে অর্থাৎ বন্দরের রসুলবাগ এলাকার রসুলবাগ মোড় থেকে জামাল সোপ কারখানা পর্যন্ত সড়কটিতে রয়েছে একরামপুর খেয়াঘাট। ঠিক তার বিপরীতেই শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে রয়েছে বরফকল খেয়াঘাট।

শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, করোনা আতঙ্কে ওই এলাকাটি লকডাউন করা হলেও বন্ধ হয়নি বরফকল খেয়াঘাট থেকে একরামপুর খেয়াঘাটে ট্রলার চলাচল। নদী পারাপার হওয়া এক যাত্রী বলেন, প্রশাসন লকডাউন করে দেয়ায় আমরা আকিজের পাশর্^বর্তী রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছি। কিন্তু তারপরেও মনে ভয় কাজ করছে।

বরফকল খেয়াঘাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি আবু সালেহ জানান, প্রশাসন থেকে তাদেরকে খেয়াঘাটে চলাচল বন্ধ রাখার বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি।

সদর মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, তিনি বিষয়টি দেখবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
newsnarayanganj-video
আজকের সবখবর